০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি ফিলিপাইনের ঐতিহ্যের স্বাদ: মামন ও এনসাইমাদায় তিন বেকশপের গল্প

মেনোপজ নিয়ে নীরবতা ভাঙার সময়: নারীর স্বাস্থ্যসেবায় কেন দরকার বড় পরিবর্তন

একজন নারী চিকিৎসকের কাছে গেলেন। ঘুমহীনতা, শরীরের ব্যথা, হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া—এমন নানা সমস্যায় তিনি ভুগছেন। কিন্তু চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে নেই কোনো স্পষ্ট রোগনির্ণয়, নেই কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা। বিশ্বের বহু নারীর জন্য মেনোপজের অভিজ্ঞতা এখনও এমনই।

নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক পর্যায় হলেও মেনোপজকে ঘিরে সচেতনতা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এর ফলে অসংখ্য নারী প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মেনোপজের প্রভাব শুধু শারীরিক নয়

মেনোপজের সময় হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনিদ্রা, বিষণ্নতা, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, স্মৃতিশক্তির সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি এর মধ্যে অন্যতম। অনেক ক্ষেত্রে এসব সমস্যা দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের এমন এক সময়ে এসব উপসর্গ দেখা দেয় যখন অনেক নারী একই সঙ্গে কর্মজীবন, সন্তান লালন-পালন এবং বয়স্ক পরিবারের সদস্যদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে মেনোপজজনিত সমস্যার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়ে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

মেনোপজ নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের অভাব। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকই এই পর্যায়ের জটিলতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান না। ফলে রোগীরা প্রায়ই সঠিক পরামর্শ বা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

একই সঙ্গে চিকিৎসা পদ্ধতি ও বিভিন্ন থেরাপি নিয়ে বিভ্রান্তিও রয়েছে। ফলে কার্যকর চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক নারী বছরের পর বছর উপসর্গ সহ্য করতে বাধ্য হন।

Why People Don't Trust The Health Care System—And What We Can Do

গবেষণায় এখনও বড় ঘাটতি

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার পরিমাণ এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। মেনোপজ কীভাবে হৃদ্‌স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কিংবা অস্থির স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো না হলে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি বা কার্যকর সমাধান উদ্ভাবন কঠিন হবে।

কী পরিবর্তন প্রয়োজন

মেনোপজ-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা শিক্ষায় এই বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা সম্প্রসারণ, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর নারীদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার বৈষম্য কমানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। কারণ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে সমস্যার সমাধান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

আশার আলো

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেনোপজ নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। আগের প্রজন্ম যেখানে বিষয়টি নিয়ে নীরবে কষ্ট সহ্য করতেন, সেখানে এখন অনেক নারী খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং কর্মক্ষেত্রগুলোও ধীরে ধীরে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন। কারণ মেনোপজ কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি নারীর স্বাস্থ্য, কর্মজীবন ও সামগ্রিক জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’

মেনোপজ নিয়ে নীরবতা ভাঙার সময়: নারীর স্বাস্থ্যসেবায় কেন দরকার বড় পরিবর্তন

০৮:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

একজন নারী চিকিৎসকের কাছে গেলেন। ঘুমহীনতা, শরীরের ব্যথা, হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া—এমন নানা সমস্যায় তিনি ভুগছেন। কিন্তু চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে নেই কোনো স্পষ্ট রোগনির্ণয়, নেই কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা। বিশ্বের বহু নারীর জন্য মেনোপজের অভিজ্ঞতা এখনও এমনই।

নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক পর্যায় হলেও মেনোপজকে ঘিরে সচেতনতা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এর ফলে অসংখ্য নারী প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মেনোপজের প্রভাব শুধু শারীরিক নয়

মেনোপজের সময় হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনিদ্রা, বিষণ্নতা, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, স্মৃতিশক্তির সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি এর মধ্যে অন্যতম। অনেক ক্ষেত্রে এসব সমস্যা দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের এমন এক সময়ে এসব উপসর্গ দেখা দেয় যখন অনেক নারী একই সঙ্গে কর্মজীবন, সন্তান লালন-পালন এবং বয়স্ক পরিবারের সদস্যদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে মেনোপজজনিত সমস্যার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়ে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

মেনোপজ নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের অভাব। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকই এই পর্যায়ের জটিলতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান না। ফলে রোগীরা প্রায়ই সঠিক পরামর্শ বা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

একই সঙ্গে চিকিৎসা পদ্ধতি ও বিভিন্ন থেরাপি নিয়ে বিভ্রান্তিও রয়েছে। ফলে কার্যকর চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক নারী বছরের পর বছর উপসর্গ সহ্য করতে বাধ্য হন।

Why People Don't Trust The Health Care System—And What We Can Do

গবেষণায় এখনও বড় ঘাটতি

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার পরিমাণ এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। মেনোপজ কীভাবে হৃদ্‌স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কিংবা অস্থির স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো না হলে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি বা কার্যকর সমাধান উদ্ভাবন কঠিন হবে।

কী পরিবর্তন প্রয়োজন

মেনোপজ-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা শিক্ষায় এই বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা সম্প্রসারণ, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর নারীদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার বৈষম্য কমানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। কারণ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে সমস্যার সমাধান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

আশার আলো

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেনোপজ নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। আগের প্রজন্ম যেখানে বিষয়টি নিয়ে নীরবে কষ্ট সহ্য করতেন, সেখানে এখন অনেক নারী খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং কর্মক্ষেত্রগুলোও ধীরে ধীরে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন। কারণ মেনোপজ কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি নারীর স্বাস্থ্য, কর্মজীবন ও সামগ্রিক জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।