কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ ও কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকাজুড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের একাধিক পদক্ষেপকে অনেক দেশ শুধু কিউবার বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে বিভিন্ন দেশের নেতারা কিউবার প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ সতর্ক অবস্থানও নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার অভিযোগ আনে। সেই ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছিল। একই সময়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিউবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘটনাও নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ কেবল রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং কিউবাকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার কৌশল।

কিউবার কড়া প্রতিক্রিয়া
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, সামরিক আগ্রাসনের পরিবেশ তৈরির জন্য পুরোনো ঘটনাকে সামনে আনা হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, কিউবার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে দেশ নিজেদের রক্ষা করবে।
ব্রাজিল ও মেক্সিকোর অবস্থান
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা কিউবার ওপর চাপের সমালোচনা করে বলেছেন, অন্য দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা বিপজ্জনক। ব্রাজিল কিউবাকে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে মেক্সিকোও কিউবার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, কিউবার জনগণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপের কারণে মেক্সিকোও সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখছে।

ভেনেজুয়েলা ও নিকারাগুয়ার উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কিছুটা নীরব অবস্থান নিয়েছে। তবুও আঞ্চলিক জোটগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা সবচেয়ে কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ওয়াশিংটন কিউবার রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে দিতে চায় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
আর্জেন্টিনার ভিন্ন সুর
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, কিউবা ও ভেনেজুয়েলায় স্বাধীনতার নতুন ধারা পৌঁছানো উচিত। তার সরকার কিউবার প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং হাভানায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগও বন্ধ রেখেছে।
পুরো অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ
লাতিন আমেরিকার অনেক নেতা মনে করছেন, কিউবাকে ঘিরে বাড়তি চাপ শুধু একটি দেশের সংকট নয়। বরং এটি পুরো অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন হয়ে উঠছে। ফলে কূটনৈতিকভাবে কিউবার পাশে দাঁড়ানোর প্রবণতা বাড়লেও, সরাসরি সংঘাতে জড়াতে বেশিরভাগ দেশই এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















