১১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
মাগুরায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু চীনে গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপে নতুন উদ্বেগ, ইউক্রেন যুদ্ধে ফিরছে রুশ সেনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অচলাবস্থা ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে আবার হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, শান্তি চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ চায় তেহরান দর্শনের পাশে স্ত্রী বিজয়লক্ষ্মী, কারাগারে দেখা করে জানালেন অটুট সমর্থনের বার্তা দিল্লিতে তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি, জ্বালানির দাম ও কর বৃদ্ধিতে চাপে ব্যবসায়ীরা ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য নরওয়েতে মোদিকে ‘সাপুড়ে’ কার্টুনে দেখানো ঘিরে বিতর্ক, বর্ণবাদী ইঙ্গিতের অভিযোগ ইউরোপে ফেরা কি সত্যিই ব্রিটেনকে বাঁচাবে? চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উত্তেজনা: সমঝোতার বদলে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইউরোপে ফেরা কি সত্যিই ব্রিটেনকে বাঁচাবে?

ব্রেক্সিটের ছয় বছর পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে আবারও পুরনো বিতর্ক ফিরে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়া ছিল কি ঐতিহাসিক ভুল? আর যদি হয়ে থাকে, তবে সমাধান কি আবার ইইউতে ফিরে যাওয়া? যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্ন নতুন করে ঘুরছে। কিন্তু সমস্যাটা এখানেই—অনেকেই এমনভাবে বিষয়টি তুলছেন যেন ইউরোপে ফিরে যাওয়াই ব্রিটেনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দুর্বল জনসেবা, কম উৎপাদনশীলতা বা রাজনৈতিক হতাশার একমাত্র ওষুধ। বাস্তবতা অনেক বেশি কঠিন এবং অস্বস্তিকর।

ব্রেক্সিট নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে। বিনিয়োগ কমেছে, ইউরোপে রপ্তানি করা ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা বেড়েছে। যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ব্রেক্সিটে রাজি করানো হয়েছিল—সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান, স্বাধীন বাণিজ্যিক শক্তি হিসেবে নতুন ব্রিটেন—তার বড় অংশই পূরণ হয়নি। ফলে জনমতের পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাম্প্রতিক জরিপগুলোও দেখাচ্ছে, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিংবা পুনরায় সদস্য হওয়ার পক্ষে কথা বলছেন।

কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। কারণ ব্রেক্সিট ব্যর্থ হয়েছে বলেই যে ইইউতে ফিরে যাওয়া সহজ বা কার্যকর সমাধান হবে, এমন নয়। রাজনীতি কখনও এত সরল সমীকরণে কাজ করে না।

প্রথমত, জনমতের ভেতরেই গভীর দ্বন্দ্ব রয়েছে। অনেকে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চান, কিন্তু একই সঙ্গে তারা আবার পূর্ণ সদস্যপদ, অবাধ অভিবাসন বা ইউরো মুদ্রা গ্রহণের মতো শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত নন। অর্থাৎ মানুষ আগের চেয়ে বেশি বাস্তববাদী হয়েছে। তারা বুঝতে শুরু করেছে যে ইউরোপের সঙ্গে দূরত্ব ক্ষতিকর, কিন্তু সেই উপলব্ধি মানেই পুরনো ব্যবস্থায় নিঃশর্ত প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা নয়।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাজ্য যদি কখনও আবার ইইউতে ফিরতে চায়, তবে আগের বিশেষ সুবিধাগুলো আর পাবে না। একসময় ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে থেকেও আলাদা ধরনের ছাড়-সুবিধা ভোগ করত। এখন সেই সুযোগ নেই। ইউরোপও বদলে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে ইইউ নিজেই বড় রকমের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় ব্রিটেনকে তারা আগের মতো শর্তে গ্রহণ করবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অন্য জায়গায়। ব্রিটেনের বহু সংকটের সঙ্গে ব্রেক্সিটের সরাসরি সম্পর্কই নেই। উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, অকার্যকর অবকাঠামো প্রকল্প, অতিরিক্ত ঋণনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, কল্যাণ ব্যয়ের চাপ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা—এসব সমস্যা বহু বছর ধরে তৈরি হয়েছে। এগুলোর কোনোটাই ব্রাসেলস থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। আবার ইউরোপে ফিরে গেলেই এগুলো জাদুর মতো দূর হয়ে যাবে না।

6 Reasons Why the EU Might Never Take the UK Back

এখানেই ব্রিটিশ রাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়। দেশটি প্রায়ই নিজের ব্যর্থতার কারণ বাইরের কোথাও খোঁজে। একসময় ইউরোপকে দোষ দিয়ে ব্রেক্সিটের পক্ষে জনমত তৈরি করা হয়েছিল। এখন উল্টোভাবে ইউরোপকে আবার ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে। দুই ক্ষেত্রেই মূল সমস্যা একই—নিজেদের কাঠামোগত দুর্বলতার মুখোমুখি হওয়ার অনীহা।

বাস্তবতা হলো, ব্রিটেনকে নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়তে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেই অর্থনীতি বদলে যায় না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিক দক্ষতা, নীতিগত স্থিরতা এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা লাগে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা। ব্রেক্সিটের পর দেশটি এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভক্ত ছিল। সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। এমন অবস্থায় আবার ইউরোপ প্রশ্নকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা মানে পুরনো বিভাজনকে নতুন করে উসকে দেওয়া। যদি কখনও পুনরায় সদস্যপদের প্রশ্ন ওঠেও, সেটি এমন একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকারের অধীনে হতে হবে, যারা জনগণের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জন করতে পারবে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অবশ্যই ব্রিটেনের স্বার্থে। নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি কিংবা কূটনীতিতে ইউরোপীয় অংশীদারদের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সহযোগিতা আর সদস্যপদ এক জিনিস নয়। আর সদস্যপদও কোনো জাদুকাঠি নয়, যা দেশের গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো মুহূর্তে দূর করে দেবে।

ব্রিটেনের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ এখনো একই আছে: কীভাবে একটি কার্যকর রাষ্ট্র গড়া যায়, কীভাবে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, কীভাবে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়। ইউরোপ নিয়ে নতুন আবেগী বিতর্ক সেই কঠিন কাজগুলোর বিকল্প হতে পারে না। বরং আবারও যদি পুরো জাতীয় আলোচনাকে একই প্রশ্নের চারপাশে ঘোরানো হয়, তাহলে ব্রিটেন হয়তো আরও একটি দশক নষ্ট করবে—সমস্যার সমাধান না করে, শুধু দিক বদলাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

ইউরোপে ফেরা কি সত্যিই ব্রিটেনকে বাঁচাবে?

১০:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ব্রেক্সিটের ছয় বছর পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে আবারও পুরনো বিতর্ক ফিরে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়া ছিল কি ঐতিহাসিক ভুল? আর যদি হয়ে থাকে, তবে সমাধান কি আবার ইইউতে ফিরে যাওয়া? যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্ন নতুন করে ঘুরছে। কিন্তু সমস্যাটা এখানেই—অনেকেই এমনভাবে বিষয়টি তুলছেন যেন ইউরোপে ফিরে যাওয়াই ব্রিটেনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দুর্বল জনসেবা, কম উৎপাদনশীলতা বা রাজনৈতিক হতাশার একমাত্র ওষুধ। বাস্তবতা অনেক বেশি কঠিন এবং অস্বস্তিকর।

ব্রেক্সিট নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে। বিনিয়োগ কমেছে, ইউরোপে রপ্তানি করা ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা বেড়েছে। যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ব্রেক্সিটে রাজি করানো হয়েছিল—সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান, স্বাধীন বাণিজ্যিক শক্তি হিসেবে নতুন ব্রিটেন—তার বড় অংশই পূরণ হয়নি। ফলে জনমতের পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাম্প্রতিক জরিপগুলোও দেখাচ্ছে, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিংবা পুনরায় সদস্য হওয়ার পক্ষে কথা বলছেন।

কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। কারণ ব্রেক্সিট ব্যর্থ হয়েছে বলেই যে ইইউতে ফিরে যাওয়া সহজ বা কার্যকর সমাধান হবে, এমন নয়। রাজনীতি কখনও এত সরল সমীকরণে কাজ করে না।

প্রথমত, জনমতের ভেতরেই গভীর দ্বন্দ্ব রয়েছে। অনেকে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চান, কিন্তু একই সঙ্গে তারা আবার পূর্ণ সদস্যপদ, অবাধ অভিবাসন বা ইউরো মুদ্রা গ্রহণের মতো শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত নন। অর্থাৎ মানুষ আগের চেয়ে বেশি বাস্তববাদী হয়েছে। তারা বুঝতে শুরু করেছে যে ইউরোপের সঙ্গে দূরত্ব ক্ষতিকর, কিন্তু সেই উপলব্ধি মানেই পুরনো ব্যবস্থায় নিঃশর্ত প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা নয়।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাজ্য যদি কখনও আবার ইইউতে ফিরতে চায়, তবে আগের বিশেষ সুবিধাগুলো আর পাবে না। একসময় ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে থেকেও আলাদা ধরনের ছাড়-সুবিধা ভোগ করত। এখন সেই সুযোগ নেই। ইউরোপও বদলে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে ইইউ নিজেই বড় রকমের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় ব্রিটেনকে তারা আগের মতো শর্তে গ্রহণ করবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অন্য জায়গায়। ব্রিটেনের বহু সংকটের সঙ্গে ব্রেক্সিটের সরাসরি সম্পর্কই নেই। উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, অকার্যকর অবকাঠামো প্রকল্প, অতিরিক্ত ঋণনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, কল্যাণ ব্যয়ের চাপ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা—এসব সমস্যা বহু বছর ধরে তৈরি হয়েছে। এগুলোর কোনোটাই ব্রাসেলস থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। আবার ইউরোপে ফিরে গেলেই এগুলো জাদুর মতো দূর হয়ে যাবে না।

6 Reasons Why the EU Might Never Take the UK Back

এখানেই ব্রিটিশ রাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়। দেশটি প্রায়ই নিজের ব্যর্থতার কারণ বাইরের কোথাও খোঁজে। একসময় ইউরোপকে দোষ দিয়ে ব্রেক্সিটের পক্ষে জনমত তৈরি করা হয়েছিল। এখন উল্টোভাবে ইউরোপকে আবার ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে। দুই ক্ষেত্রেই মূল সমস্যা একই—নিজেদের কাঠামোগত দুর্বলতার মুখোমুখি হওয়ার অনীহা।

বাস্তবতা হলো, ব্রিটেনকে নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়তে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেই অর্থনীতি বদলে যায় না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিক দক্ষতা, নীতিগত স্থিরতা এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা লাগে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা। ব্রেক্সিটের পর দেশটি এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভক্ত ছিল। সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। এমন অবস্থায় আবার ইউরোপ প্রশ্নকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা মানে পুরনো বিভাজনকে নতুন করে উসকে দেওয়া। যদি কখনও পুনরায় সদস্যপদের প্রশ্ন ওঠেও, সেটি এমন একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকারের অধীনে হতে হবে, যারা জনগণের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জন করতে পারবে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অবশ্যই ব্রিটেনের স্বার্থে। নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি কিংবা কূটনীতিতে ইউরোপীয় অংশীদারদের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সহযোগিতা আর সদস্যপদ এক জিনিস নয়। আর সদস্যপদও কোনো জাদুকাঠি নয়, যা দেশের গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো মুহূর্তে দূর করে দেবে।

ব্রিটেনের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ এখনো একই আছে: কীভাবে একটি কার্যকর রাষ্ট্র গড়া যায়, কীভাবে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, কীভাবে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়। ইউরোপ নিয়ে নতুন আবেগী বিতর্ক সেই কঠিন কাজগুলোর বিকল্প হতে পারে না। বরং আবারও যদি পুরো জাতীয় আলোচনাকে একই প্রশ্নের চারপাশে ঘোরানো হয়, তাহলে ব্রিটেন হয়তো আরও একটি দশক নষ্ট করবে—সমস্যার সমাধান না করে, শুধু দিক বদলাবে।