মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের একটি পাহাড়ি রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আলোচনার সূচনাতেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ। ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এক সপ্তাহ আগে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক গৃহীত হয়েছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর কথা ছিল। কিন্তু লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের যেকোনো অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি সীমিত থাকবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও বহু বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এ পথ অতিক্রম করেছে।
তেলবাজারে নতুন উদ্বেগ
সমঝোতা ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আলোচনার মূল বিষয়
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিয়েছে কাতার ও পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, আর ইরানের পক্ষে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের শীর্ষ নেতা এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
দুই পক্ষের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। সমঝোতা অনুযায়ী আগামী দুই মাসে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
লেবানন পরিস্থিতি এখনো অস্থির
যুদ্ধবিরতির একাধিক ঘোষণা এলেও লেবাননে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। সাম্প্রতিক হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে এখনো অবিস্ফোরিত বোমা ও গোলাবারুদ রয়ে গেছে। ফলে বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন
যুদ্ধ শুরুর সময় যেসব লক্ষ্য সামনে আনা হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই এখনো পূরণ হয়নি বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও চূড়ান্ত সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, চলমান সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা। তেলবাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















