মিস ইউনিভার্স কেরালা ২০২৬-এর মুকুট জয়ের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ১৯ বছর বয়সী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজিয়াহ লিজ মেজো। তবে তার কাছে এই সাফল্যের চেয়েও বড় অর্জন হলো দীর্ঘদিনের আত্মসন্দেহ ও নিরাপত্তাহীনতাকে জয় করা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কাজিয়াহ জানান, জীবনের একটি বড় সময় তিনি নিজের চেহারা, ব্যক্তিত্ব এবং সামগ্রিকভাবে নিজেকে নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছেন। আত্মবিশ্বাসের অভাবে নিজের স্বাভাবিক ছবি পর্যন্ত রাখতে স্বস্তি পেতেন না।
তিনি বলেন, একসময় নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা এতটাই প্রবল ছিল যে, নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা তার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছিল। তবে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে শুরু করেন।
আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার দীর্ঘ পথ

কাজিয়াহর মতে, আত্মবিশ্বাস রাতারাতি তৈরি হয়নি। যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যক্তিত্বের বিকাশ, নিজের উপস্থাপনা এবং সামগ্রিক আত্মউন্নয়নের ওপর ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হয়েছে তাকে।
তার মানসিক পরিবর্তনের পেছনে একটি ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে—‘ফেক ইট টিল ইউ মেক ইট’। অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছানোর আগে নিজেকে সেই অবস্থানের উপযুক্ত বলে বিশ্বাস করা।
তিনি জানান, নিজেকে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করেছিলেন। মঞ্চে ওঠার সময়ও সেই বিশ্বাস নিয়েই সামনে এগিয়েছেন। শুরুতে অন্যরা তার আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাস করেছে, পরে তিনি নিজেও তা সত্যি বলে অনুভব করতে শুরু করেন।
হরনাজ সান্ধুর অনুপ্রেরণা
ভারতের কেরালা রাজ্যের মাভেলিক্কারার বাসিন্দা কাজিয়াহর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ২০২১ সালে। সে বছর মিস ইউনিভার্স খেতাব জেতেন ভারতের হরনাজ সান্ধু।
কাজিয়াহ জানান, সেটিই ছিল তার দেখা প্রথম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। সে সময় প্রতিযোগিতা সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা না থাকলেও বহু বছর পর ভারতের বিজয় তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

উল্লেখ্য, হরনাজ সান্ধু ২০২১ সালে ভারতের ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মিস ইউনিভার্সের মুকুট জেতেন। এর আগে ভারতকে এই খেতাব এনে দিয়েছিলেন সুস্মিতা সেন ও লারা দত্ত।
সৌন্দর্যের বাইরে আরও অনেক কিছু
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কাজিয়াহ বলেন, অনেকেই মনে করেন এসব আয়োজন কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তার ভাষ্য, এমন প্রতিযোগিতা একজন মানুষকে নিজেকে আবিষ্কার করতে, নিজের কণ্ঠ খুঁজে পেতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। জয় বা পরাজয় যাই হোক না কেন, এই অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, এই যাত্রা তাকে অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং মানসিক দৃঢ়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণ অর্জনে সহায়তা করেছে।
এখন কাজিয়াহর লক্ষ্য আরও বড়। তিনি মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজের যাত্রার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















