ঢাকার পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তা
ছয় কার্যদিবসে শেষ হলো বিচার
ঢাকা মেট্রোপলিটন শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন রোববার সকাল ১১টায় রায় পড়া শুরু করেন এবং ১১টা ৩৭ মিনিটে ফাঁসির আদেশ ঘোষণা করেন। এর আগে ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়, ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মাত্র ছয়টি কার্যদিবসে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হ
কীভাবে উন্মোচিত হয়েছিল হত্যাকাণ্ড
গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটে স্কুলে যাওয়ার আগে রামিসাকে ডেকে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তার মা মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সোহেলের ঘরের দরজায় রামিসার জুতা দেখে প্রতিবেশীরা মিলে দরজা ভাঙেন এবং বিছানার নিচে রামিসার শিরশ্ছেদ করা মরদেহ আবিষ্কার করেন। একটি বালতিতে পাওয়া যায় তার মাথা। স্বপ্না খাতুনকে ঘরেই আটক করা হয়, আর সোহেল রানা পালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় লুকিয়ে থাকার সময় গ্রেপ্তার হয়। পরে সে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অপরাধ স্বীকার করে। ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন।
রায়ের পর কী বললেন ভুক্তভোগী পরিবার
রায় ঘোষণার পর রামিসার বাবা হান্নান বলেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং ফাঁসি কার্যকর হলে শতভাগ সন্তুষ্টি পাবেন। তিনি দেশের প্রতিটি রামিসা যেন দ্রুত বিচার পায়, সেই প্রত্যাশাও রাখেন। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু জানান, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন লাগবে। আসামিরা রায়ের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
দ্রুত বিচারের নেপথ্যে সরকারের প্রতিশ্রুতি
এই হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশে তীব্র জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং ২৩ মে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সদ্য গঠিত একটি আদালত যা শুধু শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলা পরিচালনা করে। এই রায় দেশের অন্যান্য শিশু হত্যা মামলায় দ্রুত বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
রামিসা হত্যায় ঢাকায় বিচারের ঐতিহাসিক নজির স্থাপিত হলো। ১৯ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় এটি
মে মাসে পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও শিরশ্ছেদ করে হত্যার মামলায় মাত্র ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রুততম বিচার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















