০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, চূড়ায় ওঠার আগেই ভাঙল রেকর্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা ১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ

টয়োটার কারখানায় চার লাখ রোবটের পরিকল্পনা, শ্রমিকেরাই শেখাচ্ছেন কাজ

জাপানি গাড়ি নির্মাতা টয়োটার শ্রমিকেরা এখন মানবাকৃতির রোবটকে কাজ শেখাচ্ছেন। কোম্পানিটির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে কারখানাগুলোতে চার লাখ রোবট বসানো। মার্কিন প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা নিক্কেই এশিয়ার বরাতে এ খবর দিয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে টয়োটা গ্রুপ প্রতি বছর ৬৪২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। সেই অর্থে কারখানাগুলোকে নতুন রোবট শ্রমশক্তি দিয়ে সাজানো হবে। নিজস্ব গাড়ি কারখানায় বসবে দেড় লাখ রোবট। আরও আড়াই লাখ বসবে গ্রুপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উপকরণ কারখানায়। তবে টয়োটার এক নির্বাহী বলছেন, এই রোবট মানুষকে সরাসরি প্রতিস্থাপনের জন্য নয়। টয়োটার রোবট পরিকল্পনা তাই শুরু থেকেই চাকরি নিয়ে প্রশ্নের মুখে।

টয়োটা ইতিমধ্যে কিছু অ্যাসেম্বলি লাইনে তাদের ইলাই নামের মানবাকৃতির রোবট বসিয়েছে। চাকার ওপর চলা এই রোবট মানুষের কাছ থেকে কাজ শিখছে। নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, শ্রমিকেরা রোবটের আঙুলের আদলে তৈরি বিশেষ উপকরণ হাতে পরে কাজ করছেন। এভাবে রোবট সূক্ষ্ম হাতের কাজ শিখছে। টয়োটার কার্যনির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোকি নাকাজিমা বলেছেন, কোম্পানি এমন একটি পৃথিবী চায় যেখানে রোবট মানুষের পাশাপাশি কাজ করবে, তাদের জায়গা নেবে না। বিশ্বজুড়ে ৬০টি কারখানায় টয়োটার ১৮ হাজার অভিজ্ঞ শ্রমিক আছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছে ১১টি কারখানা। কতগুলো রোবট ইতিমধ্যে বসানো হয়েছে বা নতুনগুলোর কতটি মানবাকৃতির হবে, তা স্পষ্ট নয়।

Toyota Wants 400K Robots In Its Factories — Says Human Jobs Are Safe

গাড়িশিল্প কয়েক দশক ধরে শিল্প রোবটের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী। সাধারণত এগুলো হয় কর্মস্থানে বসানো যান্ত্রিক বাহু বা যন্ত্রাংশ বহনকারী চলমান রোবট। আন্তর্জাতিক রোবোটিকস ফেডারেশনের হিসাবে ২০২৪ সালে চীন একাই ২০ লাখ শিল্প রোবট বসিয়েছে। দ্বিতীয় জাপান, ৪ লাখ ৫০ হাজার ৫০০টি। যুক্তরাষ্ট্র ৩৪ হাজার ২০০ এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৩০ হাজার ৬০০টি রোবট বসিয়েছে। মানবাকৃতির রোবট এই প্রবণতার নতুন ধাপ। এগুলো মানুষের জন্য তৈরি কর্মস্থলে মানুষের মতো কাজ করতে পারে। টয়োটার রোবট পরিকল্পনা দেখাচ্ছে, বড় কোম্পানিগুলো এখন আর পরীক্ষা নয়, ব্যাপক প্রয়োগের কথা ভাবছে। জাপানের দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যা ও শ্রমিক সংকটের প্রেক্ষাপটেও এই পরিকল্পনা তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটিতে তরুণ শ্রমিকের সংখ্যা বছর বছর কমছে।

বাংলাদেশের জন্য খবরটি ভবিষ্যতের সতর্কসংকেত। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে শ্রমঘন পোশাকশিল্প থেকে। সস্তা শ্রমই এতদিন বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগিতা-সুবিধা। কিন্তু সূক্ষ্ম হাতের কাজ শেখা রোবট যদি সস্তা হয়, তবে সেই সুবিধা ক্ষয়ে যেতে পারে। সেলাইয়ের মতো কাজ রোবটের জন্য এখনো কঠিন। তবে টয়োটার রোবট পরিকল্পনা দেখাচ্ছে, প্রযুক্তি দ্রুত সেদিকে এগোচ্ছে। শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো ও শিল্পের বৈচিত্র্য আনার কাজ তাই এখন থেকেই শুরু করা জরুরি। জাপানে সরাসরি যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের কথাও ভাবতে হবে। উৎপাদন খাতে সেখানে দক্ষ কর্মী পাঠানোর যে সুযোগ তৈরি হচ্ছিল, রোবট সেই চাহিদাও বদলে দিতে পারে।

টয়োটার শ্রমিকেরা যে দক্ষতা কয়েক দশকে অর্জন করেছেন, তা এখন আঙুলের আদলের উপকরণ পরে রোবটকে শেখাচ্ছেন। কোম্পানি বলছে তাঁদের চাকরি যাবে না, কিন্তু প্রতিটি পাঠের সঙ্গে ছাত্র আরও দক্ষ হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ

টয়োটার কারখানায় চার লাখ রোবটের পরিকল্পনা, শ্রমিকেরাই শেখাচ্ছেন কাজ

০৭:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানি গাড়ি নির্মাতা টয়োটার শ্রমিকেরা এখন মানবাকৃতির রোবটকে কাজ শেখাচ্ছেন। কোম্পানিটির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে কারখানাগুলোতে চার লাখ রোবট বসানো। মার্কিন প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা নিক্কেই এশিয়ার বরাতে এ খবর দিয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে টয়োটা গ্রুপ প্রতি বছর ৬৪২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। সেই অর্থে কারখানাগুলোকে নতুন রোবট শ্রমশক্তি দিয়ে সাজানো হবে। নিজস্ব গাড়ি কারখানায় বসবে দেড় লাখ রোবট। আরও আড়াই লাখ বসবে গ্রুপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উপকরণ কারখানায়। তবে টয়োটার এক নির্বাহী বলছেন, এই রোবট মানুষকে সরাসরি প্রতিস্থাপনের জন্য নয়। টয়োটার রোবট পরিকল্পনা তাই শুরু থেকেই চাকরি নিয়ে প্রশ্নের মুখে।

টয়োটা ইতিমধ্যে কিছু অ্যাসেম্বলি লাইনে তাদের ইলাই নামের মানবাকৃতির রোবট বসিয়েছে। চাকার ওপর চলা এই রোবট মানুষের কাছ থেকে কাজ শিখছে। নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, শ্রমিকেরা রোবটের আঙুলের আদলে তৈরি বিশেষ উপকরণ হাতে পরে কাজ করছেন। এভাবে রোবট সূক্ষ্ম হাতের কাজ শিখছে। টয়োটার কার্যনির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোকি নাকাজিমা বলেছেন, কোম্পানি এমন একটি পৃথিবী চায় যেখানে রোবট মানুষের পাশাপাশি কাজ করবে, তাদের জায়গা নেবে না। বিশ্বজুড়ে ৬০টি কারখানায় টয়োটার ১৮ হাজার অভিজ্ঞ শ্রমিক আছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছে ১১টি কারখানা। কতগুলো রোবট ইতিমধ্যে বসানো হয়েছে বা নতুনগুলোর কতটি মানবাকৃতির হবে, তা স্পষ্ট নয়।

Toyota Wants 400K Robots In Its Factories — Says Human Jobs Are Safe

গাড়িশিল্প কয়েক দশক ধরে শিল্প রোবটের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী। সাধারণত এগুলো হয় কর্মস্থানে বসানো যান্ত্রিক বাহু বা যন্ত্রাংশ বহনকারী চলমান রোবট। আন্তর্জাতিক রোবোটিকস ফেডারেশনের হিসাবে ২০২৪ সালে চীন একাই ২০ লাখ শিল্প রোবট বসিয়েছে। দ্বিতীয় জাপান, ৪ লাখ ৫০ হাজার ৫০০টি। যুক্তরাষ্ট্র ৩৪ হাজার ২০০ এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৩০ হাজার ৬০০টি রোবট বসিয়েছে। মানবাকৃতির রোবট এই প্রবণতার নতুন ধাপ। এগুলো মানুষের জন্য তৈরি কর্মস্থলে মানুষের মতো কাজ করতে পারে। টয়োটার রোবট পরিকল্পনা দেখাচ্ছে, বড় কোম্পানিগুলো এখন আর পরীক্ষা নয়, ব্যাপক প্রয়োগের কথা ভাবছে। জাপানের দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যা ও শ্রমিক সংকটের প্রেক্ষাপটেও এই পরিকল্পনা তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটিতে তরুণ শ্রমিকের সংখ্যা বছর বছর কমছে।

বাংলাদেশের জন্য খবরটি ভবিষ্যতের সতর্কসংকেত। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে শ্রমঘন পোশাকশিল্প থেকে। সস্তা শ্রমই এতদিন বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগিতা-সুবিধা। কিন্তু সূক্ষ্ম হাতের কাজ শেখা রোবট যদি সস্তা হয়, তবে সেই সুবিধা ক্ষয়ে যেতে পারে। সেলাইয়ের মতো কাজ রোবটের জন্য এখনো কঠিন। তবে টয়োটার রোবট পরিকল্পনা দেখাচ্ছে, প্রযুক্তি দ্রুত সেদিকে এগোচ্ছে। শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো ও শিল্পের বৈচিত্র্য আনার কাজ তাই এখন থেকেই শুরু করা জরুরি। জাপানে সরাসরি যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের কথাও ভাবতে হবে। উৎপাদন খাতে সেখানে দক্ষ কর্মী পাঠানোর যে সুযোগ তৈরি হচ্ছিল, রোবট সেই চাহিদাও বদলে দিতে পারে।

টয়োটার শ্রমিকেরা যে দক্ষতা কয়েক দশকে অর্জন করেছেন, তা এখন আঙুলের আদলের উপকরণ পরে রোবটকে শেখাচ্ছেন। কোম্পানি বলছে তাঁদের চাকরি যাবে না, কিন্তু প্রতিটি পাঠের সঙ্গে ছাত্র আরও দক্ষ হচ্ছে।