০৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
নর্ডিক ওয়াকিং: হাঁটলেই মিলবে শরীরের প্রায় সব পেশির ব্যায়াম থাইল্যান্ডে ইতালীয় শিক্ষার্থীদের অসদাচরণে তীব্র ক্ষোভ, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল ইতালির দূতাবাস ৯ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা প্যারিসে তিন নারীকে ছুরিকাঘাত, ‘আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন’ দাবি; তবু সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স প্রবীণদের ভুলে যাচ্ছে সমাজ, বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশের ভয়াবহ বোঝা খাবার নিয়ে ‘খেলা’! মৃত মাছকে আঘাত করে টুকরো টুকরো করছে ঘাতক তিমি ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিতর্কে আবারও আলোচনায় রেনে রিচার্ডস পাসওয়ার্ড না জেনেও এআইকে দিয়ে লগইন, বাড়ছে সুবিধার সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি হাঙ্গেরি গ্রাঁ প্রিতে নরিসের দাপুটে জয়, মৌসুমে প্রথম ম্যাকলারেন জয়ের উচ্ছ্বাস মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য বড় পরীক্ষা, ১০০ দিন আগেই হাউস হারানোর শঙ্কা

তনু হত্যা মামলায় দুই পলাতক আসামিকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল আদালত

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। কুমিল্লার একটি আদালত মামলার দুই পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

আদালত তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর প্রস্তুত করা তদন্ত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য নথি।

পলাতক দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত এই নির্দেশ দেন। মামলার দুই সন্দেহভাজন হলেন সাবেক সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহিন আলম।তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তারা কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

তনু হত্যা : ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার | NTV Online

তদন্তে উঠে এসেছে, মামলার অগ্রগতির এক পর্যায়ে তারা দেশ ছেড়ে চলে যান এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, এখন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ তাদের সম্পৃক্ততার যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের উপস্থিতি জরুরি।

সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন চাইল আদালত

আদালতে দাখিল করা আরেক আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র ছাড়াই হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হয়েছিল। তাই সেনাবাহিনীর প্রস্তুত করা অনুসন্ধান প্রতিবেদন মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও নথিপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ তদন্তে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন ডিএনএ তথ্যের ইঙ্গিত

তদন্তে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনা বিশ্লেষণে নতুন তথ্যও সামনে এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় তার পোশাকে চারজন ব্যক্তির নমুনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের বীর্যের নমুনা এবং একজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে।

তিন ব্যক্তির বীর্যের নমুনার তথ্য আগে জানা গেলেও সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া রক্তের নমুনা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যাত্রা শুরু করল ই-পারিবারিক আদালত

আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত এপ্রিল মাসে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যার সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

যে ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু একটি বাসায় পড়াতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলে। এক দশক পেরিয়ে গেলেও মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো জনমনে গভীর আগ্রহের বিষয় হয়ে রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নর্ডিক ওয়াকিং: হাঁটলেই মিলবে শরীরের প্রায় সব পেশির ব্যায়াম

তনু হত্যা মামলায় দুই পলাতক আসামিকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল আদালত

১২:৪৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। কুমিল্লার একটি আদালত মামলার দুই পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

আদালত তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর প্রস্তুত করা তদন্ত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য নথি।

পলাতক দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত এই নির্দেশ দেন। মামলার দুই সন্দেহভাজন হলেন সাবেক সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহিন আলম।তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তারা কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

তনু হত্যা : ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার | NTV Online

তদন্তে উঠে এসেছে, মামলার অগ্রগতির এক পর্যায়ে তারা দেশ ছেড়ে চলে যান এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, এখন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ তাদের সম্পৃক্ততার যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের উপস্থিতি জরুরি।

সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন চাইল আদালত

আদালতে দাখিল করা আরেক আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র ছাড়াই হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হয়েছিল। তাই সেনাবাহিনীর প্রস্তুত করা অনুসন্ধান প্রতিবেদন মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও নথিপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ তদন্তে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন ডিএনএ তথ্যের ইঙ্গিত

তদন্তে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনা বিশ্লেষণে নতুন তথ্যও সামনে এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় তার পোশাকে চারজন ব্যক্তির নমুনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের বীর্যের নমুনা এবং একজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে।

তিন ব্যক্তির বীর্যের নমুনার তথ্য আগে জানা গেলেও সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া রক্তের নমুনা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যাত্রা শুরু করল ই-পারিবারিক আদালত

আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত এপ্রিল মাসে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যার সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

যে ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু একটি বাসায় পড়াতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলে। এক দশক পেরিয়ে গেলেও মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো জনমনে গভীর আগ্রহের বিষয় হয়ে রয়েছে।