চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের আনন্দ শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নিল ফ্রান্সজুড়ে। আর্সেনালকে হারিয়ে প্যারিস সাঁ জার্মাঁর ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চার শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বাস, ট্রেন ও রেল চলাচলও ব্যাহত হয়।
সহিংসতায় উত্তপ্ত প্যারিস

ফাইনালের ফল নির্ধারণ হওয়ার পরপরই প্যারিসের বিখ্যাত শঁজ-এলিজে সড়কে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হন। উদযাপনের একপর্যায়ে আতশবাজি ও ফ্লেয়ার জ্বালানো হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে।
শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, সড়কে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং অন্তত একটি দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।
আহত পুলিশ সদস্য
সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
খেলা শুরুর আগেই উত্তেজনা

ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে প্যারিস সাঁ জার্মাঁর মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। খেলা শেষ হওয়ার আগেই কিছু এলাকায় পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে প্রস্তুতি
গত বছর একই প্রতিযোগিতায় দলটির শিরোপা জয়ের পরও উদযাপন সহিংস রূপ নিয়েছিল এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়। তবুও বিপুল জনসমাগমের কারণে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















