০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে কী শিখতে পারে ব্রিটেনের রাজনীতি ইবোলা সতর্কবার্তা: কঙ্গোর নতুন সংকট ভবিষ্যৎ মহামারির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, ইউরোপকে এখনই বিকল্প নিরাপত্তা পরিকল্পনার পথে হাঁটার আহ্বান ট্রাম্পের নীতিতে ধাক্কা, তবু এগিয়ে আমেরিকার অর্থনীতি হাম পরিস্থিতির দায় কার জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্বাধীন তদন্ত’ চাচ্ছে সরকার রামিসার হত্যা ইস্যুতে ‘সিরিয়াল কিলার’ রসু খাঁর ঘটনা কেন সামনে আসছে? শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার চীনের শানসি কয়লাখনি বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা কমে ৮২, বিশৃঙ্খলায় বাড়ে বিভ্রান্তি এআই ঝড়ে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক, ব্যাংক ও প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা হোয়াইট হাউসের কাছে গুলির ঘটনা, নিহত সন্দেহভাজন যুবক

ট্রাম্পের নীতিতে ধাক্কা, তবু এগিয়ে আমেরিকার অর্থনীতি

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি দেশটির প্রবৃদ্ধিকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। উচ্চ শুল্ক, অভিবাসনে কড়াকড়ি এবং নীতিগত অস্থিরতা মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিকে এখন অনেকেই “মাগা কর” হিসেবে দেখছেন।

বিশ্বের অন্য উন্নত অর্থনীতিগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে থাকলেও সেই অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হতে পারত বলেও মত উঠে এসেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেখানে প্রায় ২ শতাংশের আশেপাশে, সেখানে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের প্রবৃদ্ধি অনেক কম। তবু অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অস্থিরতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারত।

অভিবাসন ও শুল্কে কড়াকড়ির প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার প্রযুক্তি খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিল্প দ্রুত বাড়লেও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা গেছে। বারবার শুল্ক নীতির পরিবর্তন এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের প্রবেশে বাধা ব্যবসায়িক আস্থাকে দুর্বল করেছে।

How Tighter Curbs on Immigration Impact the U.S. Economy | Econofact

এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়ায় নতুন চাপও তৈরি হয়েছে।

তবু কেন এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্লেষকদের মতে, নানা সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কিছু মৌলিক শক্তি রয়েছে। বিশাল ভৌগোলিক বাজার, একক ভাষা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বৈশ্বিক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের অবস্থান দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

এছাড়া অঙ্গরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোও বড় ভূমিকা রাখছে। কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে ভুল নীতি নিলেও পুরো দেশের অর্থনীতি তার প্রভাব বহন করে না। ব্যবসা ও মানুষ সহজেই অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যেতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জ্বালানি খাতে এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের শেল গ্যাস বিপ্লব এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র তৈরিতে দ্রুত বিনিয়োগ দেশটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির নতুন ভিত্তি তৈরি করছে।

U.S. Natural Gas Exports Hit Record Highs in 2025

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউরোপসহ অনেক উন্নত দেশ অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা এবং নতুন শিল্প গড়ে তুলতে ধীরগতির কারণে পিছিয়ে পড়ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে একই ধারা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। দক্ষ অভিবাসীরা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন, ঋণের চাপ বাড়তে পারে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়তে পারে।

তাদের মতে, উদ্ভাবনের বদলে যদি প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শক্ত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।

একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও। অনেক জনপ্রিয়তাবাদী নেতা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে অনুসরণ করতে আগ্রহ দেখালেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নীতি অনেক দেশের অর্থনীতিকে আরও বড় সংকটে ফেলতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য থেকে কী শিখতে পারে ব্রিটেনের রাজনীতি

ট্রাম্পের নীতিতে ধাক্কা, তবু এগিয়ে আমেরিকার অর্থনীতি

০২:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি দেশটির প্রবৃদ্ধিকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। উচ্চ শুল্ক, অভিবাসনে কড়াকড়ি এবং নীতিগত অস্থিরতা মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিকে এখন অনেকেই “মাগা কর” হিসেবে দেখছেন।

বিশ্বের অন্য উন্নত অর্থনীতিগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে থাকলেও সেই অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হতে পারত বলেও মত উঠে এসেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেখানে প্রায় ২ শতাংশের আশেপাশে, সেখানে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের প্রবৃদ্ধি অনেক কম। তবু অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অস্থিরতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারত।

অভিবাসন ও শুল্কে কড়াকড়ির প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার প্রযুক্তি খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিল্প দ্রুত বাড়লেও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা গেছে। বারবার শুল্ক নীতির পরিবর্তন এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের প্রবেশে বাধা ব্যবসায়িক আস্থাকে দুর্বল করেছে।

How Tighter Curbs on Immigration Impact the U.S. Economy | Econofact

এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়ায় নতুন চাপও তৈরি হয়েছে।

তবু কেন এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্লেষকদের মতে, নানা সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কিছু মৌলিক শক্তি রয়েছে। বিশাল ভৌগোলিক বাজার, একক ভাষা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বৈশ্বিক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের অবস্থান দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

এছাড়া অঙ্গরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোও বড় ভূমিকা রাখছে। কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে ভুল নীতি নিলেও পুরো দেশের অর্থনীতি তার প্রভাব বহন করে না। ব্যবসা ও মানুষ সহজেই অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যেতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জ্বালানি খাতে এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের শেল গ্যাস বিপ্লব এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র তৈরিতে দ্রুত বিনিয়োগ দেশটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির নতুন ভিত্তি তৈরি করছে।

U.S. Natural Gas Exports Hit Record Highs in 2025

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউরোপসহ অনেক উন্নত দেশ অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা এবং নতুন শিল্প গড়ে তুলতে ধীরগতির কারণে পিছিয়ে পড়ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে একই ধারা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। দক্ষ অভিবাসীরা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন, ঋণের চাপ বাড়তে পারে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়তে পারে।

তাদের মতে, উদ্ভাবনের বদলে যদি প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শক্ত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।

একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও। অনেক জনপ্রিয়তাবাদী নেতা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে অনুসরণ করতে আগ্রহ দেখালেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নীতি অনেক দেশের অর্থনীতিকে আরও বড় সংকটে ফেলতে পারে।