ঢাকা, ২২ জুন (রয়টার্স) — সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার সোমবার ঢাকা ও আরও পাঁচটি জেলায় ৩০ জুন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ১৫ জুন সারা দেশে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রায় দুই বছর ধরে চলা সেই মোতায়েনের অবসান ঘটে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ বা বিক্ষোভের চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। এর আগে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনও কার্যকর রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “তারা বিভিন্ন জেলায় মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করা।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শেখ হাসিনা প্রতিবেশী ভারত চলে যান এবং এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশের একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগে তাকে অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে শেখ হাসিনা এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দলটির অনেক শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন অথবা দেশ ছেড়েছেন। নতুন সরকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন: রুমা পাল
সম্পাদনা: শ্যারন সিঙ্গেলটন
রয়টার্সের প্রতিবেদন 


















