ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে, তখন জনপ্রিয় জাপানি মাঙ্গা ও অ্যানিমে সিরিজ ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’কে নিজেদের এআই ভিডিও প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে পিক্সভার্স। এর ফলে ব্যবহারকারীরা এখন এই বিখ্যাত সিরিজের চরিত্রদের নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।
সিঙ্গাপুর ও বেইজিংভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পিক্সভার্স ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’র স্রষ্টা ইয়োইচি তাকাহাশির মেধাস্বত্ব পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টসুবাসা কোম্পানির কাছ থেকে এ অধিকার অর্জন করেছে। টোকিওভিত্তিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান নেক্সিজ.গ্রুপের সহযোগিতায় সম্পন্ন হওয়া এই অংশীদারিত্ব বিশ্বকাপ চলাকালীন ২৬ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত কনটেন্টে ঝুঁকছে এআই শিল্প
পিক্সভার্সের এই পদক্ষেপ এআই ভিডিও শিল্পে একটি বড় প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত সম্প্রসারণশীল এই খাতে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি কপিরাইট ও সৃজনশীল অধিকার নিয়েও বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয় চরিত্র, গল্প ও ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স সংগ্রহে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, লাইসেন্সভিত্তিক সহযোগিতা কেবল মেধাস্বত্বের মালিকদের নতুন আয় ও অংশগ্রহণের সুযোগই তৈরি করে না, বরং কপিরাইট সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এ জন্য তারা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও মানব পর্যবেক্ষণের সমন্বয়ে কনটেন্ট যাচাই করে থাকে।

ভক্তদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা
পিক্সভার্সের ছবি ও ভিডিও তৈরির টুল ব্যবহার করে ভক্তরা ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’র চরিত্রদের নিয়ে নিজস্ব কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন। বিশেষ টেমপ্লেটের মাধ্যমে নিজেদের ছবি আপলোড করে সিরিজের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো পুনর্নির্মাণের সুযোগও থাকছে। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রিয় ফুটবল নায়কদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বা তাদের সঙ্গে একই দৃশ্যে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা পেতে পারেন।
পিক্সভার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট জেডেন শি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’কে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে পারা তাদের জন্য শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দের বিষয়। কারণ তারাও এই সিরিজের দীর্ঘদিনের ভক্ত।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ এআই প্রযুক্তি ও জনপ্রিয় গল্পভিত্তিক কনটেন্টের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এসব জনপ্রিয় চরিত্রকে আরও পরিচিত করে তুলবে।
চার দশকের জনপ্রিয় এক ফুটবল গল্প
১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’ বিশ্বজুড়ে ৯ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। এটি ২০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ফুটবলভিত্তিক মাঙ্গা হিসেবে বিবেচিত হয়।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুবাসা ওজোরা, যার স্বপ্ন একদিন জাপানের হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ জেতা। বহু আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা, যেমন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো ও লিওনেল মেসি বিভিন্ন সময়ে এই সিরিজ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা বলেছেন।
দ্রুত উত্থান পিক্সভার্সের
পিক্সভার্স হলো বেইজিংভিত্তিক এআইস্ফিয়ারের আন্তর্জাতিক শাখা। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে বাইটড্যান্সের সাবেক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি প্রধান ওয়াং চাংহু প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়ন পেয়ে ইউনিকর্ন স্টার্টআপের মর্যাদা অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে তাদের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। টেক্সট, ছবি কিংবা বিদ্যমান ভিডিও ক্লিপ থেকে নতুন ভিডিও তৈরির সুবিধার পাশাপাশি উন্নত দৃশ্য পরিকল্পনা ও স্টোরিবোর্ড তৈরির সরঞ্জামও রয়েছে তাদের প্ল্যাটফর্মে।
বিশ্বকাপের সময়ে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’কে ঘিরে এই উদ্যোগ এআই প্রযুক্তি ও বিনোদন শিল্পের সমন্বয়ের একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে পিক্সভার্সে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’ যুক্ত হওয়ায় ভক্তরা এআই ব্যবহার করে নিজেদের পছন্দের ফুটবল গল্প ও ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















