মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার তরুণ টেনিস তারকা মিরা আন্দ্রেয়েভা। ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে ইউক্রেনের মার্তা কোস্তিউককে একতরফা লড়াইয়ে ৬-১, ৬-৩ গেমে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখান অষ্টম বাছাই আন্দ্রেয়েভা। প্যারিসের কোর্ট ফিলিপ শাত্রিয়ে তিনি এমন আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী টেনিস খেলেন যে কোস্তিউক ম্যাচে ফিরতে পারেননি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায়
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ম্যাচটির বাইরে রাজনৈতিক দিকও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়রা রুশ প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সাধারণত ম্যাচ-পূর্ব ছবি তোলেন না এবং ম্যাচ শেষে করমর্দনও করেন না। এই ম্যাচেও সেই চিত্র দেখা গেছে।

শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ
দুই খেলোয়াড়ের এটি ছিল তৃতীয় মুখোমুখি লড়াই। আগের দুই সাক্ষাতে জয় পেয়েছিলেন কোস্তিউক। তবে এবার আন্দ্রেয়েভা শুরু থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার মিশনে ছিলেন। প্রথম সেটে দ্রুত ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন এবং সহজেই সেটটি জিতে নেন।
দ্বিতীয় সেটে কোস্তিউক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি ব্যবধান কমিয়ে ৪-৩ করেন। কিন্তু এরপরই আবার নিজের সার্ভিস হারিয়ে বসেন। ধারাবাহিক অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা শেষ করে দেয়।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ১ ঘণ্টা ১৬ মিনিটে ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন আন্দ্রেয়েভা।
স্বপ্নপূরণের আনন্দ
ম্যাচ শেষে আন্দ্রেয়েভা জানান, তিনি শুরু থেকেই বেশ চাপে ছিলেন। কারণ কোস্তিউক পুরো মৌসুমে দুর্দান্ত খেলেছেন এবং ক্লে কোর্টে হারেননি।
তিনি বলেন, কোস্তিউক অসাধারণ খেলোয়াড় এবং কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই এই জয় তাকে বিশেষ আনন্দ দিয়েছে। মাদ্রিদের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিতে পেরে এবং প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে উঠতে পেরে তিনি দারুণ উচ্ছ্বসিত।

আন্দ্রেয়েভা আরও বলেন, এত অনুভূতি একসঙ্গে আগে কখনও অনুভব করেননি। প্যারিসে শেষ ম্যাচটি খেলতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
কঠিন আবহাওয়াও বাধা হতে পারেনি
ম্যাচ চলাকালে প্রবল বাতাস খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। কোস্তিউক শুরুতেই ডাবল ফল্ট ও অপ্রয়োজনীয় ভুলের কারণে ছন্দ হারান। অন্যদিকে আন্দ্রেয়েভা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হন।
তার ভাষায়, বাতাসের কারণে বলের দিক বোঝা কঠিন ছিল। তবু তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন যে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। নিজের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে জয়ের পথে নিয়ে গেছে।
এখন শিরোপার লড়াইয়ে আন্দ্রেয়েভার প্রতিপক্ষ হবেন তার স্বদেশী ডায়ানা শ্নাইডার অথবা পোল্যান্ডের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা মাজা খওয়ালিনস্কা। প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থেকে তিনি এখন আর মাত্র এক ধাপ দূরে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















