ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পারভানি জেলার একটি মন্দিরে নির্মাণাধীন হলঘরের ছাদ ধসে অন্তত সাতজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যখন সাপ্তাহিক প্রার্থনা ও সামষ্টিক ভোজে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ৩২ জনকে বের করে আনেন। তাদের মধ্যে সাতজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাঝেই বিপর্যয়
দুর্ঘটনাটি ঘটে হনুমান মন্দির চত্বরে নির্মাণাধীন একটি হলঘরে। প্রতি শনিবার এই মন্দিরে পারভানি ও আশপাশের জেলা থেকে বহু ভক্ত সমবেত হন। দর্শন, কীর্তন এবং মহাপ্রসাদ বিতরণকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণ সবসময়ই সরগরম থাকে।
ঘটনার সময় হলঘরটিতে ধর্মীয় কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ ছাদ ভেঙে পড়লে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দঘন পরিবেশ শোকে পরিণত হয়।
দুই ঘণ্টার বেশি চলে উদ্ধার অভিযান
খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনা হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।
ধসের কারণ অনুসন্ধান
কী কারণে নির্মাণাধীন হলঘরটির ছাদ ধসে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্বজন এবং নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা মন্দির ও হাসপাতাল এলাকায় ভিড় করেন। প্রিয়জনদের খোঁজে তাদের উৎকণ্ঠা ও শোকের দৃশ্য পরিস্থিতিকে আরও বেদনাদায়ক করে তোলে।
সহায়তার ঘোষণা
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক নিহতের নিকটাত্মীয়কে পাঁচ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের পারভানিতে মন্দিরের নির্মাণাধীন হলঘরের ছাদ ধসে ৭ জন নিহত ও ২৫ জন আহত। ধসের কারণ তদন্ত করছে প্রশাসন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















