ঈদুল আযহার আগে দেশে অর্থ পাঠানোর ঢেউয়ে মে ২০২৬ মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এটি গত বছরের মে মাসের তুলনায় ১৫.৩৪ শতাংশ বেশি। একই সাথে এটি টানা ষষ্ঠ মাস, যখন মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল।
চলতি অর্থবছরে বিশাল প্রবৃদ্ধি
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২.৭৫ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৭.৫ বিলিয়ন ডলার — প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ। মার্চ মাসে ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্স ছিল ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা এই অর্থবছরের একক মাসের সর্বোচ্চ।
কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন। প্রথমত, ঈদের আগে প্রবাসীরা পরিবারকে বেশি অর্থ পাঠান। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময়মূল্য কিছুটা বেড়েছে, ফলে প্রবাসীরা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে পাঠিয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। তৃতীয়ত, সরকারের আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি রেমিট্যান্স প্রবাহকে ব্যাংকিং চ্যানেলে ধরে রেখেছে।
রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব
রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ১ জুন পর্যন্ত আইএমএফ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩০.১ বিলিয়ন ডলার এবং মোট গ্রস রিজার্ভ প্রায় ৩৪.৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মেরকেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাতি উল হাসান বলেন, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির এই ধারা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানকে স্থিতিশীল রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকি থাকলেও প্রবাহ চলছে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নির্মাণ ও ব্যবসার কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ এখনো শক্তিশালী। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়বে এবং তখন রেমিট্যান্স কমতে পারে।
ষষ্ঠ মাসেও ৩ বিলিয়নের উপরে রেমিট্যান্স, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিকে সংকটে সামলে রাখছে।
মে ২০২৬-এ রেমিট্যান্স ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার — টানা ষষ্ঠ মাসে ৩ বিলিয়ন ছাড়াল, বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















