পাকিস্তানের বহুল আলোচিত পাম ভিস্তা হাউজিং কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত মুহাম্মদ কাসিম খানকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও ইন্টারপোলের সহায়তায় আবুধাবিতে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। এখন তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো বা ন্যাবের তদন্তে বলা হয়েছে, এই আবাসন প্রকল্পের নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া প্লট বিক্রি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অবৈধ বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অভিযানে গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের ইন্টারপোল শাখা জানিয়েছে, কাসিম খানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ জারি ছিল। সেই সূত্র ধরেই তাকে আবুধাবিতে গ্রেপ্তার করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত নথি চেয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে পালিয়ে থাকা আর্থিক অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় এখন দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে এমন অভিযানে সাফল্য বাড়ছে।
শত শত মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, মাত্র ২০৫ কানাল জমির বিপরীতে অতিরিক্ত প্লট বিক্রি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে অর্থ নেওয়া হয়। এতে অন্তত ২৯৫ জন মানুষ তাদের জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যাব কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও বিচার দাবিতে অবস্থান করছিলেন। তারা দ্রুত অর্থ ফেরত ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।

এর আগে এই প্রকল্পের আরও দুই পরিচালক মাহমুদ তারিক ও আমের আজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে কাসিম খান বিদেশে থেকেই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পাঞ্জাবে আবাসন প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান
পাকিস্তানের পাঞ্জাবজুড়ে ভুয়া আবাসন প্রকল্প ও বিনিয়োগ প্রতারণার বিরুদ্ধে বর্তমানে বড় ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাম ভিস্তা কেলেঙ্কারি সেই বৃহত্তর অভিযানেরই একটি অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবসায় নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে এমন প্রতারণা বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















