চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে শেষ মুহূর্তে যোগ দিয়েছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। এই সফরে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রধান নির্বাহী থাকার কথা ছিল। তবে হুয়াংয়ের নাম শুরুতে তালিকায় না থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প নিজেই।
হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমে জেনসেন হুয়াংকে সফরের তালিকায় না দেখানোর বিষয়টি সামনে আসার পর ট্রাম্প তাকে জরুরি ভিত্তিতে যোগ দিতে বলেন। পরে আলাস্কা থেকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমানে চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় তাকে দেখা যায়।
প্রযুক্তি ও কূটনীতির নতুন বার্তা
এই সফরকে শুধু রাজনৈতিক সফর নয়, বরং প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বড় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রযুক্তি যুদ্ধের মধ্যে এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এনভিডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জেনসেন হুয়াং প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এই সফরে অংশ নিয়েছেন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যকে সমর্থন করার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনে ব্যবসা পরিচালনায় নানা নিয়ন্ত্রক বাধা ও বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার মুখে থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এই সফরকে ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের আশা, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক ভবিষ্যৎ আলোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।
চিপ রপ্তানি নিয়ে নতুন আলোচনা
এনভিডিয়ার অত্যাধুনিক এইচ২০০ চিপ এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এই চিপ এখনো চীনে সরবরাহ করা হয়নি। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নিয়ন্ত্রক জটিলতা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট শর্তে চীনের কাছে এইচ২০০ চিপ বিক্রির অনুমোদন দিলেও তা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, চীন এই উন্নত প্রযুক্তি সামরিক খাতে ব্যবহার করতে পারে।
তবে প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি।
বড় প্রযুক্তি প্রধানদের উপস্থিতি
চীন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক ও অ্যাপলের প্রধান টিম কুকের নামও রয়েছে। ফলে এই সফরকে প্রযুক্তি কূটনীতির বড় মঞ্চ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের ফলাফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















