গভীর অর্থনৈতিক সংকট, দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং খাদ্য ঘাটতির মধ্যে চীনের পাঠানো বড় চালের চালান পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কিউবায়। রাজধানী হাভানার বন্দরে পৌঁছেছে ১৫ হাজার টন চালের প্রথম চালান, যা দেশটির লাখো মানুষের খাদ্য সংকট কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই সহায়তাকে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই চাল দেশের সব প্রদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পৌঁছে দেওয়া হবে।
চীনের বড় খাদ্য সহায়তা
চীনের পক্ষ থেকে মোট ৬০ হাজার টন চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর প্রথম অংশ হিসেবে এই চালান কিউবায় পৌঁছেছে। চীনা রাষ্ট্রদূত হুয়া শিন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি কিউবার জন্য চীনের সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তা।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার বর্তমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে জ্বালানি ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের কারণে। দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল অবস্থায় থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত জনজীবন
কিউবায় এখন প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের বড় অংশ একই সময়ে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অনেক এলাকায় টানা ২০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনাও ঘটছে।
রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প উৎপাদন, হাসপাতাল, শিক্ষা কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক পর্যায়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিগুলোর একটি।
জ্বালানি সংকটের মূল কারণ
কিউবার দৈনিক প্রয়োজনীয় তেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে আমদানি কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধাক্কা লাগে।

সরকারের দাবি, দীর্ঘদিনের মার্কিন বাণিজ্য অবরোধ এবং নতুন করে জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কিউবা অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটনের নীতির কারণে দেশটির অর্থনীতি কার্যত চাপে পড়েছে।
মার্কিন চাপ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি কিউবার ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডাভিত্তিক কিউবান-আমেরিকান গোষ্ঠীগুলোর একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কিউবার বর্তমান সরকার পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার বর্তমান সরকারকে দুর্বল করা সহজ হবে না। দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো ও সামরিক বাহিনী এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা ও নজরদারি ব্যবস্থাও সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ মানুষ খাদ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে কঠিন সময় পার করলেও চীনের সহায়তা অন্তত সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















