০৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যু, শোকে ওসলো বিতর্ক পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় র‍্যাচেল জেগলার, এবার ব্রডওয়েতে ইভা পেরন শিল্পের নতুন প্রভাবশালীদের খোঁজে টাইম, ৫০ বছর পর প্রচ্ছদে জীবিত চিত্রশিল্পী ৯/১১-এর ২৫ বছর: যে ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে এক প্রজন্ম নিজের ঘরেও পরবাসী: ‘কারা আমাদের মানুষ’—এই প্রশ্নের রাজনীতি ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর

হিজবুল্লাহর রাস্তায় নামার আহ্বান, লেবানন সরকারকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম দেশটির জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য লেবানন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

রোববার দেওয়া এক ভাষণে নাইম কাসেম বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে যদি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়, তবে সেই চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহকেও অন্তর্ভুক্ত করার আশা করছে তারা। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারবিরোধী অবস্থান

নাইম কাসেম দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে তা কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করছে। তিনি বলেন, “জনগণের অধিকার আছে রাস্তায় নেমে আমেরিকা-ইসরায়েল পরিকল্পনার মুখোমুখি হয়ে সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার।”

এ সময় তিনি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। লেবাননের সরকার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি সামনে আনলেও কাসেম বলেন, এই দাবি মানা হবে না।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতাদের 'উদ্ধার', এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন: রুবিও |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

রুবিওর কঠোর প্রতিক্রিয়া

হিজবুল্লাহ প্রধানের বক্তব্যের পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত লেবানন সরকারকে উৎখাতের হিজবুল্লাহর বেপরোয়া আহ্বানকে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে।”

রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, লেবানন সরকার পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দেশটিকে আবারও অস্থিরতা ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংঘাতের পটভূমি

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। নিজেদের মিত্র ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেই এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

এরপর থেকে লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। বিভিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যদিও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা লেবানন পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতও আসতে পারে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো কীভাবে নির্ধারণ হবে—এসব প্রশ্ন এখনও অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

New US Sanctions List to Reportedly Target Lebanese Politicians

লেবাননের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকজন লেবাননি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ ব্যাহত করছে।

রোববারের বক্তব্যে নাইম কাসেম বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে পারবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সহিংসতা ও সরকার উৎখাতের হুমকি সফল হতে দেওয়া হবে না।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন

হিজবুল্লাহর রাস্তায় নামার আহ্বান, লেবানন সরকারকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা

১১:৩৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম দেশটির জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য লেবানন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

রোববার দেওয়া এক ভাষণে নাইম কাসেম বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে যদি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়, তবে সেই চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহকেও অন্তর্ভুক্ত করার আশা করছে তারা। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারবিরোধী অবস্থান

নাইম কাসেম দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে তা কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করছে। তিনি বলেন, “জনগণের অধিকার আছে রাস্তায় নেমে আমেরিকা-ইসরায়েল পরিকল্পনার মুখোমুখি হয়ে সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার।”

এ সময় তিনি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। লেবাননের সরকার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি সামনে আনলেও কাসেম বলেন, এই দাবি মানা হবে না।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতাদের 'উদ্ধার', এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন: রুবিও |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

রুবিওর কঠোর প্রতিক্রিয়া

হিজবুল্লাহ প্রধানের বক্তব্যের পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত লেবানন সরকারকে উৎখাতের হিজবুল্লাহর বেপরোয়া আহ্বানকে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে।”

রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, লেবানন সরকার পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দেশটিকে আবারও অস্থিরতা ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংঘাতের পটভূমি

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। নিজেদের মিত্র ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেই এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

এরপর থেকে লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। বিভিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যদিও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা লেবানন পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতও আসতে পারে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো কীভাবে নির্ধারণ হবে—এসব প্রশ্ন এখনও অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

New US Sanctions List to Reportedly Target Lebanese Politicians

লেবাননের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকজন লেবাননি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ ব্যাহত করছে।

রোববারের বক্তব্যে নাইম কাসেম বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে পারবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সহিংসতা ও সরকার উৎখাতের হুমকি সফল হতে দেওয়া হবে না।