যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী টড ব্ল্যাঞ্চকে দেশটির স্থায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এখন তাঁর নিয়োগ কার্যকর হতে হলে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন, আর সেখানেই বড় ধরনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে পাম বন্ডি দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে টড ব্ল্যাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বেশ কয়েকটি আলোচিত পদক্ষেপ নেন, যার মধ্যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ
হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে ব্ল্যাঞ্চের মনোনয়নের নথি সিনেটে পাঠিয়েছে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প এক অনুষ্ঠানে তাঁর মনোনয়নের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঘোষণার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

এখন সিনেটে তাঁর অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের সমর্থন অপরিহার্য। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমর্থন নিশ্চিত নয়।
বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ছায়া
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্ল্যাঞ্চের কিছু পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল তৈরির উদ্যোগ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবির থেকেই আপত্তি ওঠে। পরে প্রশাসন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
এই বিষয়টি এখন তাঁর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিরোধীরা দাবি করছে, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে সিনেটে তাঁর অনুমোদন সহজ হবে না।
আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী
টড ব্ল্যাঞ্চ দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের আইনগত প্রতিরক্ষা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। নিউইয়র্কে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় তিনি ট্রাম্পের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন। এছাড়া গোপন নথি সংরক্ষণ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে আনা ফেডারেল মামলাগুলোতেও তিনি প্রতিরক্ষা দলের সদস্য ছিলেন।

এ কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি একজন বিশ্বস্ত আইনজীবী হলেও সমালোচকদের কাছে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এমন সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন নানা রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। অর্থনীতি, বৈদেশিক নীতি এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে টড ব্ল্যাঞ্চের মনোনয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সিনেটে তাঁর অনুমোদন হবে কি না, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















