জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে পাকা আমের সুবাস। জেলার বিস্তীর্ণ সবুজ বাগানে এখন ঝুলছে নানা জাতের আম, আর কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক প্রয়োগ, পাহারা ও বাজারজাতের প্রস্তুতিতে।
কৃষি বিভাগ, চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মে মাসের শেষ দিক থেকেই বাজারে উঠতে শুরু করবে মৌসুমের প্রথম দিকের আম। শুরুতে গুটি ও গোপালভোগ আম বাজারে আসবে। এরপর ধাপে ধাপে খিরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪ ও আশ্বিনা জাতের আম সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু হবে।
উৎপাদনের বড় লক্ষ্য
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলার হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ী লাভবান হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ঝড়-বৃষ্টির ক্ষতি কাটিয়ে আশাবাদ
চাষিরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। তবে মাঝেমধ্যে ঝড়, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় আম ঝরে পড়েছে। তারপরও গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আম রয়েছে এবং সামগ্রিক অবস্থা সন্তোষজনক।
জাদুপুর এলাকার আমচাষি আজিজুল বলেন, এ বছর গাছে অনেক মুকুল এসেছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে কিছু ক্ষতি হলেও সামগ্রিকভাবে আমের অবস্থা ভালো।
নাশিপুর এলাকার চাষি সেরাজুল ইসলাম বলেন, গাছে থাকা আমের অবস্থা বেশ ভালো। কিছু আম ঝরে পড়লেও এখনও ফলন নিয়ে আশা রয়েছে। আর বড় ধরনের ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হলে ভালো উৎপাদন হবে। তিনি জানান, আরও সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই প্রথম দফার আম সংগ্রহ শুরু হতে পারে।
উৎপাদন খরচ বেড়েছে
এ বছর কীটনাশক, সার, শ্রমিক ও সেচ ব্যয়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আম চাষের খরচও বেড়েছে। তবু বাজারদর ভালো থাকলে লাভের আশা করছেন চাষিরা।
আমচাষি মিঠু জানান, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে এবং আম প্রায় পরিপক্ব অবস্থায় রয়েছে। ঈদের পর বড় পরিসরে বাজারজাত শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন।
অপর এক বাগান মালিক আবদুল রকিব বলেন, নির্দিষ্ট আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার না থাকায় কৃষকরা সুবিধা পাচ্ছেন। এতে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম সংগ্রহ করা সম্ভব হবে এবং আগাম আম পাড়ার চাপ কমবে।
এ বছর থাকছে না আম ক্যালেন্ডার
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে কোনো নির্দিষ্ট “আম ক্যালেন্ডার” কার্যকর করা হবে না। কৃষকরা স্বাভাবিকভাবে পাকা আম সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে কাঁচা বা রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম বাজারজাতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতে মুকুল ও গুটি ভালো ছিল। মাঝপথে কিছু ফল ঝরে পড়লেও সামগ্রিক অবস্থা আশাব্যঞ্জক। মে মাসের শেষেই গুটি ও গোপালভোগ আম বাজারে আসবে এবং ঈদের পর পূর্ণমাত্রায় আম সংগ্রহ শুরু হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















