০১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
পাকিস্তানে তুলা সংকট তীব্র, আমদানিতে ব্যয় হতে পারে ১২০ কোটি ডলার পাকিস্তানে সাপ্তাহিক মূল্যস্ফীতি ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, চাপে সাধারণ মানুষ মমিনা ইকবালকে হুমকির অভিযোগে কড়া বার্তা মরিয়ম নওয়াজের, ‘রাজনৈতিক চাপ সহ্য করা হবে না’ ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে পিটিআইর বিক্ষোভ, উত্তপ্ত লাহোর-পেশোয়ার ঈদে পশুর বর্জ্য রাস্তায় ফেললে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা, কঠোর হচ্ছে পাঞ্জাব সরকার পাকিস্তানের আবাসন কেলেঙ্কারির মূল হোতা গ্রেপ্তার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধরা পড়লেন কাসিম খান পাকিস্তানে কমল জ্বালানির দাম, পেট্রোল ও ডিজেলের লিটারে ৬ রুপি হ্রাস চীন সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ, আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, লাতিন আমেরিকাজুড়ে উদ্বেগ ও প্রতিরোধের সুর ইসরায়েলি ‘ছায়া যুদ্ধ’ নিয়ে ফ্রান্সে তোলপাড়, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড নীতিতে বড় পরিবর্তন, চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-ওয়ানবি কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে নতুন কড়াকড়ি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা নতুন একটি নীতিগত নির্দেশনায় জানিয়েছে, অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ আর আগের মতো সহজ থাকবে না। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।

নতুন এই অবস্থান সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতীয় এইচ-ওয়ানবি কর্মী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন এবং গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য বিষয়টি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

নতুন নীতিতে কী বলা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিরা মূলত নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সেখানে যান। তাই স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হলে তাদের নিজ দেশের কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

H-1B visa rule change may send 7 lakh Indian techies home, will not spare  those awaiting green card extension – Firstpost

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আবেদনকারীদের প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। শুধুমাত্র বৈধ অবস্থানে থাকা বা নিয়ম মেনে কাজ করার বিষয়টি আর যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবেদনকারীর পারিবারিক সম্পর্ক, কর পরিশোধের ইতিহাস, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবনকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

ভারতীয় পেশাজীবীদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা

যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী এইচ-ওয়ানবি ভিসায় কাজ করছেন। এতদিন অনেকেই মনে করতেন, বৈধভাবে চাকরি ও কর পরিশোধ চালিয়ে গেলে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া সহজেই এগোবে। তবে নতুন নির্দেশনার পর সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে।

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এখন আবেদনকারীদের শুধু যোগ্য হলেই হবে না, বরং তাদের দেখাতে হবে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জন্যও বাড়তি ঝুঁকি

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও নতুন নীতি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এফ-ওয়ান ভিসাধারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হতে পারে। কারণ এই ভিসা মূলত পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফেরার শর্তে দেওয়া হয়।

Lawmakers in US immigration summit address Green Card backlog, H-1B visa  issues - India Today

ফলে পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করলে তা নিয়ে বাড়তি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই আবেদন করা সহজ পথ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন সেটি আগের মতো নিরাপদ থাকছে না।

দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি

তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা ইতিবাচক দিকও দেখছেন অনেকে। যারা এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাপন, চাকরি ও সমাজে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো এখন আবেদনকারীদের পক্ষে শক্ত যুক্তি হয়ে উঠতে পারে। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড আবেদনকে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং নিজের অবস্থান প্রমাণের লড়াই হিসেবেই দেখতে হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে তুলা সংকট তীব্র, আমদানিতে ব্যয় হতে পারে ১২০ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড নীতিতে বড় পরিবর্তন, চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-ওয়ানবি কর্মীরা

১১:৫৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে নতুন কড়াকড়ি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা নতুন একটি নীতিগত নির্দেশনায় জানিয়েছে, অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ আর আগের মতো সহজ থাকবে না। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।

নতুন এই অবস্থান সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতীয় এইচ-ওয়ানবি কর্মী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন এবং গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য বিষয়টি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

নতুন নীতিতে কী বলা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিরা মূলত নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সেখানে যান। তাই স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হলে তাদের নিজ দেশের কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

H-1B visa rule change may send 7 lakh Indian techies home, will not spare  those awaiting green card extension – Firstpost

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আবেদনকারীদের প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। শুধুমাত্র বৈধ অবস্থানে থাকা বা নিয়ম মেনে কাজ করার বিষয়টি আর যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবেদনকারীর পারিবারিক সম্পর্ক, কর পরিশোধের ইতিহাস, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবনকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

ভারতীয় পেশাজীবীদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা

যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী এইচ-ওয়ানবি ভিসায় কাজ করছেন। এতদিন অনেকেই মনে করতেন, বৈধভাবে চাকরি ও কর পরিশোধ চালিয়ে গেলে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া সহজেই এগোবে। তবে নতুন নির্দেশনার পর সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে।

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এখন আবেদনকারীদের শুধু যোগ্য হলেই হবে না, বরং তাদের দেখাতে হবে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জন্যও বাড়তি ঝুঁকি

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও নতুন নীতি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এফ-ওয়ান ভিসাধারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হতে পারে। কারণ এই ভিসা মূলত পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফেরার শর্তে দেওয়া হয়।

Lawmakers in US immigration summit address Green Card backlog, H-1B visa  issues - India Today

ফলে পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করলে তা নিয়ে বাড়তি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই আবেদন করা সহজ পথ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন সেটি আগের মতো নিরাপদ থাকছে না।

দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি

তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা ইতিবাচক দিকও দেখছেন অনেকে। যারা এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাপন, চাকরি ও সমাজে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো এখন আবেদনকারীদের পক্ষে শক্ত যুক্তি হয়ে উঠতে পারে। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড আবেদনকে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং নিজের অবস্থান প্রমাণের লড়াই হিসেবেই দেখতে হতে পারে।