০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনার পর কী আসতে পারে? বাজেটে ভ্যাটের বড় পরিবর্তন: ছোট ব্যবসাও আসছে করজালে, বাড়তে পারে ফ্রিজ-এসির দাম খুলনায় ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা যুবককে, পুরোনো হামলার যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ইউসিবিতে ৫,৫৯৫ কোটি টাকার সংরক্ষণ ঘাটতি, মূলধন সংকট নিয়ে অডিটরের গুরুতর সতর্কবার্তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের জয় সীমান্তে অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় মৃত্যু হলে তা ‘সীমান্ত হত্যা’ নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পেটের ভেতরেই রোগ শনাক্ত করবে ‘খাওয়া যায়’ এমন ইলেকট্রনিকস, চিকিৎসায় খুলছে নতুন দিগন্ত ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত থামার আশা, নতুন করে আলোচনায় ইরান অটিজম থেরাপি খাতে বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি, সঙ্গে বাড়ছে বিল জালিয়াতির অভিযোগ ৮৪ বছরেও নতুন বাজি: ক্যাসিনো সাম্রাজ্য গড়তে এমজিএম কিনতে চান ব্যারি ডিলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনার পর কী আসতে পারে?

বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগ আলোচনাই এখন একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কত দূর যাবে? কিন্তু সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি অন্যত্র। এআই-নির্ভর বিনিয়োগের বর্তমান বিস্তার যদি একসময় গতি হারায়, তাহলে আর্থিক বাজার ও অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব কী হবে?

বর্তমান বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ এখনও শক্তিশালী। ডেটা সেন্টার, চিপ, সফটওয়্যার ও অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ ঢালছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু ইতিহাস বলে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিটি বড় বিনিয়োগচক্রেরই একটি সীমা আছে। একসময় প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়, প্রত্যাশা বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায় এবং বাজার নতুন ভারসাম্য খুঁজতে শুরু করে।

আজকের এআই উত্থানকে ঘিরে যে বিপুল মূলধন ব্যয় দেখা যাচ্ছে, তা অতীতের বহু প্রযুক্তি-উন্মাদনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে সামান্য বিনিয়োগ-সংকোচনও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি বোঝার জন্য অতীতের দিকে তাকানো জরুরি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিটি বড় বিনিয়োগ-তরঙ্গ শেষ হয়েছে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। ষাটের দশকের শুরুতে সাইবারনেটিকস-উৎসাহ স্তিমিত হওয়ার পর প্রযুক্তি বিনিয়োগ কমেছিল। একই চিত্র দেখা গিয়েছিল ষাটের দশকের শেষভাগের জল্পনামূলক শেয়ারবাজার চক্রের পরেও। আর ডটকম বুদবুদ ফেটে যাওয়ার পরে প্রযুক্তি বিনিয়োগে যে পতন হয়েছিল, তা ছিল আরও গভীর।

এই ইতিহাসের আলোকে বলা যায়, এআই ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের বর্তমান ঊর্ধ্বগতি অনন্তকাল ধরে চলবে—এমন ধারণা করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, পতন কত বড় হবে এবং তার অভিঘাত কোথায় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে।

যদি প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ সামান্যও কমে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনের অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বহু প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা প্রযুক্তিখাতের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ওপর নির্ভর করছে। একটি সীমিত ধাক্কাও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে সক্ষম।

অবশ্য সব অর্থনীতি একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সাধারণত বেশি গতিশীল এবং ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে ইউরোপের অনেক অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে ধীরগতির হওয়ায় পুনরুদ্ধার দীর্ঘায়িত হতে পারে।

শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। এআই বিনিয়োগচক্রের সমাপ্তি যদি শুধুমাত্র একটি স্বাভাবিক সংশোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলেও বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য সংশোধন এবং ইউরোপে আরও গভীর পতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Why AI Craze Is Eerily Reminiscent of Dot-Com Era | Chief Investment Officer

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো আন্তর্জাতিক মূলধনের প্রবাহ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই বিদেশি সম্পদ বিক্রি করে নিজ দেশের তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে ফিরে আসেন। ফলে সংকটের উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তার প্রভাব ইউরোপীয় বাজারে আরও তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে।

যদি পরিস্থিতি একটি সাধারণ প্রযুক্তিনির্ভর মন্দায় রূপ নেয়, তাহলে বাজারের ক্ষতি আরও বাড়বে। বিনিয়োগ কমবে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম শ্লথ হবে এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমে যাবে। এর ফলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি হবে যদি বর্তমান এআই উত্থান ডটকম যুগের মতো বড় ধরনের পতনের দিকে যায়। সে ক্ষেত্রে প্রযুক্তি-নির্ভর সম্পদের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন সময়ে নগদ অর্থ ধরে রাখা তুলনামূলক নিরাপদ কৌশল হতে পারে। তবে সব বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চান না। তাই তাদের জন্য প্রশ্ন থাকে—কোন খাত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারে?

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইউরোপের কিছু খাত আকর্ষণীয় মনে হয়। বিশেষ করে অবকাঠামো ও নির্মাণ খাত। কারণ এসব খাতের প্রবৃদ্ধি কেবল প্রযুক্তি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং সরকারি ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থনৈতিক দুর্বলতা দেখা দিলে সরকারগুলো প্রণোদনা হিসেবে অবকাঠামো ব্যয় বাড়াতেও পারে।

একই সঙ্গে ওষুধ ও খাদ্য খাতের মতো প্রতিরক্ষামূলক শিল্পগুলোও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। মানুষের চিকিৎসা ও খাদ্যের চাহিদা অর্থনৈতিক চক্রের সঙ্গে প্রযুক্তি পণ্যের মতো ওঠানামা করে না। ফলে এসব খাত মন্দার সময় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে।

তবে কোনো খাতই সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। বড় ধরনের বাজার বিক্রির সময় প্রায় সব সম্পদের ওপরই চাপ পড়ে। তবুও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আপেক্ষিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা ক্ষেত্রগুলোকে আগে থেকেই চিহ্নিত করা।

বর্তমান এআই উচ্ছ্বাস অনেকের কাছে অপ্রতিরোধ্য মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস শেখায়, কোনো বিনিয়োগ-চক্রই চিরস্থায়ী নয়। বাজারের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো ধরে নেওয়া যে বর্তমান প্রবণতা ভবিষ্যতেও একই গতিতে চলবে। তাই বিচক্ষণ বিনিয়োগকারীর কাজ হলো সংকট শুরু হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়, বরং সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া।

বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে শান্ত সময়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা সবসময়ই বেশি কার্যকর। এআই যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ-প্রশ্ন হয়তো প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নয়, বরং সেই ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার গতি কমে গেলে আমরা কতটা প্রস্তুত থাকব।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনার পর কী আসতে পারে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনার পর কী আসতে পারে?

০৮:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগ আলোচনাই এখন একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কত দূর যাবে? কিন্তু সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি অন্যত্র। এআই-নির্ভর বিনিয়োগের বর্তমান বিস্তার যদি একসময় গতি হারায়, তাহলে আর্থিক বাজার ও অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব কী হবে?

বর্তমান বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ এখনও শক্তিশালী। ডেটা সেন্টার, চিপ, সফটওয়্যার ও অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ ঢালছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু ইতিহাস বলে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিটি বড় বিনিয়োগচক্রেরই একটি সীমা আছে। একসময় প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়, প্রত্যাশা বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায় এবং বাজার নতুন ভারসাম্য খুঁজতে শুরু করে।

আজকের এআই উত্থানকে ঘিরে যে বিপুল মূলধন ব্যয় দেখা যাচ্ছে, তা অতীতের বহু প্রযুক্তি-উন্মাদনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে সামান্য বিনিয়োগ-সংকোচনও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি বোঝার জন্য অতীতের দিকে তাকানো জরুরি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিটি বড় বিনিয়োগ-তরঙ্গ শেষ হয়েছে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। ষাটের দশকের শুরুতে সাইবারনেটিকস-উৎসাহ স্তিমিত হওয়ার পর প্রযুক্তি বিনিয়োগ কমেছিল। একই চিত্র দেখা গিয়েছিল ষাটের দশকের শেষভাগের জল্পনামূলক শেয়ারবাজার চক্রের পরেও। আর ডটকম বুদবুদ ফেটে যাওয়ার পরে প্রযুক্তি বিনিয়োগে যে পতন হয়েছিল, তা ছিল আরও গভীর।

এই ইতিহাসের আলোকে বলা যায়, এআই ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের বর্তমান ঊর্ধ্বগতি অনন্তকাল ধরে চলবে—এমন ধারণা করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, পতন কত বড় হবে এবং তার অভিঘাত কোথায় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে।

যদি প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ সামান্যও কমে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনের অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বহু প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা প্রযুক্তিখাতের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ওপর নির্ভর করছে। একটি সীমিত ধাক্কাও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে সক্ষম।

অবশ্য সব অর্থনীতি একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সাধারণত বেশি গতিশীল এবং ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে ইউরোপের অনেক অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে ধীরগতির হওয়ায় পুনরুদ্ধার দীর্ঘায়িত হতে পারে।

শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। এআই বিনিয়োগচক্রের সমাপ্তি যদি শুধুমাত্র একটি স্বাভাবিক সংশোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলেও বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য সংশোধন এবং ইউরোপে আরও গভীর পতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Why AI Craze Is Eerily Reminiscent of Dot-Com Era | Chief Investment Officer

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো আন্তর্জাতিক মূলধনের প্রবাহ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই বিদেশি সম্পদ বিক্রি করে নিজ দেশের তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে ফিরে আসেন। ফলে সংকটের উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তার প্রভাব ইউরোপীয় বাজারে আরও তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে।

যদি পরিস্থিতি একটি সাধারণ প্রযুক্তিনির্ভর মন্দায় রূপ নেয়, তাহলে বাজারের ক্ষতি আরও বাড়বে। বিনিয়োগ কমবে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম শ্লথ হবে এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমে যাবে। এর ফলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি হবে যদি বর্তমান এআই উত্থান ডটকম যুগের মতো বড় ধরনের পতনের দিকে যায়। সে ক্ষেত্রে প্রযুক্তি-নির্ভর সম্পদের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন সময়ে নগদ অর্থ ধরে রাখা তুলনামূলক নিরাপদ কৌশল হতে পারে। তবে সব বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চান না। তাই তাদের জন্য প্রশ্ন থাকে—কোন খাত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারে?

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইউরোপের কিছু খাত আকর্ষণীয় মনে হয়। বিশেষ করে অবকাঠামো ও নির্মাণ খাত। কারণ এসব খাতের প্রবৃদ্ধি কেবল প্রযুক্তি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং সরকারি ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থনৈতিক দুর্বলতা দেখা দিলে সরকারগুলো প্রণোদনা হিসেবে অবকাঠামো ব্যয় বাড়াতেও পারে।

একই সঙ্গে ওষুধ ও খাদ্য খাতের মতো প্রতিরক্ষামূলক শিল্পগুলোও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। মানুষের চিকিৎসা ও খাদ্যের চাহিদা অর্থনৈতিক চক্রের সঙ্গে প্রযুক্তি পণ্যের মতো ওঠানামা করে না। ফলে এসব খাত মন্দার সময় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে।

তবে কোনো খাতই সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। বড় ধরনের বাজার বিক্রির সময় প্রায় সব সম্পদের ওপরই চাপ পড়ে। তবুও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আপেক্ষিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা ক্ষেত্রগুলোকে আগে থেকেই চিহ্নিত করা।

বর্তমান এআই উচ্ছ্বাস অনেকের কাছে অপ্রতিরোধ্য মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস শেখায়, কোনো বিনিয়োগ-চক্রই চিরস্থায়ী নয়। বাজারের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো ধরে নেওয়া যে বর্তমান প্রবণতা ভবিষ্যতেও একই গতিতে চলবে। তাই বিচক্ষণ বিনিয়োগকারীর কাজ হলো সংকট শুরু হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়, বরং সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া।

বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে শান্ত সময়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা সবসময়ই বেশি কার্যকর। এআই যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ-প্রশ্ন হয়তো প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নয়, বরং সেই ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার গতি কমে গেলে আমরা কতটা প্রস্তুত থাকব।