ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি রহস্যময় ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ছবি এবং ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি এখন তদন্ত করছে ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে মার্সেই, তুলুজ ও রুবেইক্স শহরের কয়েকজন বামপন্থি মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়। অভিযোগের তীর একটি তথাকথিত তথ্যযুদ্ধভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের দিকে, যার নাম ‘ব্ল্যাককোর’। প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, উগ্রবাদ ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করেও প্রচারণা চালানো হয়েছে। এসব পোস্ট ও ছবি দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা হয় ভুয়া ফেসবুক প্রোফাইল ও অনলাইন বট নেটওয়ার্ক।
বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থানের জন্য পরিচিত বামপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
রহস্য ঘেরা প্রতিষ্ঠান
তদন্তকারীরা বলছেন, ‘ব্ল্যাককোর’ নামে কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের ওয়েবসাইটও হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সঙ্গে কয়েকটি ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সাবেক সাইবার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সম্পর্ক থাকতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা ঘরানার ছায়া
![]()
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলভিত্তিক কিছু বেসরকারি গোয়েন্দা ও সাইবার প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বারবার আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশে গোপন নজরদারি, তথ্য ফাঁস ও ডিজিটাল প্রচারণার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ফ্রান্সের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে কড়া অবস্থান নেওয়া ফরাসি বামপন্থিদের টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফরাসি সরকারের কঠোর অবস্থান
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বিদেশি সাইবার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে নির্বাচনী লড়াই এখন শুধু মাঠের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার কৌশল এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠছে। আর সেই কারণেই এমন ঘটনার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















