যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক। এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রধান নির্বাহী যোগ দিচ্ছেন। তালিকায় রয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্কের মতো প্রভাবশালী কর্পোরেট নেতা।
চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এমন এক সময়ে এই বৈঠক হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি।
কর্পোরেট প্রতিনিধিদের বড় বহর

মার্কিন প্রতিনিধিদলে মোট ১৭ জন ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী থাকার কথা জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেটার প্রেসিডেন্ট ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গ, ভিসার রায়ান ম্যাকইনার্নি, ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোয়ার্জম্যান, কারগিলের ব্রায়ান সাইকস, সিটির জেন ফ্রেজার এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের ডেভিড সলোমন।
এছাড়া জিই অ্যারোস্পেস, মাস্টারকার্ড, ইলুমিনা ও কোহেরেন্টের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরাও এই সফরে অংশ নিচ্ছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, সফরটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এনভিডিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা
তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিত নাম হলো এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চিপ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে থাকা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান এই সফরে নেই। যদিও সম্প্রতি তিনি জানিয়েছিলেন, আমন্ত্রণ পেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তার জন্য সম্মানের হতো।
অন্যদিকে সিসকোর প্রধান চাক রবিনসকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমের কারণে তিনি সফরে যোগ দিতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য যুদ্ধের পর নতুন পরীক্ষা
ট্রাম্পের এই সফরকে দুই দেশের ভঙ্গুর বাণিজ্য সমঝোতার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক চাপে পড়ে। এক পর্যায়ে শুল্কের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি পৌঁছে যায়।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের শেষ বৈঠকের পর সাময়িকভাবে সেই শুল্কযুদ্ধ স্থগিত হয়। তবে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চিপ খাতে প্রতিযোগিতা এখনও দুই দেশের সম্পর্কে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ইরান ইস্যুও আলোচনায়
এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ট্রাম্প-শি বৈঠকের ওপর প্রভাব ফেলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প চীনের কাছে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা চাইতে পারেন।
চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা হওয়ায় এই বিষয়ে বেইজিংয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















