০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
ভাঙা হৃদয়ের আগুনে গড়া শাকিরা: প্রেম, বেদনা আর বিশ্বমঞ্চের উন্মাতাল রাণীর প্রত্যাবর্তন সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বিভাগজুড়ে আতঙ্ক রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পরপরই শুরু হতে পারে-আইনমন্ত্রী ফোনে ডুবে থাকা তরুণদের নিয়ে ব্রিটেনের উদ্বেগ, ‘কর্মহীন প্রজন্ম’ অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি মোনালিসা কীভাবে ‘ভরাট গড়ন’-এর প্রতি সম্মান শেখাতে পারে পশ্চিমকে বাঁচাতে পারে নতুন বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা স্পেসএক্সের ছায়ায় শেয়ারবাজার: কেন কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে যাবে, বেশিরভাগ হারিয়ে যাবে এ টেল অফ টু ভিজিট পরকীয়ার জেরে সাতক্ষীরায় গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ‘মব’ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের

তাইওয়ানে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র, কারণ ইরান যুদ্ধ

ইরান যুদ্ধের কারণে নিজেদের সামরিক মজুত নিশ্চিত করতে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওয়াশিংটন-বেইজিং-তাইপের জটিল সম্পর্ক।

মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে হাং কাও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চাইছে যে ইরান অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে পরে আবার বিদেশি সামরিক বিক্রি কার্যক্রম চালু হবে বলেও জানান তিনি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ত্র সরবরাহের অগ্রাধিকার বদলানো জরুরি। সেই প্রভাব পড়েছে তাইওয়ানের জন্য পরিকল্পিত অস্ত্র চুক্তির ওপরও।

Acting US Navy secretary: US pauses $14 billion Taiwan arms sale over Iran  war | The Jerusalem Post

শুনানিতে হাং কাও “এপিক ফিউরি” নামে পরিচিত সামরিক অভিযানের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অস্ত্রের ঘাটতি নেই, তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কোনো পরিবর্তন এনেছে—এমন আনুষ্ঠানিক তথ্য তারা এখনো পায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তাইপের মধ্যেও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে চীনের কাছে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও বহুবার দিয়েছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকেই অস্ত্র বিক্রি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। ট্রাম্প এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না দেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

Trump says he discussed Taiwan arms sales with Xi Jinping, decision soon |  The Business Standard

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি শুধু সামরিক বিষয় নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এই স্থগিতাদেশ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

অস্ত্র প্যাকেজে কী ছিল

প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল। বিশেষ করে পিএসি-৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

US suspends $14 billion arms sale to Taiwan over war with Iran « Prizren  Post

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙা হৃদয়ের আগুনে গড়া শাকিরা: প্রেম, বেদনা আর বিশ্বমঞ্চের উন্মাতাল রাণীর প্রত্যাবর্তন

তাইওয়ানে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র, কারণ ইরান যুদ্ধ

১২:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের কারণে নিজেদের সামরিক মজুত নিশ্চিত করতে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওয়াশিংটন-বেইজিং-তাইপের জটিল সম্পর্ক।

মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে হাং কাও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চাইছে যে ইরান অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে পরে আবার বিদেশি সামরিক বিক্রি কার্যক্রম চালু হবে বলেও জানান তিনি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ত্র সরবরাহের অগ্রাধিকার বদলানো জরুরি। সেই প্রভাব পড়েছে তাইওয়ানের জন্য পরিকল্পিত অস্ত্র চুক্তির ওপরও।

Acting US Navy secretary: US pauses $14 billion Taiwan arms sale over Iran  war | The Jerusalem Post

শুনানিতে হাং কাও “এপিক ফিউরি” নামে পরিচিত সামরিক অভিযানের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অস্ত্রের ঘাটতি নেই, তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কোনো পরিবর্তন এনেছে—এমন আনুষ্ঠানিক তথ্য তারা এখনো পায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তাইপের মধ্যেও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে চীনের কাছে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও বহুবার দিয়েছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকেই অস্ত্র বিক্রি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। ট্রাম্প এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না দেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

Trump says he discussed Taiwan arms sales with Xi Jinping, decision soon |  The Business Standard

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি শুধু সামরিক বিষয় নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এই স্থগিতাদেশ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

অস্ত্র প্যাকেজে কী ছিল

প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল। বিশেষ করে পিএসি-৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

US suspends $14 billion arms sale to Taiwan over war with Iran « Prizren  Post