দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০-এ।
স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২২১ জন রোগী। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ৬৬ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

চলতি বছরজুড়ে হাম পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সরকারি তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম সংক্রমণে ৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পরীক্ষায় নিশ্চিত প্রায় ১০ হাজার রোগী
গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সময়ে পরীক্ষাগারে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এই সংখ্যা প্রমাণ করে যে সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ছাড়িয়েছে
দেশব্যাপী এখন পর্যন্ত হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হওয়া সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ১২ জনে পৌঁছেছে। তবে এর মধ্যে ৬০ হাজার ৮৪ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণ রোধে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য বিভাগও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্কতা ও সচেতনতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















