অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞায় সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইইউভুক্ত ২৭ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতা বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনিদের দাবি করা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের গড়ে তোলা এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।
অচলাবস্থা ভাঙার বার্তা
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। তার ভাষায়, উগ্রবাদ ও সহিংসতার পরিণতি থাকতে হবে।
![]()
এর আগের হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানে আপত্তির কারণে কয়েক মাস ধরে এই নিষেধাজ্ঞা আটকে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই বাধা সরে যায়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, পশ্চিম তীরে সহিংস ও উগ্র বসতি সম্প্রসারণে জড়িত প্রধান ইসরায়েলি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের ক্ষোভ
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও একপাক্ষিক বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নিজেদের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অধিকার রক্ষায় ইসরায়েল অটল থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণকে উৎসাহ দিয়ে আসছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে কট্টর ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর এই সম্প্রসারণ আরও বেড়ে যায়। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কারা থাকছে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়
ইইউ সূত্র জানিয়েছে, সাতজন ব্যক্তি বা সংগঠনকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে হামাসের আরও কয়েকজন প্রতিনিধির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তালিকায় থাকতে পারেন বসতি আন্দোলনের প্রভাবশালী নেত্রী দানিয়েলা ওয়েইস। যুক্তরাজ্য আগেই তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
এ ছাড়া বসতি সম্প্রসারণে সক্রিয় নাচালা, রেগাভিম, হাশোমের ইয়োশ ও আমানা নামের সংগঠনগুলোর নামও আলোচনায় রয়েছে। এসব সংগঠন পশ্চিম তীরে নতুন বসতি গড়ে তোলা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করছেন।
জাতিসংঘের তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের এক হাজার ৮০০-র বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় হতাহত, বাড়িঘর ও কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের কবর খুঁড়ে মরদেহ সরাতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিসংযোগ, গুলি ও হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















