০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয় সৌদি আরবের উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু প্রযুক্তি, নাকি রাষ্ট্রের সক্ষমতার পরীক্ষা? জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল

ফারো দ্বীপপুঞ্জে বছরের প্রথম তিমি শিকার, নিহত ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল

উত্তর আটলান্টিকের ফারো দ্বীপপুঞ্জে ২০২৬ সালের প্রথম ‘গ্রিন্ডাড্রাপ’ বা ঐতিহ্যবাহী তিমি শিকারে ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল এবং কয়েকটি আটলান্টিক হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন হত্যা করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জে ঘটনাটি নতুন করে আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন সি শেফার্ড জানায়, ভ্যাগার দ্বীপের সান্দাভাগুর গ্রামের উপকূলে তিমিগুলোর একটি বড় দলকে নৌকার মাধ্যমে তাড়িয়ে অগভীর পানিতে আনা হয়। পরে সেগুলোকে তীরে হত্যা করা হয়। সংগঠনটির পর্যবেক্ষকরা পুরো ঘটনাটি নথিভুক্ত করেন।

তবে আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে অন্তত ১৫টি ভ্রূণ ও ছোট বাচ্চা তিমিকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে সেগুলোকে খাদ্য হিসেবে অনুপযুক্ত মনে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে শিকারে নিহত সব ডলফিনের তথ্যও সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা।

শিকার ঘিরে বাধা ও বিতর্ক

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। জনসমাগমস্থলেও চিত্র ধারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং অনেককে এলাকা ছাড়তে বলা হয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ইতোমধ্যে ‘আর্লি ডে মোশন’ উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ফারো দ্বীপপুঞ্জের এই তিমি শিকারের নিন্দা জানানো হয়েছে। ছয়টি রাজনৈতিক দলের ৭২ জন এমপি এতে সমর্থন দিয়েছেন। ২০২৬ সালের শেষ দিকে ফারো দ্বীপপুঞ্জের বাণিজ্যিক চুক্তি পর্যালোচনার সময় এই শিকার প্রথা নিয়ে আলোচনা তোলার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সি শেফার্ডের প্রচার পরিচালক ভ্যালেন্তিনা ক্রাস্ট বলেন, প্রতিটি তিমির দলে গর্ভবতী স্ত্রী তিমি ও ছোট বাচ্চা থাকে। বিশ্বের অধিকাংশ শিকারপ্রথায় এমন প্রাণীগুলোকে সুরক্ষিত রাখা হয়। কিন্তু ফারো দ্বীপপুঞ্জের শিকারে তাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়।

কী এই গ্রিন্ডাড্রাপ?

‘গ্রিন্ড’ নামে পরিচিত এই প্রথায় নৌকার সাহায্যে পাইলট হোয়েল ও ডলফিনকে উপসাগরে তাড়িয়ে আনা হয়। পরে সৈকতে হত্যা করা হয় প্রাণীগুলোকে। প্রতি বছর একাধিক অভিযানে শত শত সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী হত্যা করা হয়। কত প্রাণী মারা যাবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সীমাও নেই।

এই প্রথার ইতিহাস প্রায় ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পুরোনো। একসময় ফারো দ্বীপপুঞ্জের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে তিমির মাংস গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় খাদ্য সংকটের সেই বাস্তবতা আর নেই।

তবুও স্থানীয় জনগণের বড় অংশ এই প্রথার পক্ষে। জরিপ অনুযায়ী, ফারো দ্বীপপুঞ্জের ৮৩ শতাংশ মানুষ গ্রিন্ডাড্রাপ সমর্থন করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তিমির মাংস খাওয়ার সংস্কৃতির কারণে অনেকেই পাইলট হোয়েলকে গরু, ভেড়া বা মুরগির মতো খাদ্যপ্রাণী হিসেবেই দেখেন।

গত দুই দশকে সেখানে ২০ হাজারের বেশি ডলফিন ও ছোট তিমি হত্যা করা হয়েছে। ২০১০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯০০ পাইলট হোয়েল ও অন্যান্য ডলফিন এই শিকারের শিকার হয়।

ফারো দ্বীপপুঞ্জের তিমি শিকার

ফারো দ্বীপপুঞ্জে বছরের প্রথম গ্রিন্ডাড্রাপে ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল হত্যার ঘটনায় আবারও আন্তর্জাতিক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফারো দ্বীপপুঞ্জে শতবর্ষের পুরোনো তিমি শিকার প্রথা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ২০২৬ সালের প্রথম অভিযানে নিহত হয়েছে ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল ও কয়েকটি ডলফিন। আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে চাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয়

ফারো দ্বীপপুঞ্জে বছরের প্রথম তিমি শিকার, নিহত ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল

০৫:২৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

উত্তর আটলান্টিকের ফারো দ্বীপপুঞ্জে ২০২৬ সালের প্রথম ‘গ্রিন্ডাড্রাপ’ বা ঐতিহ্যবাহী তিমি শিকারে ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল এবং কয়েকটি আটলান্টিক হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন হত্যা করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জে ঘটনাটি নতুন করে আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন সি শেফার্ড জানায়, ভ্যাগার দ্বীপের সান্দাভাগুর গ্রামের উপকূলে তিমিগুলোর একটি বড় দলকে নৌকার মাধ্যমে তাড়িয়ে অগভীর পানিতে আনা হয়। পরে সেগুলোকে তীরে হত্যা করা হয়। সংগঠনটির পর্যবেক্ষকরা পুরো ঘটনাটি নথিভুক্ত করেন।

তবে আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে অন্তত ১৫টি ভ্রূণ ও ছোট বাচ্চা তিমিকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে সেগুলোকে খাদ্য হিসেবে অনুপযুক্ত মনে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে শিকারে নিহত সব ডলফিনের তথ্যও সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা।

শিকার ঘিরে বাধা ও বিতর্ক

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। জনসমাগমস্থলেও চিত্র ধারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং অনেককে এলাকা ছাড়তে বলা হয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ইতোমধ্যে ‘আর্লি ডে মোশন’ উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ফারো দ্বীপপুঞ্জের এই তিমি শিকারের নিন্দা জানানো হয়েছে। ছয়টি রাজনৈতিক দলের ৭২ জন এমপি এতে সমর্থন দিয়েছেন। ২০২৬ সালের শেষ দিকে ফারো দ্বীপপুঞ্জের বাণিজ্যিক চুক্তি পর্যালোচনার সময় এই শিকার প্রথা নিয়ে আলোচনা তোলার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সি শেফার্ডের প্রচার পরিচালক ভ্যালেন্তিনা ক্রাস্ট বলেন, প্রতিটি তিমির দলে গর্ভবতী স্ত্রী তিমি ও ছোট বাচ্চা থাকে। বিশ্বের অধিকাংশ শিকারপ্রথায় এমন প্রাণীগুলোকে সুরক্ষিত রাখা হয়। কিন্তু ফারো দ্বীপপুঞ্জের শিকারে তাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়।

কী এই গ্রিন্ডাড্রাপ?

‘গ্রিন্ড’ নামে পরিচিত এই প্রথায় নৌকার সাহায্যে পাইলট হোয়েল ও ডলফিনকে উপসাগরে তাড়িয়ে আনা হয়। পরে সৈকতে হত্যা করা হয় প্রাণীগুলোকে। প্রতি বছর একাধিক অভিযানে শত শত সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী হত্যা করা হয়। কত প্রাণী মারা যাবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সীমাও নেই।

এই প্রথার ইতিহাস প্রায় ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পুরোনো। একসময় ফারো দ্বীপপুঞ্জের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে তিমির মাংস গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় খাদ্য সংকটের সেই বাস্তবতা আর নেই।

তবুও স্থানীয় জনগণের বড় অংশ এই প্রথার পক্ষে। জরিপ অনুযায়ী, ফারো দ্বীপপুঞ্জের ৮৩ শতাংশ মানুষ গ্রিন্ডাড্রাপ সমর্থন করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তিমির মাংস খাওয়ার সংস্কৃতির কারণে অনেকেই পাইলট হোয়েলকে গরু, ভেড়া বা মুরগির মতো খাদ্যপ্রাণী হিসেবেই দেখেন।

গত দুই দশকে সেখানে ২০ হাজারের বেশি ডলফিন ও ছোট তিমি হত্যা করা হয়েছে। ২০১০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯০০ পাইলট হোয়েল ও অন্যান্য ডলফিন এই শিকারের শিকার হয়।

ফারো দ্বীপপুঞ্জের তিমি শিকার

ফারো দ্বীপপুঞ্জে বছরের প্রথম গ্রিন্ডাড্রাপে ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল হত্যার ঘটনায় আবারও আন্তর্জাতিক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফারো দ্বীপপুঞ্জে শতবর্ষের পুরোনো তিমি শিকার প্রথা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ২০২৬ সালের প্রথম অভিযানে নিহত হয়েছে ১২৫টির বেশি পাইলট হোয়েল ও কয়েকটি ডলফিন। আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে চাপ।