০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

নরওয়েতে মোদিকে ‘সাপুড়ে’ কার্টুনে দেখানো ঘিরে বিতর্ক, বর্ণবাদী ইঙ্গিতের অভিযোগ

নরওয়ে সফরকে ঘিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির একটি প্রভাবশালী পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কার্টুনে মোদিকে ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে পুরোনো বর্ণবাদী ও অবমাননাকর ধারণার পুনরাবৃত্তি বলে অভিযোগ তুলেছেন।

কার্টুন ঘিরে ক্ষোভ

কার্টুনটিতে নরেন্দ্র মোদিকে একজন সাপুড়ে হিসেবে দেখানো হয়। সেখানে সাপের পরিবর্তে জ্বালানি ভরার পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, পশ্চিমা বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে ‘সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আধুনিক ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে যায় না।

অনেকেই বলছেন, এই ধরনের চিত্রায়ন শুধু রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি ও জনগণকে ছোট করে দেখানোর পুরোনো মানসিকতার প্রকাশ। সামাজিক মাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী একে সরাসরি বর্ণবাদী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

Colonial mindset'? Norway newspaper's 'snake charmer' racist cartoon of Modi  triggers backlash - World News | The Financial Express

পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে

ভারতকে ‘সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে দেখানোর বিষয়টি নতুন নয়। অতীতেও ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম একই ধরনের প্রতীক ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। কয়েক বছর আগে একটি স্প্যানিশ পত্রিকাও ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান বোঝাতে সাপুড়ের ছবি ব্যবহার করেছিল, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

নরেন্দ্র মোদিও অতীতে একাধিকবার এ ধরনের ধারণার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ভারত এখন আর ‘সাপুড়ের দেশ’ নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি “মাউসের জাদু” দিয়ে ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেছিলেন।

নরওয়ে সফরে আরেক বিতর্ক

এই কার্টুন প্রকাশের সময়ই নরওয়েতে মোদির সফর ঘিরে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করার সুযোগ না পাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি অনলাইনে বড় আলোচনায় পরিণত হয়।

সাংবাদিক দাবি করেন, বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন গণমাধ্যমের দেশের প্রতিনিধি হয়েও তিনি প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনীতিক ভারতের গণতন্ত্র, ইতিহাস ও বিশ্বাসযোগ্যতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন।

Partnerships of Hope: Norway stands with India

বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে নরওয়ে বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান আরও নিচে নেমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের মাঝেই উত্তেজনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই কার্টুন ও সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। তবে এটি পশ্চিমা গণমাধ্যমে ভারতকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেই পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

অনেক ভারতীয় নাগরিক মনে করছেন, বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের বর্তমান অবস্থানকে উপেক্ষা করে এখনও কিছু পশ্চিমা মহল পুরোনো ধ্যানধারণা ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে অস্বস্তি তৈরি করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

নরওয়েতে মোদিকে ‘সাপুড়ে’ কার্টুনে দেখানো ঘিরে বিতর্ক, বর্ণবাদী ইঙ্গিতের অভিযোগ

১০:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নরওয়ে সফরকে ঘিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির একটি প্রভাবশালী পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কার্টুনে মোদিকে ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে পুরোনো বর্ণবাদী ও অবমাননাকর ধারণার পুনরাবৃত্তি বলে অভিযোগ তুলেছেন।

কার্টুন ঘিরে ক্ষোভ

কার্টুনটিতে নরেন্দ্র মোদিকে একজন সাপুড়ে হিসেবে দেখানো হয়। সেখানে সাপের পরিবর্তে জ্বালানি ভরার পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, পশ্চিমা বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে ‘সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আধুনিক ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে যায় না।

অনেকেই বলছেন, এই ধরনের চিত্রায়ন শুধু রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি ও জনগণকে ছোট করে দেখানোর পুরোনো মানসিকতার প্রকাশ। সামাজিক মাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী একে সরাসরি বর্ণবাদী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

Colonial mindset'? Norway newspaper's 'snake charmer' racist cartoon of Modi  triggers backlash - World News | The Financial Express

পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে

ভারতকে ‘সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে দেখানোর বিষয়টি নতুন নয়। অতীতেও ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম একই ধরনের প্রতীক ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। কয়েক বছর আগে একটি স্প্যানিশ পত্রিকাও ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান বোঝাতে সাপুড়ের ছবি ব্যবহার করেছিল, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

নরেন্দ্র মোদিও অতীতে একাধিকবার এ ধরনের ধারণার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ভারত এখন আর ‘সাপুড়ের দেশ’ নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি “মাউসের জাদু” দিয়ে ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেছিলেন।

নরওয়ে সফরে আরেক বিতর্ক

এই কার্টুন প্রকাশের সময়ই নরওয়েতে মোদির সফর ঘিরে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করার সুযোগ না পাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি অনলাইনে বড় আলোচনায় পরিণত হয়।

সাংবাদিক দাবি করেন, বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন গণমাধ্যমের দেশের প্রতিনিধি হয়েও তিনি প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনীতিক ভারতের গণতন্ত্র, ইতিহাস ও বিশ্বাসযোগ্যতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন।

Partnerships of Hope: Norway stands with India

বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে নরওয়ে বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান আরও নিচে নেমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের মাঝেই উত্তেজনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই কার্টুন ও সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। তবে এটি পশ্চিমা গণমাধ্যমে ভারতকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেই পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

অনেক ভারতীয় নাগরিক মনে করছেন, বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের বর্তমান অবস্থানকে উপেক্ষা করে এখনও কিছু পশ্চিমা মহল পুরোনো ধ্যানধারণা ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে অস্বস্তি তৈরি করছে।