১০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুদ্ধ: মানবতার সামনে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা নিখোঁজের ছয় দিন পর ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে সহপাঠী চীনের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ, হরমুজ খুললেও মধ্যপ্রাচ্যের তেলে দ্রুত ফিরছে না বেইজিং স্কুলে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পিটিএ জরুরি, বলছেন শিক্ষাবিদরা কাজাখস্তানে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: কম অপচয়ে বাড়ছে ফলন, বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র ২০২৬ সালে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে নতুন ঝুঁকি: দাম বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা নতুন দুই মৃত্যু, ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৯; আক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, জমি বিরোধে বরিশালে চাঞ্চল্য গাইবান্ধায় স্কুল পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিবির নেতা নিহত তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারে পানি বৃদ্ধি, রংপুরে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

কাজাখস্তানে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: কম অপচয়ে বাড়ছে ফলন, বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র

দক্ষিণ কাজাখস্তানের শিমকেন্ট অঞ্চলের কৃষক আতাবেক কোঝাবেকভ এ বছরের তুলা মৌসুম নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, উন্নত সেচ ব্যবস্থার কারণে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদনশীলতা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতি হেক্টরে ৬ হাজার ৫০০ কেজি তুলা উৎপাদন করছেন, যা দিয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি টি-শার্ট তৈরি করা সম্ভব। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সময়মতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ‘সেকেন্ড ইরিগেশন অ্যান্ড ড্রেনেজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (আইডিআইপি-২) দক্ষিণ কাজাখস্তানের কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। দেশটির সরকার পাঁচটি অঞ্চলে সেচ ও নিষ্কাশন অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অবকাঠামো পুনর্গঠনের বড় উদ্যোগ

কিজিলোরদা, ঝাম্বিল, তুর্কিস্তান এবং আলমাটি অঞ্চলে প্রকল্পের আওতায় ৮১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাকা খাল, ২ হাজার ৩২৫ কিলোমিটার মাটির সেকেন্ডারি খাল এবং ২৮ হাজার ৮০০টির বেশি জলনিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর ফলে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি উন্নত সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার আওতায় এসেছে।

প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। কিজিলকুম এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় এখন দূরবর্তীভাবে পাম্প নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পানির উচ্চতা ও চাপ পরিমাপকারী সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেও ব্যাকআপ ব্যাটারির মাধ্যমে দুই দিন পর্যন্ত তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত থাকে।

রিয়েল-টাইম নজরদারিতে কমছে অপচয়

প্রকল্প এলাকার ১৪৭ কিলোমিটার খালে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। আগে যে পানি অপচয় অজান্তেই ঘটত, এখন তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে।

কিছু এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের সুযোগ না থাকায় প্রকৌশলীরা বিটুমিন জিওমেমব্রেন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। দ্রুত স্থাপনযোগ্য এই আবরণ ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত টেকসই থাকে এবং এর কার্যকারিতা কংক্রিট খালের সমতুল্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Kazakhstan's Irrigation Overhaul: Less Waste, Better Harvests

টেকসই ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের অংশগ্রহণ

অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পরিচালনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, কৃষকদের পানি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তকরণ এবং কৃষি আয়ভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রকল্প শেষে এক লাখ হেক্টর জমি অন্তর্ভুক্ত ১১টি সেচ প্রকল্প উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৭৪ হেক্টর জমি ও ৪৩০টি খামার নিয়ে গঠিত দুটি পাইলট কৃষি সমবায় সরাসরি অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। কাজাখস্তান সরকার এই মডেল সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

ফসল, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উন্নয়ন

নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহের পাশাপাশি ১০ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে পানি ব্যবস্থাপনা, ফসল পর্যায়ক্রমিক চাষ এবং পানি-সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা শক্তিশালী হয়েছে।

প্রকল্পটি সরাসরি ১ লাখ ৮ হাজার ২৩৪ জন পানি ব্যবহারকারীকে উপকৃত করেছে, যাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ নারী। এটি দেশটির কৃষি খাতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রতিফলন।

এ ছাড়া উন্নত সেচ সুবিধার ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খাল নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, পাম্প স্টেশন পরিচালনা এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় স্থানীয় ও তরুণ কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে তারা নতুন দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রকল্পটির সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক লাভ বা আধুনিক খালের দৈর্ঘ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত অর্জন হলো দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত কৃষি উৎপাদন এবং এমন একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও কৃষিকে আরও স্থিতিশীল ও উৎপাদনশীল করে তুলবে।

কাজাখস্তানের আধুনিক সেচ প্রকল্পে এক লাখ হেক্টরের বেশি জমি উপকৃত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত পানি ব্যবস্থাপনায় বেড়েছে ফলন, কমেছে অপচয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুদ্ধ: মানবতার সামনে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা

কাজাখস্তানে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: কম অপচয়ে বাড়ছে ফলন, বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র

০৯:১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

দক্ষিণ কাজাখস্তানের শিমকেন্ট অঞ্চলের কৃষক আতাবেক কোঝাবেকভ এ বছরের তুলা মৌসুম নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, উন্নত সেচ ব্যবস্থার কারণে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদনশীলতা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতি হেক্টরে ৬ হাজার ৫০০ কেজি তুলা উৎপাদন করছেন, যা দিয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি টি-শার্ট তৈরি করা সম্ভব। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সময়মতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ‘সেকেন্ড ইরিগেশন অ্যান্ড ড্রেনেজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (আইডিআইপি-২) দক্ষিণ কাজাখস্তানের কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। দেশটির সরকার পাঁচটি অঞ্চলে সেচ ও নিষ্কাশন অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অবকাঠামো পুনর্গঠনের বড় উদ্যোগ

কিজিলোরদা, ঝাম্বিল, তুর্কিস্তান এবং আলমাটি অঞ্চলে প্রকল্পের আওতায় ৮১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাকা খাল, ২ হাজার ৩২৫ কিলোমিটার মাটির সেকেন্ডারি খাল এবং ২৮ হাজার ৮০০টির বেশি জলনিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর ফলে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি উন্নত সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার আওতায় এসেছে।

প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। কিজিলকুম এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় এখন দূরবর্তীভাবে পাম্প নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পানির উচ্চতা ও চাপ পরিমাপকারী সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেও ব্যাকআপ ব্যাটারির মাধ্যমে দুই দিন পর্যন্ত তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত থাকে।

রিয়েল-টাইম নজরদারিতে কমছে অপচয়

প্রকল্প এলাকার ১৪৭ কিলোমিটার খালে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। আগে যে পানি অপচয় অজান্তেই ঘটত, এখন তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে।

কিছু এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের সুযোগ না থাকায় প্রকৌশলীরা বিটুমিন জিওমেমব্রেন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। দ্রুত স্থাপনযোগ্য এই আবরণ ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত টেকসই থাকে এবং এর কার্যকারিতা কংক্রিট খালের সমতুল্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Kazakhstan's Irrigation Overhaul: Less Waste, Better Harvests

টেকসই ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের অংশগ্রহণ

অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পরিচালনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, কৃষকদের পানি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তকরণ এবং কৃষি আয়ভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রকল্প শেষে এক লাখ হেক্টর জমি অন্তর্ভুক্ত ১১টি সেচ প্রকল্প উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৭৪ হেক্টর জমি ও ৪৩০টি খামার নিয়ে গঠিত দুটি পাইলট কৃষি সমবায় সরাসরি অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। কাজাখস্তান সরকার এই মডেল সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

ফসল, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উন্নয়ন

নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহের পাশাপাশি ১০ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে পানি ব্যবস্থাপনা, ফসল পর্যায়ক্রমিক চাষ এবং পানি-সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা শক্তিশালী হয়েছে।

প্রকল্পটি সরাসরি ১ লাখ ৮ হাজার ২৩৪ জন পানি ব্যবহারকারীকে উপকৃত করেছে, যাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ নারী। এটি দেশটির কৃষি খাতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রতিফলন।

এ ছাড়া উন্নত সেচ সুবিধার ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খাল নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, পাম্প স্টেশন পরিচালনা এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় স্থানীয় ও তরুণ কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে তারা নতুন দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রকল্পটির সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক লাভ বা আধুনিক খালের দৈর্ঘ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত অর্জন হলো দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত কৃষি উৎপাদন এবং এমন একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও কৃষিকে আরও স্থিতিশীল ও উৎপাদনশীল করে তুলবে।

কাজাখস্তানের আধুনিক সেচ প্রকল্পে এক লাখ হেক্টরের বেশি জমি উপকৃত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত পানি ব্যবস্থাপনায় বেড়েছে ফলন, কমেছে অপচয়।