০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক অভিষেক, স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে বিশ্বকাপে চমক বিএসএফ সম্মেলন ঘিরে ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রচারণা নাকচ করল বিজিবি যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বকাপ: খেলাধুলা কি সত্যিই রাজনীতির বাইরে? জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ

কর্মী ভিসায় নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, রাশিয়ায় আটকা ৩০ বাংলাদেশীর পরিবারের মানববন্ধন

সমকালের একটি শিরোনাম “পল্লবীতে শিশুহত্যা: দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট“

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা ঘটনার মামলায় দুই আসামির ‍বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি হলেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

আজ রোববার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান এই অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গতকাল শনিবার ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পায় পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব আলামতের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন। ফরেনসিক রিপোর্টে হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এই মামলায় আপাতত ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। তাই এখনও ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার সমকালকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও ভিসেরা প্রতিবেদন পেয়েছি। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। অপরাধ প্রমাণে আমাদের হাতে অনেক ধরনের আলামত ও তথ্য আছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ডিএনএ আলামত পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।’

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী, শিশুটির পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। স্বপ্নার বিরুদ্ধে লাশ গুমের চেষ্টা ও স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এবং সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বুধবার সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সোহেল ও স্বপ্না বর্তমানে কারাগারে।

এদিকে বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হিসেবে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ পিপি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হবে।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”হাম ও উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু”

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩০৬ জন ও নিশ্চিত হাম রোগী ১২৮ জন।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।

হামের উপসর্গে ঢাকায় ১০, রাজশাহীতে এক, সিলেটে এক, বরিশালে এক, ময়মনসিংহে দুই ও রংপুরে একজন মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫২৮ শিশুর।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৪৪২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু বাড়ি ফিরেছে। অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৬২২ জন।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “কর্মী ভিসায় নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, রাশিয়ায় আটকা ৩০ বাংলাদেশীর পরিবারের মানববন্ধন”

নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি কর্মীর ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশীকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা। আজ রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের দ্রুত সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান স্বজনরা।

মানবন্ধনে সন্তান রিপন হোসেনের মা রিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে তার বন্ধুর সঙ্গে জাবালে নুর এজেন্সিতে যায়। সেখানে তারা দুজনই টাকা জমা দেয়। পরে এজেন্সি আমাদের অনেকদিন ঘুরানোর পর হঠাৎ করে এজেন্সি থেকে ভিসা হওয়ার কথা জানানো হয়। নির্মাণ কাজের ভিসা নিয়ে গত ৭ তারিখ রিপন ও তার বন্ধুসহ ৩০ জন রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ৩ থেকে ৪ দিন কথা হয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। এরপরই তাদের কাজের কথা বলে যুদ্ধের ট্রেনিংয়ে নিয়ে গেছে। এখন তাদের যদি উদ্ধার করতে হয় তাহলে সেখান থেকে উদ্ধার করতে হবে। নইলে আর উদ্ধার করা যাবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার সন্তানকে ফেরত চাই।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাই রায়হান কবির বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে তার ভাইসহ অন্যরা বৈধভাবে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই রাশিয়ায় গেছেন। সরকারি নিয়ম মেনে বিদেশে পাঠানোর পরও তারা কীভাবে প্রতারণার শিকার হলেন—সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, তার কাছে এমন এক হাজার বাংলাদেশীর তথ্য রয়েছে, যারা বৈধ কাগজপত্রে রাশিয়ায় গিয়েও বর্তমানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মীদের পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোর অস্তিত্বই রাশিয়ায় নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া আরিফ হোসেনের বাবা স্বপন পাটওয়ারী বলেন, ছেলে বৈধভাবে উপার্জন করে পরিবার চালাবে এবং দেশে রেমিট্যান্স পাঠাবে—এ আশায় তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন ছেলের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে বলে জানান তিনি।

চাঁদপুরের বাসিন্দা কামাল হোসেনের আত্মীয় জলিল খান বলেন, এজেন্সি বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিল। কাউকে নির্মাণ ভিসা, কাউকে ফ্যাক্টরি ভিসায় পাঠানো হলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ১২ মে তার আত্মীয় ফোনে জানিয়েছিলেন যে, কাজের কথা বলে তাদের ধরে নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

নাজমুল আলমের বড় ভাই মো. লিয়াদ আলী বলেন, কয়েকদিন ধরে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পাওয়া একটি ভয়েস বার্তায় আটকে পড়াদের একজন উদ্ধার চেয়ে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হয়তো তাদের মরদেহও দেশে ফিরবে না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক অভিষেক, স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে বিশ্বকাপে চমক

কর্মী ভিসায় নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, রাশিয়ায় আটকা ৩০ বাংলাদেশীর পরিবারের মানববন্ধন

০৫:৩১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সমকালের একটি শিরোনাম “পল্লবীতে শিশুহত্যা: দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট“

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা ঘটনার মামলায় দুই আসামির ‍বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি হলেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

আজ রোববার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান এই অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গতকাল শনিবার ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পায় পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব আলামতের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন। ফরেনসিক রিপোর্টে হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এই মামলায় আপাতত ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। তাই এখনও ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার সমকালকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও ভিসেরা প্রতিবেদন পেয়েছি। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। অপরাধ প্রমাণে আমাদের হাতে অনেক ধরনের আলামত ও তথ্য আছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ডিএনএ আলামত পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।’

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী, শিশুটির পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। স্বপ্নার বিরুদ্ধে লাশ গুমের চেষ্টা ও স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এবং সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বুধবার সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সোহেল ও স্বপ্না বর্তমানে কারাগারে।

এদিকে বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হিসেবে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ পিপি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হবে।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”হাম ও উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু”

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩০৬ জন ও নিশ্চিত হাম রোগী ১২৮ জন।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।

হামের উপসর্গে ঢাকায় ১০, রাজশাহীতে এক, সিলেটে এক, বরিশালে এক, ময়মনসিংহে দুই ও রংপুরে একজন মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫২৮ শিশুর।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৪৪২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু বাড়ি ফিরেছে। অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৬২২ জন।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “কর্মী ভিসায় নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, রাশিয়ায় আটকা ৩০ বাংলাদেশীর পরিবারের মানববন্ধন”

নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি কর্মীর ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশীকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা। আজ রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের দ্রুত সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান স্বজনরা।

মানবন্ধনে সন্তান রিপন হোসেনের মা রিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে তার বন্ধুর সঙ্গে জাবালে নুর এজেন্সিতে যায়। সেখানে তারা দুজনই টাকা জমা দেয়। পরে এজেন্সি আমাদের অনেকদিন ঘুরানোর পর হঠাৎ করে এজেন্সি থেকে ভিসা হওয়ার কথা জানানো হয়। নির্মাণ কাজের ভিসা নিয়ে গত ৭ তারিখ রিপন ও তার বন্ধুসহ ৩০ জন রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ৩ থেকে ৪ দিন কথা হয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। এরপরই তাদের কাজের কথা বলে যুদ্ধের ট্রেনিংয়ে নিয়ে গেছে। এখন তাদের যদি উদ্ধার করতে হয় তাহলে সেখান থেকে উদ্ধার করতে হবে। নইলে আর উদ্ধার করা যাবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার সন্তানকে ফেরত চাই।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাই রায়হান কবির বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে তার ভাইসহ অন্যরা বৈধভাবে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই রাশিয়ায় গেছেন। সরকারি নিয়ম মেনে বিদেশে পাঠানোর পরও তারা কীভাবে প্রতারণার শিকার হলেন—সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, তার কাছে এমন এক হাজার বাংলাদেশীর তথ্য রয়েছে, যারা বৈধ কাগজপত্রে রাশিয়ায় গিয়েও বর্তমানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মীদের পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোর অস্তিত্বই রাশিয়ায় নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া আরিফ হোসেনের বাবা স্বপন পাটওয়ারী বলেন, ছেলে বৈধভাবে উপার্জন করে পরিবার চালাবে এবং দেশে রেমিট্যান্স পাঠাবে—এ আশায় তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন ছেলের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে বলে জানান তিনি।

চাঁদপুরের বাসিন্দা কামাল হোসেনের আত্মীয় জলিল খান বলেন, এজেন্সি বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিল। কাউকে নির্মাণ ভিসা, কাউকে ফ্যাক্টরি ভিসায় পাঠানো হলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ১২ মে তার আত্মীয় ফোনে জানিয়েছিলেন যে, কাজের কথা বলে তাদের ধরে নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

নাজমুল আলমের বড় ভাই মো. লিয়াদ আলী বলেন, কয়েকদিন ধরে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পাওয়া একটি ভয়েস বার্তায় আটকে পড়াদের একজন উদ্ধার চেয়ে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হয়তো তাদের মরদেহও দেশে ফিরবে না।