ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আমেরিকার অংশগ্রহণ ছাড়া লড়াই করার গোপন পরিকল্পনা তৈরি করছে। টেক্সাসের ফোর্ট হুডে “ব্ল্যাক জ্যাক” ব্রিগেডের প্রায় চার হাজার সৈন্য মে মাসের শুরুতে জার্মানিতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু তা হঠাৎ বাতিল হয়ে যায়। এটি ছিল একটি অনেক বড় পরিকল্পনার অংশ: ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপে মার্কিন উপস্থিতি দ্রুত কমিয়ে আনছে। একই সঙ্গে ইরানে যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় মজুদ করতে গিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে।

সুইডিশ প্রতিরক্ষা কর্তার ভাষায় “সতর্কবার্তা”
জানুয়ারিতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর ইউরোপের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা নড়েচড়ে বসেন। সুইডেনের একজন উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড সংকট ছিল একটি সতর্কবার্তা এবং এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে একটি “প্ল্যান বি” দরকার। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছেন, কারণ প্রকাশ্য আলোচনা আমেরিকার প্রস্থানকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু বেশ কয়েকটি দেশের সিনিয়র সামরিক কর্তারা এই প্রতিবেদকের কাছে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে তারা সত্যিই এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
ব্রিটেনের নেতৃত্বে দশ দেশের জোট
সবচেয়ে সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে ব্রিটেনের নেতৃত্বে জয়েন্ট এক্সপিডিশনারি ফোর্স এবং ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য “ইচ্ছুকদের জোট” কাজ করতে পারে বলে প্রস্তাব উঠেছে। তবে প্রতিটি বিকল্পই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা, ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষা ও লজিস্টিক্স নেটওয়ার্ক ছাড়া ইউরোপ এককভাবে রাশিয়াকে মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখে না। ইউরোপের দেশগুলো এখন নিজেদের প্রশ্ন করছে, যদি আমেরিকা সত্যিই সরে যায়, তাহলে কার নেতৃত্বে, কোন কমান্ড স্ট্রাকচারে এই লড়াই চালানো যাবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















