ভারতের গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন আইন কার্যকর হলে বড় জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলো বেশি বরাদ্দ পাবে। কেন্দ্রের নতুন কর্মসূচি ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’-এর খসড়া বিধিতে এমন প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই আইন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পুরোনো মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন বাতিল হয়ে যাবে। নতুন ব্যবস্থায় অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশকে ভিত্তি ধরা হচ্ছে।
কীভাবে নির্ধারিত হবে বরাদ্দ
খসড়া বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নির্ধারণে কয়েকটি সূচক বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যা, বনাঞ্চল, আয়তন, মাথাপিছু আঞ্চলিক উৎপাদন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মাথাপিছু আঞ্চলিক উৎপাদনের ব্যবধানকে। অর্থাৎ যেসব রাজ্যের আয় তুলনামূলক কম, তারা বেশি সুবিধা পাবে। এই সূচকের ওজন ধরা হয়েছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর জনসংখ্যার ভিত্তিতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফলে বড় রাজ্যগুলোর বরাদ্দও বাড়তে পারে।
চাহিদাভিত্তিক নয়, নির্ধারিত কাঠামো
আগের কর্মসূচিতে কাজের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ হতো। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় সেই ধারা থেকে সরে আসছে কেন্দ্র। এখন নির্দিষ্ট সূত্র ধরে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এছাড়া আগে শ্রমিকদের মজুরির পুরো অর্থ কেন্দ্র বহন করলেও এখন বেশিরভাগ রাজ্যের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের অনুপাত হবে ৬০:৪০। অর্থাৎ রাজ্য সরকারগুলোকেও বড় অংশের অর্থ জোগান দিতে হবে।

ভালো কাজ করলে বাড়বে বরাদ্দ
নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছর থেকে রাজ্যগুলোর কর্মদক্ষতাও বরাদ্দ নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। সময়মতো মজুরি পরিশোধ, সামাজিক নিরীক্ষা বাস্তবায়ন এবং প্রকল্প শেষ করার হারকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হবে।
তবে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মোট বরাদ্দের কত শতাংশ নির্ধারিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
চলমান প্রকল্প চালু থাকবে
নতুন আইনে রূপান্তরের সময় চলমান প্রকল্পগুলো চালু রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরোনো প্রকল্পের বকেয়া পরিশোধ, নথি স্থানান্তর এবং শ্রমিকদের অধিকার বজায় রাখার বিষয়ও খসড়া বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিচয় যাচাই করা জব কার্ডগুলো সাময়িকভাবে কার্যকর থাকবে। পরে নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি কার্ড দেওয়া হবে। শ্রমিকের চাহিদা বাড়লে নতুন প্রকল্পও শুরু করা যাবে।
নতুন তদারকি কমিটি
খসড়া বিধিতে ১৬ সদস্যের একটি জাতীয় পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের সচিব এই কমিটির প্রধান হবেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্যের অন্তত পাঁচজন প্রতিনিধি এতে থাকবেন।
এই কমিটি রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দ এবং কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সুপারিশ দেবে।
ভারতের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান নীতিতে বড় ও দরিদ্র রাজ্য বেশি অর্থ পাবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেও বাড়তে পারে বরাদ্দ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















