১১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
ভোজ্যতেলের প্যাকেট হবে নির্দিষ্ট মাপে, দাম তুলনা সহজ করতে নতুন নিয়ম ভারতের ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রথম রাজপথে শক্তি প্রদর্শন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলায় নতুন উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন-কাণ্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র বাংলাদেশ ব্যাংক কেন ডলার কিনছে? রিজার্ভ, বিনিময় হার ও অর্থনীতির ভারসাম্যের গল্প খুলনায় বিশেষ অভিযানে কসাই লিটনসহ গ্রেফতার ৫৯ রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত তিন কারখানায় ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, ঈদের ছুটি শেষে কাজে এসে চাকরি হারানোর অভিযোগ উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: কুয়েত-বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে মে মাসে গণপিটুনিতে ৩১ জন নিহত, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী-শিশু ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়ার লড়াই: শিরোপার ফাইনালে মায়া চওয়ালিন্সকা ও মিরা আন্দ্রেয়েভা

ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহ সত্য: জয়ের আশা ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়েছিল আমেরিকা

ভিয়েতনাম যুদ্ধকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও ভুল হিসাবের কারণে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক নথি বলছে, বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। যুদ্ধের মূল স্থপতিরাই শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই সংঘাত জেতা কঠিন, তবুও রাজনৈতিক চাপ, বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট এবং ক্ষমতার রাজনীতির কারণে তারা পিছু হটতে পারেননি।

ঐতিহাসিক বিতর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

খ্যাতনামা সাংবাদিক ডেভিড হ্যালবারস্টাম তাঁর আলোচিত গ্রন্থে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে আমেরিকার সবচেয়ে মেধাবী ও অভিজ্ঞ নেতারা এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন যার পরিণতি ছিল ভয়াবহ। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, তারা ভিয়েতনামের ইতিহাস, রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদী বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

Vietnam 40 years on: how a communist victory gave way to capitalist  corruption | Vietnam | The Guardian

তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত নথি ও আলোচনায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। গবেষকদের মতে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, লিন্ডন জনসন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারা ব্যক্তিগত আলোচনায় প্রায়ই যুদ্ধ নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করতেন। তারা বুঝতে পারছিলেন, উত্তর ভিয়েতনামের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শুধুমাত্র সামরিক শক্তি দিয়ে দমন করা সহজ হবে না।

জনসনের হতাশা

১৯৬৪ সালেই প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ আদৌ আমেরিকার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এক পর্যায়ে হতাশ কণ্ঠে বলেছিলেন, এই যুদ্ধে জয়ের কোনো স্পষ্ট পথ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।

১৯৬৫ সালে উত্তর ভিয়েতনামে ব্যাপক বোমা হামলা শুরুর সময়ও জনসন যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন, আবার জয়ের সম্ভাবনাও খুব কম। অথচ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে আরও বেশি সেনা ও সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে থাকে।

The Most Consequential Elections in History: Lyndon Johnson and the  Election of 1964

রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ফাঁদ

বিশ্লেষকদের মতে, কেনেডি ও জনসন উভয়েই এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আটকে গিয়েছিলেন, যেখানে যুদ্ধ থেকে সরে আসা মানে দুর্বলতা স্বীকার করা। তারা বারবার জনগণের সামনে দক্ষিণ ভিয়েতনামের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ফলে হঠাৎ করে নীতিগত পরিবর্তন করলে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকেই তারা তুলনামূলক সহজ পথ হিসেবে দেখেছিলেন। আশা ছিল, নতুন সামরিক কৌশল হয়তো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে।

যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য

Opinion | Vietnam Wasn't Just an American War - The New York Times

ভিয়েতনামে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি যত বাড়তে থাকে, উত্তর ভিয়েতনামও তত বেশি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একসময় সংঘাত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ১৯৭৩ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু ততদিনে প্রাণ হারান ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা এবং প্রায় ৩০ লাখ ভিয়েতনামি, যাদের বড় অংশই ছিলেন সাধারণ নাগরিক।

ইতিহাসবিদদের মতে, ভিয়েতনাম যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে শুধুমাত্র শক্তি, প্রযুক্তি বা রাজনৈতিক প্রচারণা দিয়ে কোনো যুদ্ধ জেতা যায় না। অনেক সময় নেতারা প্রকাশ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখান, ব্যক্তিগতভাবে তার উল্টো বাস্তবতাই তারা উপলব্ধি করেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোজ্যতেলের প্যাকেট হবে নির্দিষ্ট মাপে, দাম তুলনা সহজ করতে নতুন নিয়ম ভারতের

ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহ সত্য: জয়ের আশা ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়েছিল আমেরিকা

১০:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ভিয়েতনাম যুদ্ধকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও ভুল হিসাবের কারণে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক নথি বলছে, বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। যুদ্ধের মূল স্থপতিরাই শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই সংঘাত জেতা কঠিন, তবুও রাজনৈতিক চাপ, বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট এবং ক্ষমতার রাজনীতির কারণে তারা পিছু হটতে পারেননি।

ঐতিহাসিক বিতর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

খ্যাতনামা সাংবাদিক ডেভিড হ্যালবারস্টাম তাঁর আলোচিত গ্রন্থে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে আমেরিকার সবচেয়ে মেধাবী ও অভিজ্ঞ নেতারা এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন যার পরিণতি ছিল ভয়াবহ। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, তারা ভিয়েতনামের ইতিহাস, রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদী বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

Vietnam 40 years on: how a communist victory gave way to capitalist  corruption | Vietnam | The Guardian

তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত নথি ও আলোচনায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। গবেষকদের মতে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, লিন্ডন জনসন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারা ব্যক্তিগত আলোচনায় প্রায়ই যুদ্ধ নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করতেন। তারা বুঝতে পারছিলেন, উত্তর ভিয়েতনামের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শুধুমাত্র সামরিক শক্তি দিয়ে দমন করা সহজ হবে না।

জনসনের হতাশা

১৯৬৪ সালেই প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ আদৌ আমেরিকার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এক পর্যায়ে হতাশ কণ্ঠে বলেছিলেন, এই যুদ্ধে জয়ের কোনো স্পষ্ট পথ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।

১৯৬৫ সালে উত্তর ভিয়েতনামে ব্যাপক বোমা হামলা শুরুর সময়ও জনসন যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন, আবার জয়ের সম্ভাবনাও খুব কম। অথচ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে আরও বেশি সেনা ও সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে থাকে।

The Most Consequential Elections in History: Lyndon Johnson and the  Election of 1964

রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ফাঁদ

বিশ্লেষকদের মতে, কেনেডি ও জনসন উভয়েই এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আটকে গিয়েছিলেন, যেখানে যুদ্ধ থেকে সরে আসা মানে দুর্বলতা স্বীকার করা। তারা বারবার জনগণের সামনে দক্ষিণ ভিয়েতনামের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ফলে হঠাৎ করে নীতিগত পরিবর্তন করলে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকেই তারা তুলনামূলক সহজ পথ হিসেবে দেখেছিলেন। আশা ছিল, নতুন সামরিক কৌশল হয়তো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে।

যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য

Opinion | Vietnam Wasn't Just an American War - The New York Times

ভিয়েতনামে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি যত বাড়তে থাকে, উত্তর ভিয়েতনামও তত বেশি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একসময় সংঘাত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ১৯৭৩ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু ততদিনে প্রাণ হারান ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা এবং প্রায় ৩০ লাখ ভিয়েতনামি, যাদের বড় অংশই ছিলেন সাধারণ নাগরিক।

ইতিহাসবিদদের মতে, ভিয়েতনাম যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে শুধুমাত্র শক্তি, প্রযুক্তি বা রাজনৈতিক প্রচারণা দিয়ে কোনো যুদ্ধ জেতা যায় না। অনেক সময় নেতারা প্রকাশ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখান, ব্যক্তিগতভাবে তার উল্টো বাস্তবতাই তারা উপলব্ধি করেন।