ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে জর্ডানের আকাশসীমার কাছে। বৃহস্পতিবার জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আজরাক এলাকার দিকে ছোড়া হয়েছিল। তবে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আজরাককে ঘিরে উত্তেজনা
আজরাক অঞ্চলটি সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ওই এলাকায় একটি জর্ডানীয় বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের আলোচনায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের ঘটনার আগে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তারা আজরাকে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও জর্ডান জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

টানা দ্বিতীয় দিনের হামলা
জর্ডানের সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগের দিনও একই এলাকার দিকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। অর্থাৎ আজরাক অঞ্চলকে লক্ষ্য করে টানা দুই দিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ও পাল্টা প্রতিরোধের ঘটনা ঘটল।
এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়ছে। বিশেষ করে এমন অঞ্চলগুলো, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বা সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে, সেগুলো এখন বাড়তি নজরদারির আওতায় এসেছে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/AmmanJordanSylvesterAdamsviaGetty-56a042473df78cafdaa0b710.jpg)
ক্ষয়ক্ষতি হয়নি
জর্ডানের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলার ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়নি। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আজরাককে কেন্দ্র করে নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘটনার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে জর্ডান এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















