বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা জেএলআর চীনের দুর্বল বাজার পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। তবে নতুন আর্থিক বছরে কোম্পানিটি মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
এই ঘোষণার পর জেএলআরের মূল প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরসের শেয়ারের দাম একসময় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। কারণ, টাটা মোটরসের মোট আয়ের বড় অংশই আসে জেএলআরের ব্যবসা থেকে।
কঠিন সময় পার করছে জেএলআর
গত এক বছরে বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পের মতো জেএলআরও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্ক, সাইবার হামলার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ কোম্পানির কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ফলে গত অর্থবছরে কোম্পানির মুনাফার হার নেমে আসে মাত্র ০.৭ শতাংশে। কয়েক বছর আগেও এই হার ছিল প্রায় দ্বিগুণ অঙ্কের। নতুন অর্থবছরে ৪ শতাংশ মুনাফার পূর্বাভাস আগের তুলনায় উন্নতি হলেও কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি ১০ শতাংশ লক্ষ্যের তুলনায় তা অনেক কম।
যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিকল্পনা
জেএলআর মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের মধ্যে বিলাসবহুল গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি মুনাফার গাড়ি বিক্রি করে আয় বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসার আকার এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যা বর্তমানে পুরো জেএলআরের বৈশ্বিক ব্যবসার সমান হতে পারে। উত্তর আমেরিকায় নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে নতুন অংশীদারিত্ব এবং বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
চীনের বাজারে চাপ
একসময় জেএলআরের অন্যতম বড় প্রবৃদ্ধির উৎস ছিল চীন। বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজার হিসেবে দেশটি কোম্পানির বিক্রি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
কিন্তু বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক গতি কমে যাওয়া এবং স্থানীয় গাড়ি নির্মাতাদের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর জন্য ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কোম্পানিটি এখন বিকল্প বাজারে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।
হাইব্রিড প্রযুক্তিতে নতুন বিনিয়োগ
বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের সম্প্রসারণ প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হওয়ায় জেএলআর তাদের কৌশলেও পরিবর্তন আনছে। কোম্পানিটি এখন বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির পাশাপাশি হাইব্রিড প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেঞ্জ রোভার, ডিফেন্ডার ও ডিসকভারি ব্র্যান্ডের গাড়িগুলোতে হাইব্রিড প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
খরচ কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত
জেএলআর আগামী দুই বছরে ব্যয় কমানোর কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে লাভ-ক্ষতি সমান পর্যায়ে আনতে যে পরিমাণ গাড়ি বিক্রির প্রয়োজন হয়, সেই লক্ষ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
এর পাশাপাশি কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কর্মসূচিও অপরিবর্তিত রেখেছে, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের বাজারে ধীরগতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক এই নতুন কৌশল জেএলআরের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক অবস্থান কতটা শক্তিশালী করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাখছে বিনিয়োগকারীরা।
চীনের দুর্বল বাজারের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েছে জেএলআর। মুনাফা বাড়াতে হাইব্রিড প্রযুক্তিতেও জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















