দীর্ঘ কয়েক দশকের সীমাবদ্ধতার পর ভারতের আসাম রাজ্যে ভ্রমণ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সতর্কতা ও বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইউরোপের ২৭টি দেশের নাগরিকরা এখন আরও সহজে আসাম সফরের সুযোগ পাবেন। রাজ্য সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে আসামের প্রতি বাড়তে থাকা আস্থা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তির প্রতিফলন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শনিবার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রাজ্য প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে সদস্যভুক্ত ২৭টি দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য আসাম ভ্রমণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধ নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে। তিনি এটিকে রাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধের ইতিহাস
আসামে ভ্রমণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কতার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া আসাম আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে উগ্রপন্থী তৎপরতার কারণে ইউরোপ, ওশেনিয়া ও আমেরিকার অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আসাম দীর্ঘদিন বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ
রাজ্য সরকারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আসামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিকদের সফর এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানও তাদের নাগরিকদের জন্য আসাম ভ্রমণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তুলে নিয়েছিল। ২০২৫ সালে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর এসব দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে বলে রাজ্য সরকার মনে করছে।
বিনিয়োগ ও পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাবের আশা
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সিদ্ধান্ত আসামের পর্যটন, বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকার মনে করছে, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ আসামকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও আসামের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হবে।
আসামের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন। ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সিদ্ধান্ত সেই পথকে আরও সুগম করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মেটা বর্ণনা: আসামে ভ্রমণ নিয়ে ইউরোপের ২৭ দেশের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার। পর্যটন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা তৈরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















