ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সমাপ্তির সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলাবাগান থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির শেষ পর্যায়েই উত্তেজনা তৈরি হয়।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির। আহত হন দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেনও। সাংবাদিকদের অভিযোগ, অন্তত ১০ জন গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্নভাবে হেনস্তার মুখে পড়েছেন।
কীভাবে ঘটল ঘটনা

মাহফুজুর রহমান শিশিরের অভিযোগ, সমাবেশে একাধিক নেতা বক্তব্য দেওয়ায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কয়েকজন বক্তার বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় এক বক্তা সবাইকে বক্তব্য নিতে হবে, অন্যথায় চলে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
শিশির জানান, তিনি এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করলে তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন তাকে ঘিরে মারধর শুরু করে। তার দাবি, তাকে রাস্তায় ফেলে কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়।
পরে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। তার নাক ও ঠোঁটে আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে এবং চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও সাংবাদিক আক্রান্তের অভিযোগ
দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন বলেন, শিশিরকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনিসহ আরও কয়েকজন হামলার শিকার হন। তার অভিযোগ, দুই দফায় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা। একপর্যায়ে শিশিরকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
আনন্দবাজারের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জোবায়ের হোসেনও অভিযোগ করেন, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি অত্যন্ত আগ্রাসী আচরণ করেন এবং শিশিরকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশের অবস্থান
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
কর্মসূচির ভিডিওচিত্রে স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান খান ঘটনাটিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগত কেউ প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ধানমন্ডিতে এই ঘটনার পর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















