ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী দখলকৃত স্টারোবিলস্ক শহরের একটি শিক্ষার্থী আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মস্কো। আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার মস্কোয় ক্রেমলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, হামলার ঘটনায় রাশিয়া প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেবে। তিনি রুশ সামরিক বাহিনীকে পাল্টা জবাবের পরিকল্পনা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিন দফায় ড্রোন হামলার দাবি
পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন এই হামলায় মোট ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তিন ধাপে পরিচালিত হামলায় ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রুশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ভবনটিতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিল এবং আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না।

তিনি বলেন, ভবনটির আশেপাশে সামরিক ঘাঁটি, গোয়েন্দা কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনা ছিল না। ফলে এটি ভুলবশত আঘাত হেনেছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউক্রেনের ভিন্ন দাবি
অন্যদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা স্টারোবিলস্কে রাশিয়ার অভিজাত ‘রুবিকন’ ড্রোন ইউনিটের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তবে রাশিয়া যে ভবনটিকে শিক্ষার্থী আবাসিক ভবন হিসেবে দাবি করছে, সেটিই লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি কিয়েভ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষই বিভিন্ন হামলার ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলে আসছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ
লুহানস্ক অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুতিনের পাল্টা হামলার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আহতদের কয়েকজনের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় দেখানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















