পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ভোট-পরবর্তী হুমকি এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে গত কয়েক দিনে একাধিক পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও আবার অভিযুক্ত নেতাদের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
জেলা জুড়ে বাড়ছে চাপ
কৃষ্ণনগরে সরজিৎ বিশ্বাস নামে এক পঞ্চায়েত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কারখানা ও শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে। হুগলির কামারপুকুর পঞ্চায়েতের প্রধান রাজদীপ দে-ও একই ধরনের অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। যদিও অভিযুক্তরা দাবি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের বক্তব্য, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে।
হুগলির বৈদ্যবাটিতে রাজু পানরুই নামে এক কাউন্সিলরকে ভোটের সময় বিরোধী সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালদহের রতুয়া এলাকায় বিল্লাইমারি পঞ্চায়েত প্রধান স্মৃতিকণা মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী অনিল মণ্ডলের বিরুদ্ধে স্থানীয় সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তাঁদেরও আটক করা হয়েছে।
এছাড়া ই-রিকশা চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে এক শ্রমিক সংগঠন নেতাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় উপনির্বাচনের আগে সেখানকার পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপকেও আটক করা হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ
শুধু গ্রেপ্তার নয়, সাধারণ মানুষের ক্ষোভও এখন প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। হাওড়ার আমতায় একদল গ্রামবাসী, বিশেষ করে মহিলারা, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান অঞ্জলি দলুইয়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, আবাস যোজনা কিংবা গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজ পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হতো।
গ্রামবাসীদের দাবি, বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিক্ষোভকারীরা বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টাও করেন।
টাকা ফেরতের ঘটনায় চাঞ্চল্য
বীরভূমের নানুর এলাকায় আবার অন্য ছবি দেখা গেছে। সেখানে দুই তৃণমূল নেতা ভোট-পরবর্তী সময়ে বিরোধী সমর্থকদের কাছ থেকে নেওয়া জরিমানার টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্তত ১১ জন সেই টাকা ফিরে পেয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলা এই গ্রেপ্তারি অভিযান এবং জনরোষকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ছে। বিরোধীরা দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের পরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের নেতাকর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে।
উপনির্বাচনের মুখে এই পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মানুষের ক্ষোভ আগামী দিনে ভোটের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















