জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরও দুজন শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে একজন কর্মকর্তাকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ব্যবস্থা
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’-এর অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া এবং নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে।
উপ-উপাচার্য জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
একই অভিযোগের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা শিশিরকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রশাসন।
তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধেও সিদ্ধান্ত
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকেও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসা এই শিক্ষককে ঘিরে এর আগে ক্যাম্পাসে নানা সমালোচনা দেখা দিয়েছিল।

ডাকসু জিএস পদ বাতিলের প্রস্তাব
সিন্ডিকেট সভায় ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত গোলাম রব্বানীর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তার ছাত্রত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকায় জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল সুপারিশ করেছিল যে, এমফিল প্রোগ্রামে তার ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি। সেই কারণে ভর্তি বাতিলের পাশাপাশি ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদকেও অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তগুলো ক্যাম্পাস প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং অতীতের বিতর্কিত ঘটনাগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















