গাজীপুরের সদর উপজেলার নয়নপুরে বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো বাংলা সাহিত্যের দুই প্রবাদপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী। “রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী-১৪৩৩” উপলক্ষে আয়োজন করে ইকবাল সিদ্দিকী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কচি-কাঁচা একাডেমি, নয়নপুর এনএস আদর্শ বিদ্যালয় এবং বৃত্ত সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ইকবাল সিদ্দিকী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাযযাদ কাদির মঞ্চে। আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন ইকবাল সিদ্দিকী এডুকেশন সোসাইটির সদস্য সচিব ও প্রধান নির্বাহী হায়দার সিদ্দিকী উদয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক মোছা. সাথী খাতুন, সহকারী শিক্ষক রওশন আরা রুমি এবং সহকারী শিক্ষক শরিফুল হাসান।
শুরুতেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় প্রয়াত প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকীকে। তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে আলোচনা পর্বে অতিথিরা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্যকর্ম, জীবনদর্শন এবং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁদের অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক অশিম বিভাকর এবং নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রতন চন্দ্র শীল।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলোচনায় বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বাঙালির মনন ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সৃজনশীল চেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ দর্শক
আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য।
এছাড়া গাজীপুর থেকে আগত বৃত্ত সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরাও নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দর্শক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সৃষ্টিশীল চেতনা, মানবতা ও শিল্পভাবনা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে একটি মানবিক ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
দিনব্যাপী এই আয়োজন আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে যায় সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগের আবহ। মানবিক, শৈল্পিক ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়েই শেষ হয় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর এই বর্ণিল আয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















