০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের সর্বোচ্চে, খাদ্যমূল্যের আগুনে পুড়ছেন সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, মে ২০২৬ মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এপ্রিলে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত — দুই খাতেই চাপ

খাদ্য মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৮.৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৯.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও ৯.৫৭ থেকে বেড়ে ৯.৭১ শতাংশ হয়েছে। পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি — ৯.৮৬ শতাংশ। আবাসন ও ইউটিলিটি খাতেও বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৯২ থেকে ৯.২৬ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯.৪৮ শতাংশ, যা শহরের তুলনায় বেশি — কৃষিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চাপ আরও কঠিন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়িয়ে দিচ্ছে চাপ

ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার পর থেকে ইরানি হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের উপরে রয়েছে। বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার ৯৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। ফলে জ্বালানি, সার ও পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি খুচরা মূল্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সাথে বাস্তবতার ফারাক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নিয়েছে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল জুন ২০২৬-এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার। কিন্তু মে মাসের পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্বাদশ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি এখন ৮.৬৩ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের ১০.১৩ শতাংশের চেয়ে কম হলেও এখনো অনেক বেশি।

কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো

মজুরি প্রবৃদ্ধি মে মাসে ছিল ৮.২১ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির প্রায় সমান। ফলে কার্যকরভাবে বাস্তব আয় বাড়ছে না। বিশেষ করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা বেশি চাপে আছেন। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকার মতো এলাকায় সরকারের ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, বাজারে আগুন। বাজেট অধিবেশনে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের সর্বোচ্চে, খাদ্যমূল্যের আগুনে পুড়ছেন সাধারণ মানুষ

০৭:২৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, মে ২০২৬ মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এপ্রিলে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত — দুই খাতেই চাপ

খাদ্য মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৮.৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৯.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও ৯.৫৭ থেকে বেড়ে ৯.৭১ শতাংশ হয়েছে। পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি — ৯.৮৬ শতাংশ। আবাসন ও ইউটিলিটি খাতেও বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৯২ থেকে ৯.২৬ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯.৪৮ শতাংশ, যা শহরের তুলনায় বেশি — কৃষিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চাপ আরও কঠিন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়িয়ে দিচ্ছে চাপ

ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার পর থেকে ইরানি হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের উপরে রয়েছে। বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার ৯৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। ফলে জ্বালানি, সার ও পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি খুচরা মূল্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সাথে বাস্তবতার ফারাক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নিয়েছে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল জুন ২০২৬-এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার। কিন্তু মে মাসের পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্বাদশ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি এখন ৮.৬৩ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের ১০.১৩ শতাংশের চেয়ে কম হলেও এখনো অনেক বেশি।

কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো

মজুরি প্রবৃদ্ধি মে মাসে ছিল ৮.২১ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির প্রায় সমান। ফলে কার্যকরভাবে বাস্তব আয় বাড়ছে না। বিশেষ করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা বেশি চাপে আছেন। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকার মতো এলাকায় সরকারের ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, বাজারে আগুন। বাজেট অধিবেশনে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।