০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি জাতিসংঘ অধিবেশনে গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান পাকিস্তানের থার্ড পার্টি অ্যাপ হ্যাক করে বিগকমার্সের ক্রেতাদের তথ্য ফাঁস ইসলামাবাদে পিটিআই নেতাদের বাড়িতে অভিযানের অভিযোগ, এসএসপিকে তলব হাইকোর্টের পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায়

ভারতে তীব্র গরমে দিনমজুরের সুরক্ষা, তাপমাত্রা বাড়লেই মিলছে আর্থিক সহায়তা

প্রচণ্ড গরম এখন শুধু অস্বস্তির কারণ নয়, এটি লাখো অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকের জীবিকা ও স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। নির্মাণশ্রমিক, চালক, ডেলিভারি কর্মী কিংবা খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষদের জন্য তাই নতুন ধরনের একটি বীমা ব্যবস্থা আলোচনায় এসেছে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সীমার ওপরে তাপমাত্রা উঠলেই শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ জমা পড়ে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন একটি উদ্যোগ ইতোমধ্যে হাজারো শ্রমিকের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। অনেক শ্রমিকই বলছেন, অতিরিক্ত গরমের সময় কাজ কমে গেলে বা বিশ্রাম নিতে হলে এই অর্থ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়।

তাপমাত্রাই নির্ধারণ করছে ক্ষতিপূরণ

এই বিশেষ বীমা পদ্ধতিকে বলা হয় ‘প্যারামেট্রিক বীমা’। প্রচলিত বীমার মতো এখানে আলাদা করে দাবি জানাতে হয় না বা ক্ষতির প্রমাণ জমা দিতে হয় না। নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুদূষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সূচক নির্ধারণ করা হয়।

যখন সেই সূচক পূর্বনির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়। ফলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ঝামেলা ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত সহায়তা পান।

চলতি বছরে দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় চার হাজার অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক এই কর্মসূচির আওতায় যুক্ত হয়েছেন। গত বছরও তীব্র গরমের সময় শত শত শ্রমিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন।

Too hot to work, too poor to stop: How insurance protects India's informal  workers during heatwaves | The Star

তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে

আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতে তাপপ্রবাহের প্রবণতা বাড়ছে। চলতি বছরও দেশের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরমের পূর্বাভাস রয়েছে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে পৌঁছেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনোর প্রভাব দেখা দিতে পারে। সাধারণত এল নিনো বর্ষাকে দুর্বল করে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও আয়ের মধ্যে বেছে নেওয়ার চাপ

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহের শুরুতেই সামান্য আর্থিক সহায়তা পেলে শ্রমিকরা দিনের অপেক্ষাকৃত শীতল সময়ে কাজ করার সুযোগ পান। এতে তাদের বিশ্রামের সময় বাড়ে এবং মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও কমে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বীমা শুধু অর্থ সহায়তা নয়, শ্রমিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। এতে তারা জীবিকার প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন না।

কারা দিচ্ছে অর্থ?

বর্তমানে এ ধরনের বেশিরভাগ কর্মসূচির প্রিমিয়াম শ্রমিকরা নিজেরা পরিশোধ করেন না। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অর্থায়নে এসব প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থাকে টেকসই করতে সরকারি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কারণ বাইরের সহায়তা ছাড়া এমন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে শ্রমিকদের সুরক্ষায় এ ধরনের বীমা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তীব্র গরমে অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য নতুন বীমা ব্যবস্থা। তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালেই মিলছে স্বয়ংক্রিয় আর্থিক সহায়তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি

ভারতে তীব্র গরমে দিনমজুরের সুরক্ষা, তাপমাত্রা বাড়লেই মিলছে আর্থিক সহায়তা

০৭:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

প্রচণ্ড গরম এখন শুধু অস্বস্তির কারণ নয়, এটি লাখো অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকের জীবিকা ও স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। নির্মাণশ্রমিক, চালক, ডেলিভারি কর্মী কিংবা খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষদের জন্য তাই নতুন ধরনের একটি বীমা ব্যবস্থা আলোচনায় এসেছে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সীমার ওপরে তাপমাত্রা উঠলেই শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ জমা পড়ে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন একটি উদ্যোগ ইতোমধ্যে হাজারো শ্রমিকের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। অনেক শ্রমিকই বলছেন, অতিরিক্ত গরমের সময় কাজ কমে গেলে বা বিশ্রাম নিতে হলে এই অর্থ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়।

তাপমাত্রাই নির্ধারণ করছে ক্ষতিপূরণ

এই বিশেষ বীমা পদ্ধতিকে বলা হয় ‘প্যারামেট্রিক বীমা’। প্রচলিত বীমার মতো এখানে আলাদা করে দাবি জানাতে হয় না বা ক্ষতির প্রমাণ জমা দিতে হয় না। নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুদূষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সূচক নির্ধারণ করা হয়।

যখন সেই সূচক পূর্বনির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়। ফলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ঝামেলা ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত সহায়তা পান।

চলতি বছরে দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় চার হাজার অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক এই কর্মসূচির আওতায় যুক্ত হয়েছেন। গত বছরও তীব্র গরমের সময় শত শত শ্রমিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন।

Too hot to work, too poor to stop: How insurance protects India's informal  workers during heatwaves | The Star

তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে

আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতে তাপপ্রবাহের প্রবণতা বাড়ছে। চলতি বছরও দেশের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরমের পূর্বাভাস রয়েছে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে পৌঁছেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনোর প্রভাব দেখা দিতে পারে। সাধারণত এল নিনো বর্ষাকে দুর্বল করে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও আয়ের মধ্যে বেছে নেওয়ার চাপ

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহের শুরুতেই সামান্য আর্থিক সহায়তা পেলে শ্রমিকরা দিনের অপেক্ষাকৃত শীতল সময়ে কাজ করার সুযোগ পান। এতে তাদের বিশ্রামের সময় বাড়ে এবং মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও কমে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বীমা শুধু অর্থ সহায়তা নয়, শ্রমিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। এতে তারা জীবিকার প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন না।

কারা দিচ্ছে অর্থ?

বর্তমানে এ ধরনের বেশিরভাগ কর্মসূচির প্রিমিয়াম শ্রমিকরা নিজেরা পরিশোধ করেন না। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অর্থায়নে এসব প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থাকে টেকসই করতে সরকারি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কারণ বাইরের সহায়তা ছাড়া এমন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে শ্রমিকদের সুরক্ষায় এ ধরনের বীমা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তীব্র গরমে অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য নতুন বীমা ব্যবস্থা। তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালেই মিলছে স্বয়ংক্রিয় আর্থিক সহায়তা।