০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা, আড়াই মিলিয়ন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য শেরপুরে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, গাছচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার সোলার প্যানেলের কর প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রামে পদযাত্রা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক বানানোর লক্ষ্য, বললেন রাজনাথ সিং মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ দিলেন মার্কো রুবিও, দিল্লিতে জোরালো হলো ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত আলোচনা ক্যানসার, মৃত্যুভয় ও বিশ্বাসের পুনর্জন্ম ডিজিটাল খ্যাতির বাজারে সত্যের সংকট ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন হারকিউলিস হাব পরিকল্পনা ঘিরে সার্বভৌমত্ব বিতর্ক ব্রিটেনের পূর্ব উপকূল কেন পরিযায়ী পাখির ‘আকাশপথের মহাসড়ক’ গাছের বলয়ে লুকানো জলবায়ুর ইতিহাস, ভবিষ্যতের আবহাওয়ার সংকেতও মিলছে গবেষণায়

ইন্টারনেটে গত এক দশকে এমন এক সময় এসেছে, যখন সিটি পপের মুখোমুখি না হয়ে অনলাইনে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

হয়তো টিকটকের কোনো ভিডিওতে ঝলমলে সিন্থেসাইজার আর স্ল্যাপ বেসের সুরের মাধ্যমে এটি সামনে এসেছে। হয়তো টোকিওর রাতের ড্রাইভের ফুটেজের ওপর ভেসে উঠেছে। অথবা ইউটিউব একদিন হঠাৎ আপনাকে মারিয়া তাকেউচির “Plastic Love” শুনিয়ে দিয়েছে। যেভাবেই মানুষ এটি আবিষ্কার করুক, তারা শুনতেই থেকেছে।

সম্ভবত এভাবেই অনেকে প্রথম আনরিকে চিনেছে। জাপানি এই পপ তারকার ৪৮ বছরের ক্যারিয়ার এখন দেখিয়ে দেয় কীভাবে সংগীত ইন্টারনেটের মাধ্যমে নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ে—যেখানে কয়েক দশক আগে প্রকাশিত গানও হঠাৎ হাজার মাইল দূরের নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়।

জাপানে ৬৪ বছর বয়সী এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। তার বৈচিত্র্যময় সংগীতভাণ্ডারে রয়েছে ড্যান্স-পপ, নিউ জ্যাক সুইং এবং ব্যালাড। ১৯৮৩ সালে তার বড় সাফল্য “Cat’s Eye” ওরিকন সিঙ্গেল চার্টের শীর্ষে উঠেছিল। একই বছর প্রকাশিত “Timely!!” দিয়ে শুরু করে তার একাধিক অ্যালবামও ব্যাপক সাফল্য পায়। পরে তিনি জাপানের পপ সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন—বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এমনকি ১৯৯৮ সালের নাগানো শীতকালীন অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি পারফর্ম করেছিলেন।

সিটি পপ পুনর্জাগরণের প্রায় এক দশক পর, বিদেশে আনরির জনপ্রিয়তা আর সাময়িক ইন্টারনেট-উন্মাদনা বলে মনে হয় না। যা একসময় অ্যালগরিদম-নির্ভর নস্টালজিয়া বলে মনে হচ্ছিল, তা এখন স্থায়ী সাংস্কৃতিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা ১৯৭০ ও ৮০–এর দশকের জাপানি পপকে আর কৌতূহলবশত নয়, বরং সংগীত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করছে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন আনরি, সঙ্গে আছেন তাতসুরো ইয়ামাশিতা ও তার দীর্ঘদিনের বন্ধু মারিয়া তাকেউচির মতো শিল্পীরা। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম তরুণ শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ফাঙ্ক, ডিস্কো ও পপের মিশেলে তৈরি তার ১৯৮০–এর দশকের সংগীতের সঙ্গে। “Last Summer Whisper,” “Shyness Boy” এবং “I Can’t Stop the Loneliness”–এর মতো গান শুধু সিটি পপ নয়, জাপানের বিস্তৃত সংগীত ইতিহাসে প্রবেশেরও দরজা হয়ে উঠেছে।

আনরি বলেন, “সবাই যে এত ভালোবেসে আমার গান শুনছে, তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।” গোপনীয়তার কারণে তিনি কখনও তার আসল নাম প্রকাশ করেননি। টোকিওর এক অনুষ্ঠানের আগে দ্য জাপান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

এই নতুন আগ্রহ বিদেশে তার চাহিদাও বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে লাইভ নেশনের “City Pop Waves” সিরিজে তার নিউ ইয়র্কে একটি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি কনসার্ট হওয়ার কথা, যেগুলোর টিকিট দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “আমি আমার ব্যান্ড নিয়ে খুব যত্ন করে রিহার্সাল করছি। বিদেশি ভক্তরা যে গানগুলো বেশি শোনেন, সেগুলো নিয়েই সেটলিস্ট করছি। আমি সেই সময়ের আবহ ধরে রাখতে চাই, আবার এখনকার নিজস্ব অনুভূতিও প্রকাশ করতে চাই। আমি চাই এটা দারুণ এক উৎসব হয়ে উঠুক।”

তবে আনরির আন্তর্জাতিক আবেদন শুধু সিটি পপ নস্টালজিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। স্ট্রিমিং যুগের অনেক আগেই তিনি জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংগীতজীবন গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম অ্যালবাম রেকর্ড করেন এবং পরে ২০০০ সালের দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস শুরু করেন।

১৯৮৭ সালে তিনি হাওয়াইয়ে পূর্ণাঙ্গ কনসার্ট করা প্রথম জাপানি শিল্পী হন। পরে আরাশি, আদো ও Fruits Zipper–এর মতো শিল্পীরা সেই পথ অনুসরণ করেন।

তার সবচেয়ে বড় হিট “Cat’s Eye” আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও দেখিয়ে দিয়েছিল। এটি একই নামের জনপ্রিয় অ্যানিমের ওপেনিং থিম ছিল। ফলে অ্যানিমের মাধ্যমে বড় হিট পাওয়া প্রথমদিকের জাপানি পপ তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন আনরি। বর্তমানে অ্যানিমে জাপানি সংগীতের অন্যতম বড় বৈশ্বিক মাধ্যম হলেও, আনরি সেই পথ ধরেছিলেন বহু দশক আগেই।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে আনরি কথা বলেছেন সিটি পপ, শিল্পীজীবনের চাপ, ১৬ বছর বয়সে আমেরিকায় রেকর্ডিং এবং কীভাবে প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ার নতুন করে অনলাইনে শ্রোতা খুঁজে পেল—এসব নিয়ে।

তিনি স্মরণ করেন, ২০২৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে পারফর্ম করতে গিয়ে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ দর্শকদের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল বিশের কোঠার তরুণ। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “তোমরা তো তখন জন্মাওনি! তাহলে আমার গান জানলে কীভাবে?”

তার মতে, ইন্টারনেট বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রবাহকে সীমাহীন করে দিয়েছে। বন্ধুদের পরামর্শ, অনলাইন অ্যালগরিদম আর সংগীতপ্রেমীদের অনুসন্ধানী মন—সব মিলিয়ে তার গান নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে।

১৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত A&M স্টুডিওতে রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতাও তিনি স্মরণ করেন। সেখানে তিনি কারেন কার্পেন্টার, মিননি রিপারটন ও জোনি মিচেলের মতো শিল্পীদের কাছ থেকে সংগীতজগতের চাপ ও পেশাদারিত্বের বাস্তবতা অনুভব করেছিলেন।

তিনি বলেন, “সংগীতজগৎ সহজ নয়। প্রচুর চাপ থাকে। বারবার রেকর্ড করতে হয়, মানসিক চাপ সামলাতে হয়। কিন্তু সেসব অতিক্রম করেই আজকের জায়গায় পৌঁছেছি।”

প্রযোজক তোশিকি কাদোমাতসুর সঙ্গে তার সহযোগিতা নিয়েও তিনি কথা বলেন। “Timely!!” অ্যালবামকে তিনি তাদের যৌথ সৃষ্টিশীলতার পূর্ণতা বলে মনে করেন। তার ভাষায়, “আমরা দুজনই যেন সেই অ্যালবামের মাধ্যমে নিজেদের সত্যিকারের সত্তা খুঁজে পেয়েছিলাম।”

নিজের কণ্ঠস্বরের বিকাশ নিয়েও তিনি অকপটে বলেন, প্রথম অ্যালবামে এখনকার ‘আনরি’কে খুঁজে পাওয়া যায় না। সময়, অভিজ্ঞতা এবং কাদোমাতসুর সুরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার নিজস্ব গায়কী গড়ে ওঠে।

সিটি পপ শব্দটি নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮০–এর দশকে এই শব্দ খুব একটা ব্যবহৃত হতো না। তখন “নিউ মিউজিক” বা “পপস” শব্দগুলোই বেশি প্রচলিত ছিল। তার মতে, শিল্পীরা তখন শুধু নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের সংগীত তৈরি করছিলেন। পরে সেটিই “সিটি পপ” নামে নতুনভাবে মূল্যায়িত হয়েছে।

বিদেশে তাকে সিটি পপ শিল্পী হিসেবে পরিচিত করা নিয়ে তার আপত্তি নেই। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, তার ৪৮ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি নানা ঘরানার গান করেছেন। সিটি পপ শুধু তার সংগীতজীবনের একটি অংশ।

শেষে তিনি বলেন, “ভালো সংগীত মানুষকে সুখী করে। পৃথিবীতে যা-ই ঘটুক না কেন, সংগীত কখনও কাউকে অসুখী করে না।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা, আড়াই মিলিয়ন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

ইন্টারনেটে গত এক দশকে এমন এক সময় এসেছে, যখন সিটি পপের মুখোমুখি না হয়ে অনলাইনে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

০৫:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

হয়তো টিকটকের কোনো ভিডিওতে ঝলমলে সিন্থেসাইজার আর স্ল্যাপ বেসের সুরের মাধ্যমে এটি সামনে এসেছে। হয়তো টোকিওর রাতের ড্রাইভের ফুটেজের ওপর ভেসে উঠেছে। অথবা ইউটিউব একদিন হঠাৎ আপনাকে মারিয়া তাকেউচির “Plastic Love” শুনিয়ে দিয়েছে। যেভাবেই মানুষ এটি আবিষ্কার করুক, তারা শুনতেই থেকেছে।

সম্ভবত এভাবেই অনেকে প্রথম আনরিকে চিনেছে। জাপানি এই পপ তারকার ৪৮ বছরের ক্যারিয়ার এখন দেখিয়ে দেয় কীভাবে সংগীত ইন্টারনেটের মাধ্যমে নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ে—যেখানে কয়েক দশক আগে প্রকাশিত গানও হঠাৎ হাজার মাইল দূরের নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়।

জাপানে ৬৪ বছর বয়সী এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। তার বৈচিত্র্যময় সংগীতভাণ্ডারে রয়েছে ড্যান্স-পপ, নিউ জ্যাক সুইং এবং ব্যালাড। ১৯৮৩ সালে তার বড় সাফল্য “Cat’s Eye” ওরিকন সিঙ্গেল চার্টের শীর্ষে উঠেছিল। একই বছর প্রকাশিত “Timely!!” দিয়ে শুরু করে তার একাধিক অ্যালবামও ব্যাপক সাফল্য পায়। পরে তিনি জাপানের পপ সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন—বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এমনকি ১৯৯৮ সালের নাগানো শীতকালীন অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি পারফর্ম করেছিলেন।

সিটি পপ পুনর্জাগরণের প্রায় এক দশক পর, বিদেশে আনরির জনপ্রিয়তা আর সাময়িক ইন্টারনেট-উন্মাদনা বলে মনে হয় না। যা একসময় অ্যালগরিদম-নির্ভর নস্টালজিয়া বলে মনে হচ্ছিল, তা এখন স্থায়ী সাংস্কৃতিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা ১৯৭০ ও ৮০–এর দশকের জাপানি পপকে আর কৌতূহলবশত নয়, বরং সংগীত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করছে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন আনরি, সঙ্গে আছেন তাতসুরো ইয়ামাশিতা ও তার দীর্ঘদিনের বন্ধু মারিয়া তাকেউচির মতো শিল্পীরা। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম তরুণ শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ফাঙ্ক, ডিস্কো ও পপের মিশেলে তৈরি তার ১৯৮০–এর দশকের সংগীতের সঙ্গে। “Last Summer Whisper,” “Shyness Boy” এবং “I Can’t Stop the Loneliness”–এর মতো গান শুধু সিটি পপ নয়, জাপানের বিস্তৃত সংগীত ইতিহাসে প্রবেশেরও দরজা হয়ে উঠেছে।

আনরি বলেন, “সবাই যে এত ভালোবেসে আমার গান শুনছে, তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।” গোপনীয়তার কারণে তিনি কখনও তার আসল নাম প্রকাশ করেননি। টোকিওর এক অনুষ্ঠানের আগে দ্য জাপান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

এই নতুন আগ্রহ বিদেশে তার চাহিদাও বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে লাইভ নেশনের “City Pop Waves” সিরিজে তার নিউ ইয়র্কে একটি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি কনসার্ট হওয়ার কথা, যেগুলোর টিকিট দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “আমি আমার ব্যান্ড নিয়ে খুব যত্ন করে রিহার্সাল করছি। বিদেশি ভক্তরা যে গানগুলো বেশি শোনেন, সেগুলো নিয়েই সেটলিস্ট করছি। আমি সেই সময়ের আবহ ধরে রাখতে চাই, আবার এখনকার নিজস্ব অনুভূতিও প্রকাশ করতে চাই। আমি চাই এটা দারুণ এক উৎসব হয়ে উঠুক।”

তবে আনরির আন্তর্জাতিক আবেদন শুধু সিটি পপ নস্টালজিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। স্ট্রিমিং যুগের অনেক আগেই তিনি জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংগীতজীবন গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম অ্যালবাম রেকর্ড করেন এবং পরে ২০০০ সালের দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস শুরু করেন।

১৯৮৭ সালে তিনি হাওয়াইয়ে পূর্ণাঙ্গ কনসার্ট করা প্রথম জাপানি শিল্পী হন। পরে আরাশি, আদো ও Fruits Zipper–এর মতো শিল্পীরা সেই পথ অনুসরণ করেন।

তার সবচেয়ে বড় হিট “Cat’s Eye” আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও দেখিয়ে দিয়েছিল। এটি একই নামের জনপ্রিয় অ্যানিমের ওপেনিং থিম ছিল। ফলে অ্যানিমের মাধ্যমে বড় হিট পাওয়া প্রথমদিকের জাপানি পপ তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন আনরি। বর্তমানে অ্যানিমে জাপানি সংগীতের অন্যতম বড় বৈশ্বিক মাধ্যম হলেও, আনরি সেই পথ ধরেছিলেন বহু দশক আগেই।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে আনরি কথা বলেছেন সিটি পপ, শিল্পীজীবনের চাপ, ১৬ বছর বয়সে আমেরিকায় রেকর্ডিং এবং কীভাবে প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ার নতুন করে অনলাইনে শ্রোতা খুঁজে পেল—এসব নিয়ে।

তিনি স্মরণ করেন, ২০২৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে পারফর্ম করতে গিয়ে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ দর্শকদের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল বিশের কোঠার তরুণ। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “তোমরা তো তখন জন্মাওনি! তাহলে আমার গান জানলে কীভাবে?”

তার মতে, ইন্টারনেট বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রবাহকে সীমাহীন করে দিয়েছে। বন্ধুদের পরামর্শ, অনলাইন অ্যালগরিদম আর সংগীতপ্রেমীদের অনুসন্ধানী মন—সব মিলিয়ে তার গান নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে।

১৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত A&M স্টুডিওতে রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতাও তিনি স্মরণ করেন। সেখানে তিনি কারেন কার্পেন্টার, মিননি রিপারটন ও জোনি মিচেলের মতো শিল্পীদের কাছ থেকে সংগীতজগতের চাপ ও পেশাদারিত্বের বাস্তবতা অনুভব করেছিলেন।

তিনি বলেন, “সংগীতজগৎ সহজ নয়। প্রচুর চাপ থাকে। বারবার রেকর্ড করতে হয়, মানসিক চাপ সামলাতে হয়। কিন্তু সেসব অতিক্রম করেই আজকের জায়গায় পৌঁছেছি।”

প্রযোজক তোশিকি কাদোমাতসুর সঙ্গে তার সহযোগিতা নিয়েও তিনি কথা বলেন। “Timely!!” অ্যালবামকে তিনি তাদের যৌথ সৃষ্টিশীলতার পূর্ণতা বলে মনে করেন। তার ভাষায়, “আমরা দুজনই যেন সেই অ্যালবামের মাধ্যমে নিজেদের সত্যিকারের সত্তা খুঁজে পেয়েছিলাম।”

নিজের কণ্ঠস্বরের বিকাশ নিয়েও তিনি অকপটে বলেন, প্রথম অ্যালবামে এখনকার ‘আনরি’কে খুঁজে পাওয়া যায় না। সময়, অভিজ্ঞতা এবং কাদোমাতসুর সুরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার নিজস্ব গায়কী গড়ে ওঠে।

সিটি পপ শব্দটি নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮০–এর দশকে এই শব্দ খুব একটা ব্যবহৃত হতো না। তখন “নিউ মিউজিক” বা “পপস” শব্দগুলোই বেশি প্রচলিত ছিল। তার মতে, শিল্পীরা তখন শুধু নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের সংগীত তৈরি করছিলেন। পরে সেটিই “সিটি পপ” নামে নতুনভাবে মূল্যায়িত হয়েছে।

বিদেশে তাকে সিটি পপ শিল্পী হিসেবে পরিচিত করা নিয়ে তার আপত্তি নেই। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, তার ৪৮ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি নানা ঘরানার গান করেছেন। সিটি পপ শুধু তার সংগীতজীবনের একটি অংশ।

শেষে তিনি বলেন, “ভালো সংগীত মানুষকে সুখী করে। পৃথিবীতে যা-ই ঘটুক না কেন, সংগীত কখনও কাউকে অসুখী করে না।”