পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য পদত্যাগী মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চললেও এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের কলেজ গেট এলাকায় বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার এবং তাঁকে পুনরায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

পুনর্বহালের দাবি জোরালো
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ রাঙামাটির মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। তাঁরা সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, দীপেন দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রাজনীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁর আকস্মিক পদত্যাগে সাধারণ নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা
সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন দীপেন দেওয়ান। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৫ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। পরবর্তী সময়ে তিনি রাঙামাটি জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পর তিনি এ মন্ত্রণালয়ের প্রথম পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁকে অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তাঁর পদত্যাগের ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে এ ইস্যুর প্রভাব স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কতটা পড়বে, তা পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















