০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে হঠাৎ ধাক্কা, জুলাইয়ে ২৩ হাজার চাকরি  হারিয়েছে ভারতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশের দমন: লাঠি, কাঁদানে গ্যাসের পর ছোড়া হয় পেলেট গান ইয়েমেনে ফের যুদ্ধের শঙ্কা, সৌদি-সমর্থিত সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-মিসাইল হামলা রাশিয়ার ধনী নারী তাতিয়ানা কিমের সাম্রাজ্যে ইউক্রেনের হামলা, পুড়ছে বিলিয়ন ডলারের পণ্য ড্যামবাস্টারদের সেই ভয়ংকর পরিণতি: ৭৭ জন ফিরেছিলেন, শেষ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন মাত্র ৪৮ জন যুদ্ধের আলোকে: দখল করা জার্মান জেট বাংলাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৭ বছরে ১৫,৭১২ মৃত্যু, নিহতদের ৫৮ শতাংশই তরুণ বিশ্ববাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁর রেটিংয়ে কতটা ভরসা করবেন? মিশেলিন ও ‘৫০ বেস্ট’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জন ক্রিচ যুদ্ধজাহাজকে ছাপিয়ে আকাশের শক্তি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কীভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী সমুদ্রের রাজা হয়ে উঠল

যুদ্ধজাহাজকে ছাপিয়ে আকাশের শক্তি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কীভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী সমুদ্রের রাজা হয়ে উঠল

বিশ শতকের শুরুতে যুদ্ধজাহাজ ছিল একটি দেশের সামরিক শক্তি, জাতীয় মর্যাদা ও সামুদ্রিক আধিপত্যের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ড্রেডনট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন যুগের সূচনা করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্রযুদ্ধের হিসাব-নিকাশ আমূল বদলে যায়। বিশাল কামানবাহী যুদ্ধজাহাজের জায়গা দখল করে নেয় বিমানবাহী রণতরী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল রণতরী বহর সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

এই পরিবর্তন একদিনে ঘটেনি। নৌবিমান প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত বৈমানিক, জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা, যুদ্ধকৌশল, রাডার এবং আকাশযুদ্ধ পরিচালনার সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছিল নতুন এই নৌ-শক্তি।

নৌবিমান যুগের সূচনা

মার্কিন নৌবিমান ব্যবস্থার সূচনালগ্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯১০ সালের নভেম্বরে। ইউজিন এলি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস বার্মিংহামের ডেক থেকে বিমান উড্ডয়ন করে দেখান যে যুদ্ধজাহাজ থেকেই বিমান পরিচালনা করা সম্ভব।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন নৌবিমান ব্যবস্থায় এগিয়ে যায়। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভাল এয়ার সার্ভিস ১১টি বিমানবাহী জাহাজ নির্মাণ করে এবং প্রথম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিমানবাহী প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি তৈরি করে। কিন্তু ১৯১৮ সালে রয়্যাল এয়ার ফোর্স এবং বিমান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ নৌবিমান শাখা ধীরে ধীরে অবহেলার মুখে পড়ে।

এই সুযোগে দুই দেশ দ্রুত এগিয়ে যায়—যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান।

Aircraft Carriers In Action: World War II – Midway Currents Fall 2022

প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা

১৯২০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান একে অপরকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে শুরু করে। উভয় দেশই বুঝতে পারছিল, ভবিষ্যতের বড় নৌযুদ্ধ হলে তা হতে পারে বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে।

তখন দুই দেশেরই আলাদা স্বাধীন বিমানবাহিনী ছিল না। ফলে নৌবাহিনীকেই নিজেদের আকাশশক্তি তৈরি করতে হচ্ছিল।

প্রথম দিকে বিমানবাহী রণতরীর বিমানগুলোকে মূল নৌবহরের সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখা হতো। তাদের কাজ ছিল শত্রুর অবস্থান খুঁজে বের করা, নৌবহরের কামানের গোলাবর্ষণে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা এবং যুদ্ধজাহাজকে আকাশপথের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

অর্থাৎ বিমানবাহী রণতরী তখনও স্বাধীনভাবে যুদ্ধ পরিচালনার প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠেনি। বরং যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে থেকে তাদের সহায়তা করার কথা ছিল।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী এই ধারণার মধ্যে পুরোপুরি আটকে থাকেনি।

একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে বদলে গেল ধারণা

১৯২১ সালে মার্কিন বিমানশক্তির প্রবক্তা বিলি মিচেল পরীক্ষামূলকভাবে বন্দি জার্মান যুদ্ধজাহাজ অস্টফ্রিসল্যান্ড ডুবিয়ে দেন। ঘটনাটি সামরিক মহলে বড় ধরনের সতর্কবার্তা তৈরি করে।

এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আকাশ থেকে পরিচালিত বিমান বিশাল যুদ্ধজাহাজের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন নৌ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, সামরিক বিমান ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ যদি পুরোপুরি সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়, তাহলে নৌবাহিনী ভবিষ্যতের বিমানযুদ্ধে পিছিয়ে পড়বে। তাই তারা নৌবিমান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নেন।

কংগ্রেস, রাজনৈতিক সমর্থক এবং প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের সহযোগিতায় মার্কিন নৌবাহিনী ধীরে ধীরে আরও বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের অর্থ পেতে শুরু করে।

How the U.S. Navy Transformed a Battleship into an Aircraft Carrier - The  National Interest

দুই মহাসাগরের যুদ্ধের প্রস্তুতি

১৯৪০ সালের দুই-মহাসাগর নৌবাহিনী আইন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ শক্তি বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখে। এই আইনের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর আকার প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং ১১টি নতুন বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এটি ছিল কেবল শুরু।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিভিন্ন আকার ও ধরনের শতাধিক বিমানবাহী রণতরী ছিল। বিপরীতে সীমিত শিল্পক্ষমতা, কাঁচামাল ও জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর কারণে জাপানের হাতে ছিল মাত্র ১৮টি বিমানবাহী রণতরী।

এই পার্থক্য পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শুধু জাহাজ নয়, দরকার ছিল হাজারো প্রশিক্ষিত বৈমানিক

বিমানবাহী রণতরীর শক্তি শুধু তার বিশাল আকারের ওপর নির্ভর করে না। তার প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে কতগুলো বিমান সে বহন করতে পারে এবং সেই বিমানগুলো কত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা যায় তার ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র এ জায়গাতেও বড় সুবিধা তৈরি করে।

১৯৩৫ সালের নৌবিমান ক্যাডেট আইন প্রশিক্ষিত নৌবৈমানিক তৈরির সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিপুলসংখ্যক তরুণ নৌবিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিতে পারে। কয়েক হাজার প্রশিক্ষিত নৌবৈমানিক পরবর্তী সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতীকী ‘সোনালি ডানা’ অর্জন করেন।

জাপানের ব্যবস্থা ছিল ভিন্ন। সেখানে নৌবৈমানিকদের একটি অত্যন্ত অভিজাত বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক বৈমানিক প্রশিক্ষণ পেতেন।

যুদ্ধের শুরুতে এই উচ্চ প্রশিক্ষিত জাপানি বৈমানিকরা অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, ক্ষয়ক্ষতি তত বাড়তে থাকে। তাদের জায়গা পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত বৈমানিক জাপান তৈরি করতে পারেনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক পরিসরে নতুন বৈমানিক প্রশিক্ষণ দিতে থাকে।

শিল্পশক্তিই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য তৈরি করে

জাপানের দুর্বলতা শুধু বৈমানিকের সংখ্যায় ছিল না। বিমান উৎপাদনেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।

১৯৪১ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপান প্রতি মাসে মাত্র প্রায় ১৬২টি বিমান উৎপাদন করছিল, অথচ ১৯৪২ সালের এপ্রিলের মধ্যে ৭ হাজার বিমান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিমান, জাহাজ এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সক্ষমতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার।

এই শিল্পশক্তিই ধীরে ধীরে মার্কিন নৌবাহিনীকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যায়, যেখানে হারানো বিমান ও সরঞ্জামের জায়গা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব ছিল।

আকাশযুদ্ধে বদলে গেল ভারসাম্য

The Mitsubishi Zero Gave 'Made in Japan' New Respect - Warfare History  Network

যুদ্ধের শুরুতে জাপানের জিরো যুদ্ধবিমান ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। এটি ছিল দ্রুতগামী, অত্যন্ত চালনক্ষম এবং দক্ষ জাপানি বৈমানিকদের হাতে কার্যকর একটি অস্ত্র।

কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আরও উন্নত যুদ্ধবিমান নিয়ে আসে।

এফ৪এফ ওয়াইল্ডক্যাট এবং এসবিডি ডন্টলেসের পর মার্কিন নৌবাহিনী আরও শক্তিশালী এফ৬এফ হেলক্যাট ও এফ৪ইউ করসেয়ার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে শুরু করে।

এসব বিমানে উন্নত বর্ম, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুটো বন্ধ করতে সক্ষম জ্বালানি ট্যাংক এবং বেশি শক্তিশালী অস্ত্র ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন বৈমানিকদের প্রশিক্ষণের সময়ও ছিল অনেক বেশি।

ফলে ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তি, সুরক্ষা, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণের সম্মিলিত সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেয়।

রাডার: নীরব বিপ্লব

তবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক সময় উপেক্ষিত কারণগুলোর একটি ছিল রাডার এবং যুদ্ধ পরিচালনার সমন্বিত ব্যবস্থা।

১৯৪২ সাল থেকেই মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোতে রাডার ব্যবহার শুরু হয়। পরে আরও উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে শত্রু বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিজেদের বিমান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

এর ফলে আকাশে শত্রু বিমান দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর বদলে আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

ব্রিটেনের আকাশযুদ্ধে ব্যবহৃত সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতোই এই প্রযুক্তি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা মার্কিন নৌবাহিনীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়।

জাপানের কাছেও রাডার ছিল। কিন্তু তাদের বিমানবাহী রণতরী বহরে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কার্যকর যুদ্ধ তথ্যকেন্দ্র এবং সমন্বিত আকাশযুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থা ছিল না।

ফলে তাদের হাতে থাকা বিমান ও বৈমানিকদের সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

Battle of Leyte Gulf | Facts, Casualties, & Significance | Britannica

ফিলিপাইন সাগর ও লেইতে উপসাগর: শেষ বড় ধাক্কা

১৯৪৪ সালের মধ্যে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।

ফিলিপাইন সাগরের যুদ্ধ এবং লেইতে উপসাগরের যুদ্ধে জাপানের নৌবিমান শক্তি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে। বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত বৈমানিক হারিয়ে যায় এবং তাদের জায়গা পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও বিমান জাপানের হাতে ছিল না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর ক্রমেই আরও বড়, শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়ে ওঠে।

এই পর্যায়ে সমুদ্রযুদ্ধে ক্ষমতার কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বদলে যায়।

যুদ্ধজাহাজের যুগের অবসান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে বিমানবাহী রণতরী সমুদ্র থেকে দূরবর্তী এলাকায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

এর অর্থ এই নয় যে যুদ্ধজাহাজ সঙ্গে সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়। আরও কয়েক দশক বিভিন্ন নৌবহরে যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সামুদ্রিক শক্তির মূল প্রতীক হিসেবে তাদের জায়গা দখল করে নেয় বিমানবাহী রণতরী।

একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজ তার কামানের সীমার মধ্যে আঘাত হানতে পারে। কিন্তু বিমানবাহী রণতরী তার ডেক থেকে উড্ডয়ন করা বিমানের মাধ্যমে নিজের অবস্থান থেকে বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে।

এই দূরপাল্লার শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতাই বিমানবাহী রণতরীকে আধুনিক নৌ কৌশলের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

Eugene Ely and Navy Launched Plane From Ship for First Time in 1910 -  Business Insider

কেন আজও প্রশ্ন ওঠে—‘রণতরীগুলো কোথায়?’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধু বড় জাহাজ থাকা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিমান, প্রশিক্ষিত বৈমানিক, উন্নত প্রযুক্তি, রাডার, গোয়েন্দা তথ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশাল শিল্পভিত্তি—সবকিছুর সমন্বিত শক্তি।

যুক্তরাষ্ট্র এই সমন্বয় তৈরি করতে পেরেছিল বলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ নাগাদ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী বহর গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

আর সেই পরিবর্তনের উত্তরাধিকার আজও বহমান। কোনো বড় সামরিক সংকট দেখা দিলে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের সামনে যে প্রশ্নটি প্রায়ই উঠে আসে, তা হলো—বিমানবাহী রণতরীগুলো কোথায়?

কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সমুদ্রের শক্তির সংজ্ঞাই বদলে গেছে। একসময় যে বিশাল কামান যুদ্ধজাহাজ জাতীয় শক্তির প্রতীক ছিল, তার জায়গায় এখন দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান এক বিমানঘাঁটি—বিমানবাহী রণতরী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাই শুধু যুদ্ধের মানচিত্রই বদলায়নি; বদলে দিয়েছে সমুদ্রের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগের ধারণাটিও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উত্থান প্রমাণ করেছিল—সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ শুধু জাহাজের কামানের শক্তিতে নয়, আকাশ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে হঠাৎ ধাক্কা, জুলাইয়ে ২৩ হাজার চাকরি  হারিয়েছে

যুদ্ধজাহাজকে ছাপিয়ে আকাশের শক্তি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কীভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী সমুদ্রের রাজা হয়ে উঠল

১২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বিশ শতকের শুরুতে যুদ্ধজাহাজ ছিল একটি দেশের সামরিক শক্তি, জাতীয় মর্যাদা ও সামুদ্রিক আধিপত্যের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ড্রেডনট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন যুগের সূচনা করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্রযুদ্ধের হিসাব-নিকাশ আমূল বদলে যায়। বিশাল কামানবাহী যুদ্ধজাহাজের জায়গা দখল করে নেয় বিমানবাহী রণতরী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল রণতরী বহর সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

এই পরিবর্তন একদিনে ঘটেনি। নৌবিমান প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত বৈমানিক, জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা, যুদ্ধকৌশল, রাডার এবং আকাশযুদ্ধ পরিচালনার সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছিল নতুন এই নৌ-শক্তি।

নৌবিমান যুগের সূচনা

মার্কিন নৌবিমান ব্যবস্থার সূচনালগ্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯১০ সালের নভেম্বরে। ইউজিন এলি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস বার্মিংহামের ডেক থেকে বিমান উড্ডয়ন করে দেখান যে যুদ্ধজাহাজ থেকেই বিমান পরিচালনা করা সম্ভব।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন নৌবিমান ব্যবস্থায় এগিয়ে যায়। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভাল এয়ার সার্ভিস ১১টি বিমানবাহী জাহাজ নির্মাণ করে এবং প্রথম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিমানবাহী প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি তৈরি করে। কিন্তু ১৯১৮ সালে রয়্যাল এয়ার ফোর্স এবং বিমান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ নৌবিমান শাখা ধীরে ধীরে অবহেলার মুখে পড়ে।

এই সুযোগে দুই দেশ দ্রুত এগিয়ে যায়—যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান।

Aircraft Carriers In Action: World War II – Midway Currents Fall 2022

প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা

১৯২০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান একে অপরকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে শুরু করে। উভয় দেশই বুঝতে পারছিল, ভবিষ্যতের বড় নৌযুদ্ধ হলে তা হতে পারে বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে।

তখন দুই দেশেরই আলাদা স্বাধীন বিমানবাহিনী ছিল না। ফলে নৌবাহিনীকেই নিজেদের আকাশশক্তি তৈরি করতে হচ্ছিল।

প্রথম দিকে বিমানবাহী রণতরীর বিমানগুলোকে মূল নৌবহরের সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখা হতো। তাদের কাজ ছিল শত্রুর অবস্থান খুঁজে বের করা, নৌবহরের কামানের গোলাবর্ষণে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা এবং যুদ্ধজাহাজকে আকাশপথের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

অর্থাৎ বিমানবাহী রণতরী তখনও স্বাধীনভাবে যুদ্ধ পরিচালনার প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠেনি। বরং যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে থেকে তাদের সহায়তা করার কথা ছিল।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী এই ধারণার মধ্যে পুরোপুরি আটকে থাকেনি।

একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে বদলে গেল ধারণা

১৯২১ সালে মার্কিন বিমানশক্তির প্রবক্তা বিলি মিচেল পরীক্ষামূলকভাবে বন্দি জার্মান যুদ্ধজাহাজ অস্টফ্রিসল্যান্ড ডুবিয়ে দেন। ঘটনাটি সামরিক মহলে বড় ধরনের সতর্কবার্তা তৈরি করে।

এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আকাশ থেকে পরিচালিত বিমান বিশাল যুদ্ধজাহাজের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন নৌ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, সামরিক বিমান ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ যদি পুরোপুরি সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়, তাহলে নৌবাহিনী ভবিষ্যতের বিমানযুদ্ধে পিছিয়ে পড়বে। তাই তারা নৌবিমান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নেন।

কংগ্রেস, রাজনৈতিক সমর্থক এবং প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের সহযোগিতায় মার্কিন নৌবাহিনী ধীরে ধীরে আরও বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের অর্থ পেতে শুরু করে।

How the U.S. Navy Transformed a Battleship into an Aircraft Carrier - The  National Interest

দুই মহাসাগরের যুদ্ধের প্রস্তুতি

১৯৪০ সালের দুই-মহাসাগর নৌবাহিনী আইন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ শক্তি বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখে। এই আইনের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর আকার প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং ১১টি নতুন বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এটি ছিল কেবল শুরু।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিভিন্ন আকার ও ধরনের শতাধিক বিমানবাহী রণতরী ছিল। বিপরীতে সীমিত শিল্পক্ষমতা, কাঁচামাল ও জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর কারণে জাপানের হাতে ছিল মাত্র ১৮টি বিমানবাহী রণতরী।

এই পার্থক্য পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শুধু জাহাজ নয়, দরকার ছিল হাজারো প্রশিক্ষিত বৈমানিক

বিমানবাহী রণতরীর শক্তি শুধু তার বিশাল আকারের ওপর নির্ভর করে না। তার প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে কতগুলো বিমান সে বহন করতে পারে এবং সেই বিমানগুলো কত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা যায় তার ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র এ জায়গাতেও বড় সুবিধা তৈরি করে।

১৯৩৫ সালের নৌবিমান ক্যাডেট আইন প্রশিক্ষিত নৌবৈমানিক তৈরির সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিপুলসংখ্যক তরুণ নৌবিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিতে পারে। কয়েক হাজার প্রশিক্ষিত নৌবৈমানিক পরবর্তী সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতীকী ‘সোনালি ডানা’ অর্জন করেন।

জাপানের ব্যবস্থা ছিল ভিন্ন। সেখানে নৌবৈমানিকদের একটি অত্যন্ত অভিজাত বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক বৈমানিক প্রশিক্ষণ পেতেন।

যুদ্ধের শুরুতে এই উচ্চ প্রশিক্ষিত জাপানি বৈমানিকরা অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, ক্ষয়ক্ষতি তত বাড়তে থাকে। তাদের জায়গা পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত বৈমানিক জাপান তৈরি করতে পারেনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক পরিসরে নতুন বৈমানিক প্রশিক্ষণ দিতে থাকে।

শিল্পশক্তিই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য তৈরি করে

জাপানের দুর্বলতা শুধু বৈমানিকের সংখ্যায় ছিল না। বিমান উৎপাদনেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।

১৯৪১ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপান প্রতি মাসে মাত্র প্রায় ১৬২টি বিমান উৎপাদন করছিল, অথচ ১৯৪২ সালের এপ্রিলের মধ্যে ৭ হাজার বিমান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিমান, জাহাজ এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সক্ষমতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার।

এই শিল্পশক্তিই ধীরে ধীরে মার্কিন নৌবাহিনীকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যায়, যেখানে হারানো বিমান ও সরঞ্জামের জায়গা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব ছিল।

আকাশযুদ্ধে বদলে গেল ভারসাম্য

The Mitsubishi Zero Gave 'Made in Japan' New Respect - Warfare History  Network

যুদ্ধের শুরুতে জাপানের জিরো যুদ্ধবিমান ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। এটি ছিল দ্রুতগামী, অত্যন্ত চালনক্ষম এবং দক্ষ জাপানি বৈমানিকদের হাতে কার্যকর একটি অস্ত্র।

কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আরও উন্নত যুদ্ধবিমান নিয়ে আসে।

এফ৪এফ ওয়াইল্ডক্যাট এবং এসবিডি ডন্টলেসের পর মার্কিন নৌবাহিনী আরও শক্তিশালী এফ৬এফ হেলক্যাট ও এফ৪ইউ করসেয়ার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে শুরু করে।

এসব বিমানে উন্নত বর্ম, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুটো বন্ধ করতে সক্ষম জ্বালানি ট্যাংক এবং বেশি শক্তিশালী অস্ত্র ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন বৈমানিকদের প্রশিক্ষণের সময়ও ছিল অনেক বেশি।

ফলে ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তি, সুরক্ষা, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণের সম্মিলিত সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেয়।

রাডার: নীরব বিপ্লব

তবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক সময় উপেক্ষিত কারণগুলোর একটি ছিল রাডার এবং যুদ্ধ পরিচালনার সমন্বিত ব্যবস্থা।

১৯৪২ সাল থেকেই মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোতে রাডার ব্যবহার শুরু হয়। পরে আরও উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে শত্রু বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিজেদের বিমান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

এর ফলে আকাশে শত্রু বিমান দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর বদলে আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

ব্রিটেনের আকাশযুদ্ধে ব্যবহৃত সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতোই এই প্রযুক্তি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা মার্কিন নৌবাহিনীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়।

জাপানের কাছেও রাডার ছিল। কিন্তু তাদের বিমানবাহী রণতরী বহরে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কার্যকর যুদ্ধ তথ্যকেন্দ্র এবং সমন্বিত আকাশযুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থা ছিল না।

ফলে তাদের হাতে থাকা বিমান ও বৈমানিকদের সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

Battle of Leyte Gulf | Facts, Casualties, & Significance | Britannica

ফিলিপাইন সাগর ও লেইতে উপসাগর: শেষ বড় ধাক্কা

১৯৪৪ সালের মধ্যে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।

ফিলিপাইন সাগরের যুদ্ধ এবং লেইতে উপসাগরের যুদ্ধে জাপানের নৌবিমান শক্তি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে। বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত বৈমানিক হারিয়ে যায় এবং তাদের জায়গা পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও বিমান জাপানের হাতে ছিল না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর ক্রমেই আরও বড়, শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়ে ওঠে।

এই পর্যায়ে সমুদ্রযুদ্ধে ক্ষমতার কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বদলে যায়।

যুদ্ধজাহাজের যুগের অবসান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে বিমানবাহী রণতরী সমুদ্র থেকে দূরবর্তী এলাকায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

এর অর্থ এই নয় যে যুদ্ধজাহাজ সঙ্গে সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়। আরও কয়েক দশক বিভিন্ন নৌবহরে যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সামুদ্রিক শক্তির মূল প্রতীক হিসেবে তাদের জায়গা দখল করে নেয় বিমানবাহী রণতরী।

একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজ তার কামানের সীমার মধ্যে আঘাত হানতে পারে। কিন্তু বিমানবাহী রণতরী তার ডেক থেকে উড্ডয়ন করা বিমানের মাধ্যমে নিজের অবস্থান থেকে বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে।

এই দূরপাল্লার শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতাই বিমানবাহী রণতরীকে আধুনিক নৌ কৌশলের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

Eugene Ely and Navy Launched Plane From Ship for First Time in 1910 -  Business Insider

কেন আজও প্রশ্ন ওঠে—‘রণতরীগুলো কোথায়?’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধু বড় জাহাজ থাকা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিমান, প্রশিক্ষিত বৈমানিক, উন্নত প্রযুক্তি, রাডার, গোয়েন্দা তথ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশাল শিল্পভিত্তি—সবকিছুর সমন্বিত শক্তি।

যুক্তরাষ্ট্র এই সমন্বয় তৈরি করতে পেরেছিল বলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ নাগাদ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী বহর গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

আর সেই পরিবর্তনের উত্তরাধিকার আজও বহমান। কোনো বড় সামরিক সংকট দেখা দিলে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের সামনে যে প্রশ্নটি প্রায়ই উঠে আসে, তা হলো—বিমানবাহী রণতরীগুলো কোথায়?

কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সমুদ্রের শক্তির সংজ্ঞাই বদলে গেছে। একসময় যে বিশাল কামান যুদ্ধজাহাজ জাতীয় শক্তির প্রতীক ছিল, তার জায়গায় এখন দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান এক বিমানঘাঁটি—বিমানবাহী রণতরী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাই শুধু যুদ্ধের মানচিত্রই বদলায়নি; বদলে দিয়েছে সমুদ্রের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগের ধারণাটিও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উত্থান প্রমাণ করেছিল—সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ শুধু জাহাজের কামানের শক্তিতে নয়, আকাশ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করে।