কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের টানা উত্থান হঠাৎ করেই ধাক্কা খেয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামও বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের অতিমূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নিয়ে নতুন প্রত্যাশা বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি করেছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রযুক্তি শেয়ারগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে।
প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে বাজার পতন
দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। দেশটির প্রযুক্তিনির্ভর প্রধান সূচক একদিনেই ৫ শতাংশ নেমে যায়। গত সপ্তাহে যে সূচকটি রেকর্ড উচ্চতায় ছিল, সেটি এখন সেই অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমেছে।
জাপানের প্রধান শেয়ারসূচকও প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে চিপ উৎপাদন ও প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় পতন দেখা গেছে। তাইওয়ানের বাজারও প্রায় ৪ শতাংশ হারিয়েছে।
![]()
সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের শক্তিশালী তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, সুদের হার কমানোর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। এর ফলে প্রযুক্তি খাতের উচ্চমূল্যের শেয়ার থেকে অনেক বিনিয়োগকারী অর্থ সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সম্ভাবনা নিয়ে বড় কোনো সন্দেহ তৈরি হয়নি। তবে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য সুদের হার কমানো আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
নজরে নতুন শেয়ারবাজারে আসা প্রতিষ্ঠান
আগামী দিনগুলোতে মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজরে রয়েছে। বাজারে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান অন্যান্য সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
এদিকে বিটকয়েনও সাম্প্রতিক সময়ে বড় চাপের মুখে রয়েছে। গত সপ্তাহে এর মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উচ্ছ্বাসে সাময়িক বিরতি দেখা দিয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি থাকবে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে, যা আগামী সপ্তাহগুলোতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















