পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আরও দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
হামলার পর তদন্তে অগ্রগতি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বিশ্লেষণ করে মোট সাতজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর কনভয়ের দিকে ডিম ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন।
ধৃতদের পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা তৃণমূলের কর্মী এবং তাদের সঙ্গে সোনারপুর দক্ষিণের সাবেক তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে লাভলি মৈত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনায় জড়িত কয়েকজন নারী দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সক্রিয় কর্মী। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা অবশ্যই প্রয়োজন ছিল, তারা বর্তমান বা সাবেক যে দলেরই হোক না কেন। তবে তাঁর প্রশ্ন, ঘটনার ভিডিওতে যাদের পাথর ছুড়তে দেখা গেছে, তাদের সবাইকে এখনও কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি।
দলের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সকল অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
‘আমাকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে’
হামলার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এটি কেবল বিক্ষোভ ছিল না, বরং তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংগঠিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে এবং বিষয়টি আদালত ও রাজ্যপালের নজরে আনা হবে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালত এবং সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে নিরাপত্তারক্ষীরা আগাম তথ্য দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সংস্থার চাপের অভিযোগ
ঘটনার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি আরও কিছু প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও তাঁকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে এসব চাপ বা হামলায় তিনি ভীত নন বলেও জানান তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো প্রশ্ন নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হামলা
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনায় পাঁচজন গ্রেপ্তার। হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি।
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনায় পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিস্তারিত পড়ুন।
#অভিষেক_বন্দ্যোপাধ্যায় #সোনারপুর #পশ্চিমবঙ্গ #তৃণমূল_কংগ্রেস #বিজেপি #রাজনীতি #ভারত #সুকান্ত_মজুমদার #লাভলি_মৈত্র #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 






















